Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

জয়রামপুরের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: ক্ষত কাটেনি আজও

জয়রামপুরের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: ক্ষত কাটেনি আজও
জয়রামপুরের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: ক্ষত কাটেনি আজও। ছবি: বার্তা২৪.কম
অনিক চক্রবর্তী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
চুয়াডাঙ্গা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুরে গত দুই বছর আগে আজকের দিনে (২৬ মার্চ) এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় একই গ্রামের ১৩ জন শ্রমিক। গুরুতর আহত হয় আরও ১২ জন। তবে এ ঘটনার দুই বছর পার হলেও স্বজন হারানোর ক্ষত আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি নিহতদের পরিবারগুলো। আর আহত অধিকাংশ শ্রমিক অক্ষমতার কারণে এখন ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছে।

এ ঘটনায় ওইদিনই পুলিশ বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এতে আসামি করা হয় ঘাতক ট্রাকের চালক ও সহকারীকে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/26/1553596925496.jpg

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ তখনো ভোর হতে অনেকটা সময় বাকি। গ্রামের ২৫ জন দিনমজুর প্রতিদিনের মতো সেদিনও বের হয়েছিল নিজেদের কাজের সন্ধানে। খেটে খাওয়া এসব নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর উদ্দেশ্য ছিল কাজে যোগ দিয়ে অর্থ উপার্জন করে দু’মুঠো অন্নের ব্যবস্থা করার। স্বপ্ন ছিল নিজের পরিবারের সঙ্গে খেয়ে-পরে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা ভেঙে ফেলে ১৩টি পরিবারের স্বপ্ন।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকায় ট্রাক ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় বড়বলদিয়া গ্রামের ১৩ জন নির্মাণ শ্রমিক।

এদিকে দুই বছর পার হলেও সেদিনের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিউরে ওঠেন আহতদের অনেকে। আহতদের অধিকাংশ এখনো হয়ে ওঠেনি পুরোপুরি সুস্থ। পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে ঘরে বসেই দিন কাটছে তাদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/26/1553596944625.jpg

সেদিনের দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বড়বলদিয়ার আলতাব মিয়া জানান, আজও তার চোখে ভেসে ওঠে সেই দৃশ্য। চারিদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। আলতাব মিয়ার পুরো শরীরে আজও সেই দুর্ঘটনার চিহ্ন দেখা যায়।

একই গ্রামের দিনমজুর গাজী মিয়া সেদিনের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও মারা যায় তার প্রিয় সন্তান শান্ত। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনেন এবং রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এরপর আর কিছুই তার মনে নেই। ১৯ দিন পর বাড়ি ফিরে শোনেন তার ছেলে ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/26/1553596975828.jpg

এদিকে দুর্ঘটনার পর নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর্থিক অনুদান দিলেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যরা যেন সুন্দর স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সাহায্যের দাবি করেছে এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১০

সিরাজগঞ্জে বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১০
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা লাগার ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫ জন।

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ শহরের কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজন (২৫), উল্লাপাড়া পৌর শহরের এনায়েতপুর গুচ্ছ গ্রামের আব্দুল গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১৯), সয়াধানগড়ার সুরুজ শেখের ছেলে সবুজ (২১), রামগাতী গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫৫) ও তার ছেলে শাকিল হোসেন (২১), সয়াগোবিন্দ মিলন মোড় এলাকার মৃত একরামুলের ছেলে মাইক্রোবাসের চালক স্বাধীন (৪০) ও দিয়ারধানগড়া আলতাফ হোসেনের ছেলে শরীফ (২৬), কালিয়া হরিপুর চুনিয়াহাটির মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভাষা শেখ (৫৫) । বাকি ২ জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563214174332.jpg

আহতরা হলেন- নাদেম তালুকদার (১৮), বায়েজিদ (১৮), নীরব তালুকদার (১৪), সুমন (২৭), নাজমুল আহসান (২৫) ও ইমরান (২০)।

আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে।

উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল হামিদ জানান, বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস উল্লাপাড়া থেকে বেতকান্দি যাবার পথে সলপ এলাকায় রেলক্রসিং পার হবার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রায় ২০০ গজ দূরে গিয়ে ট্রেনটি থামার পর মাইক্রোবাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563214198607.jpg

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার ‍দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপে একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় পদ্মা এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন। এতে মাইক্রোবাসের ১০ জন নিহত হওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। উদ্ধার কাজ চলছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ১৭ বছর পর আত্মসমর্পণ

সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ১৭ বছর পর আত্মসমর্পণ
ছবি: সংগৃহীত

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল আলম লাভলু ফেনীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। ২০০০ সালে তিনি তৎকালীন ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে তিনি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু হান্নানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তাকে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফেনীতে একজনকে খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০২ সালের ৩০ জুন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মাইদুল আলম লাভলুর যাবজ্জীবন সাজা হয়। তখন তিনি পলাতক ছিলেন।

এছাড়া তিনি সোমবার আরও একটি দণ্ডপ্রাপ্ত মামলায় ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মাসুদকে অপহরণ করে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় তার বাবা আবদুল খালেক ভূঁঞা ফেনী থানায় মামলা করেন।

২০০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ওই মামলায় রায় প্রদান করা হয়। এতে আসামি মাইদুল আলম লাভলুকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

সোমবার তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ (১ম আদালত) ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়।

পৃথক মামলায় যাবজ্জীবন এবং পাঁচ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ ও কারাগারে প্রেরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু।

উল্লেখ্য, মাইদুল আলম লাভলু ২০০০ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে কানাডায় পাড়ি দেন। ১৯ বছর প্রবাসে কাটিয়ে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র