আত্মপ্রত্যয়ী এক সফল নারী

আজিজুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বেনাপোল (যশোর), বার্তা২৪.কম
সবার মাঝে শিউলি রানী, ছবি: সংগৃহীত

সবার মাঝে শিউলি রানী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease
জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক নারী। একদিন যার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল নেশাগ্রস্থ স্বামীর নির্মম নিষ্ঠুরতায়। একমাত্র সন্তান ও তাকে ফেলে স্বামী চলে যান। কিন্তু হারার আগে হেরে যাননি তিনি। তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতিকরন প্রকল্প (ইউজিআইআইপি-৩) এর সাহায্যে বেনাপোল পৌরসভা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যোদ্ধা হিসাবে গড়ে তোলেন নিজেকে।
 
আজ তিনি দরিদ্র ও অসহায়ত্বকে জয় করেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আত্মপ্রত্যয়ী এক সফল নারী হিসেবে। তার এ সফলতার অভিযাত্রায় এলজিইপির অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন।
 
কথাগুলো বলছিলাম যশোর জেলার বেনাপোল পৌরসভার বাসিন্দা শিউলি রানীকে নিয়ে। এ সপ্তাহের ২৪ মার্চ তাকে ঢাকায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সন্মাননা ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও শাড়ি ওড়না সহ নগদ টাকা প্রদান করেছেন।
 
কথা বলে জানা যায়, শিউলি রানী বেনাপোল পৌরসভায় আর দশজন নারীর মতই বর্ণিল জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। দু’বছরের মাথায় কোল জুড়ে আসে একটি শিশু পুত্র। কিন্তু শিউলি রানীর সুখ বেশিদিন থাকল না। প্রতিদিন নেশাগ্রস্থ স্বামী দিলীপ কুমার অত্যাচার সহ্য করতে হতো। একদিন স্বামী তাকে ছেড়ে দেয়।
 
অসহায় শিউলি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য পথ খুঁজতে থাকেন। সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। এ বিষয় দক্ষতা না থাকায় তিনি সফল হলেন না। তবে দমে যাননি শিউলি রানী দে। এমনই এক সময় তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতি করন প্রকল্প ( ইউজিআইআইপি-৩) আয়োজিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জানতে পারেন বেনাপোল পৌরসভা দুস্থ, অসহায়, অবহেলিত নারীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। তিনি আশার আলো দেখতে পান।
 
শিউলি রানী এই প্রকল্পভুক্ত বেনাপোল পৌরসভার জেন্ডার এ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নের আওতায় তিন মাসের একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় বেনাপোল পৌরসভা তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেন। একই সময়ে তিনি পৌরসভা থেকে হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতে কাজ শুরু করেন। চলতে থাকে সেলাই ও হস্তশিল্পের ব্যবসা।
 
অল্পদিনের ব্যবধানে শিউলী স্থানীয় তার হাতে তৈরি পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। সেই থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তার ব্যবসার প্রসার বাড়তে থাকে। সাফল্য এসে ধরা দেয় তার হাতের মুঠোয়। বর্তমানে তিনি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন।
 
হস্তশিল্প সেলাইয়ের ওপর পিছিয়ে পড়া নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। বর্তমানে তার পুত্র উচ্চ মাধ্যমিকে লেখা পড়া করছেন।
 
ইউজি আইআইপি-৩ প্রকল্পের সহায়তায় আজ সফল শিউলী রানী আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন। তার সাথের নারীরাও স্বাবলম্বী হচ্ছেন। একই সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন আত্মমর্যাদায়।
 
বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বার্তা২৪কে বলেন, ‘বেনাপোল পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর চিন্তা করলাম আমার পৌর এলাকার অসহায় দরিদ্র পিছিয়ে গড়া মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। সেই থেকে বেনাপোল পৌরসভায় একটি আইটি কর্নার ও বেকার অসহায় নারীদের জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলি। এখান থেকে তারা বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্তত তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে ও পরিবার পরিজনের পাশে দাঁড়াতে পারে তার জন্য আমি এগিয়ে আসি। আজ এ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছে। এখান থেকে প্রতিবন্ধী আর এক নারী বুলিনা খাতুন দেশের শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী হিসাবে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।’

আপনার মতামত লিখুন :