Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

তরল দুধে সচ্ছল চরাঞ্চলের পরিবারগুলো

তরল দুধে সচ্ছল চরাঞ্চলের পরিবারগুলো
তরল দুধে সচ্ছল চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রজব আলী। একজন তরল দুধ বিক্রেতা। প্রতিদিন বিকেল হলে দুধের বালতি নিয়ে হাটে আসেন। সন্ধ্যার আগেই বিক্রি শেষ করে ফিরে যান বাড়ি। প্রতিদিন ১০-১৫ লিটার দুধ বিক্রি করে তার আয় হচ্ছে পাঁচশ টাকার মতো।

রজব আলীর মতো অনেকেই বালতি ও বোতলে করে দুধ নিয়ে আসে। তাদের অনেকেই এখন দুধ বিক্রির বাড়তি আয়ে সচ্ছল।

রোববার (৩১ মার্চ) বিকেলে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন হাটে তরল দুধ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

চরাঞ্চল বেষ্টিত পীরগাছায় তরল দুধের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কয়েকশ দরিদ্র পরিবার। গাভী ও মহিষ পালনের পাশাপাশি তরল দুধের ব্যবসায় বাড়তি আয়ের পথ খুলেছে তাদের। এই উপজেলার অনেকেই তরল দুধের ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে। ভাগ্যের পরিবর্তনও ঘটেছে অনেকের।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া রজব আলী বলেন, ‘মোর বয়স ৭০ হইছে বাহে। তারপরও মোক পরিবারের বোঝা সামাল দেওয়া লাগে। বাড়ির দুইট্যা গরুর দুধ বিক্রি করি সংসার ভালোয় চলে। প্রতিদিন ১০-১৫ লিটার দুধ বিক্রি করে ৫০০ টাকার মতো আয় হয়। ওই টাকা দিয়ে সংসারও চলে। নাতি-নাতনির টুকটাক খরচও হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/31/1554027717511.jpg

রফিক নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, গ্রামের অনেকেই এখন তরল দুধ বিক্রি করে সচ্ছল হয়েছে। কেউ কেউ হাটের বাইরে গিয়েও উৎপাদিত দুধ বাজারজাত করছে। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির ডিপোতে বিক্রি করা হয়।

চর তাম্বুলপুরের মোজাহার আলী। এক যুগের বেশি সময় ধরে দুধের ব্যবসা করছেন। দুধ বিক্রি করে তার প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচশ টাকা আয় হয়। তিনি বলেন, ‘একটা সময় চার ছেলে ও দুই মেয়েসহ সাত সদস্যের সংসারে অভাব অনটন ছিল। কৃষি কাজের আয় দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে কষ্ট হতো। পরে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটা গরু কিনি। পাশাপাশি কৃষি কাজও করতাম। এখন দুইটা গরুর দুধ থেকে প্রতিদিন বাড়তি আয় হচ্ছে। এই আয়ে সংসারের অভাব দূর হয়েছে।’

মূলত চরাঞ্চলের গাভী ও মহিষের দুধ অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরা। তাই তরল দুধ বিক্রি করতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে তাদের এই ব্যবসা আরও প্রসারিত হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে অনেক দরিদ্র পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র