Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে শেরে বাংলার জন্মভিটা

অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে শেরে বাংলার জন্মভিটা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
ঝালকাঠি
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তার পুরো নাম শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। তিনি বাংলার বাঘ নামে পরিচিত।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া মিয়াবাড়ির মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং মায়ের নাম সাইদুন্নেসা খাতুন।

জানা গেছে, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ঝালকাঠির রাজাপুরের জন্মভিটা ও তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। বাড়িটি ‘সাতুরিয়া মিয়াবাড়ি’ নামে পরিচিত। এখানে শেরে বাংলার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে।

অথচ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ২০১০ সালে তার জন্মগৃহটিকে পুরাতত্ত্ব হিসেবে গেজেট ভুক্ত করার একটি নোটিশ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। আজ পর্যন্ত এটি সংরক্ষণে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

এদিকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এক সময়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের কর্ণধার, কলকাতা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও তিনি একাধিকবার সাতুরিয়ায় এসেছিলেন। তার ছেলে মরহুম একে ফাইজুল হকও বাংলাদেশের মন্ত্রী ছিলেন। অথচ শেরে বাংলার জন্মভিটা এবং সাতুরিয়ায় ১৯৪১ সালে তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি।

স্কুলটিতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। জন্মভবনটিও হয়ে পরেছে জরাজীর্ণ। এখানে একটি যাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হলেও এ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। শেরে বাংলার জন্মভবনটিকে ২০১০ সালের ২৮ মার্চ পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। তবে এখানে একটি ভিত্তিফলক স্থাপন করেই তারা দায়িত্ব শেষ করেছে। দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

শেরে বাংলার প্রতিষ্ঠিত সাতুরিয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয় সংস্কার এবং তার জন্মভবন সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক আকন।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, শিগগিরই এখানে একটি যাদুঘর স্থাপনের কাজ শুরু করবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

এদিকে যে নেতার জন্য বাংলার কৃষকরা জমিদারদের শোষণ নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল, তার জন্ম কিংবা মৃত্যু দিবস পালনেও বিভিন্ন মহলের রয়েছে অনীহা। জরুরিভাবে তার জন্মস্থান সংরক্ষণ এবং স্কুলটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র