Alexa

অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে শেরে বাংলার জন্মভিটা

অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে শেরে বাংলার জন্মভিটা

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। ছবি: সংগৃহীত

অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তার পুরো নাম শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। তিনি বাংলার বাঘ নামে পরিচিত।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া মিয়াবাড়ির মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং মায়ের নাম সাইদুন্নেসা খাতুন।

জানা গেছে, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ঝালকাঠির রাজাপুরের জন্মভিটা ও তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। বাড়িটি ‘সাতুরিয়া মিয়াবাড়ি’ নামে পরিচিত। এখানে শেরে বাংলার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে।

অথচ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ২০১০ সালে তার জন্মগৃহটিকে পুরাতত্ত্ব হিসেবে গেজেট ভুক্ত করার একটি নোটিশ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। আজ পর্যন্ত এটি সংরক্ষণে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

এদিকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এক সময়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের কর্ণধার, কলকাতা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও তিনি একাধিকবার সাতুরিয়ায় এসেছিলেন। তার ছেলে মরহুম একে ফাইজুল হকও বাংলাদেশের মন্ত্রী ছিলেন। অথচ শেরে বাংলার জন্মভিটা এবং সাতুরিয়ায় ১৯৪১ সালে তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি।

স্কুলটিতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। জন্মভবনটিও হয়ে পরেছে জরাজীর্ণ। এখানে একটি যাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হলেও এ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। শেরে বাংলার জন্মভবনটিকে ২০১০ সালের ২৮ মার্চ পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। তবে এখানে একটি ভিত্তিফলক স্থাপন করেই তারা দায়িত্ব শেষ করেছে। দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

শেরে বাংলার প্রতিষ্ঠিত সাতুরিয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয় সংস্কার এবং তার জন্মভবন সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক আকন।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, শিগগিরই এখানে একটি যাদুঘর স্থাপনের কাজ শুরু করবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

এদিকে যে নেতার জন্য বাংলার কৃষকরা জমিদারদের শোষণ নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল, তার জন্ম কিংবা মৃত্যু দিবস পালনেও বিভিন্ন মহলের রয়েছে অনীহা। জরুরিভাবে তার জন্মস্থান সংরক্ষণ এবং স্কুলটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন :