Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আদালতপাড়া যেন চিড়িয়াখানা!

আদালতপাড়া যেন চিড়িয়াখানা!
প্রকাশ্যেই চলছে পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য, ছবি: বার্তা২৪
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কক্সবাজার
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের চাঁদাবাজি নতুন কোনো ঘটনা নয়। যারা কোর্ট সেলে আসামি দেখতে গিয়েছেন তারা নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। আর যারা আসামি দেখতে যাননি তারাও জানেন আসামির স্বজন থেকে কোর্ট পুলিশ কিভাবে টাকা আদায় করেন। দিনের মতো পরিষ্কার কোর্ট সেলে আসামি দেখতে গেলে টাকা ছাড়া আসামির সাথে দেখা করতে দেয় না পুলিশ। স্ব-ঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে কোর্ট পুলিশের এ চাঁদাবাজি। এ যেন চিড়িয়াখানায় বাঘ-ভাল্লুক দেখতে যাওয়ার মত। টিকেট (টাকা) নেই তো আসামির সঙ্গে স্বজনদের দেখা নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শত শত মানুষ কোর্টের পাশে টাকার অভাবে স্বজনদের সাথে দেখা করতে পারেননা।

তবে ইয়াবা ও মানবপাচারকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। তাদের আত্মীয়স্বজনরা আসলে জামাই আদরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেখানে বসেই আসামির সাথে আড্ডা দিতে পারেন। প্রয়োজনে ঘুমিয়ে নিতে পারেন।

চকরিয়া থেকে আসা নুর হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে কোর্টে এসে অপেক্ষা করছেন তিনি। ভাইয়ের জন্য বাড়ির থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে এসেছেন। খাবার ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দিতে গেলে লাগবে ৫০০ টাকা। পরে পুলিশের সাথে ৩০০ টাকায় রফাদফা হয়। যদিও ভাইয়ের হাতে নয় সেলঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার জন্যই ৩০০ টাকা নিয়েছেন সেই পুলিশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/10/1554894661330.gif

তিনি আরও জানান, ২০০ টাকা আরও দিয়ে ভাইয়ের সাথে ১০ মিনিট একান্তে কথা বলতে পেরেছেন।

এভাবেই শত শত মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সেখানকার পুলিশ। অনেকটা বাধ্য হয়েই স্বজনরা চুপ করে আছেন।

এর মধ্যে টেকনাফের সাজু মিয়া ও  মনিরা বেগম বলেন, ‘ছেলের সাথে দেখা করে ভাত দিতে এসেছিলাম। প্রথমে ৭০০ টাকা পরে ভাত দিতে আরো ৩০০ টাকা দিয়েছি। এভাবে অসংখ্য ভুক্তভোগীদের তীব্র ক্ষোভ কোর্ট পুলিশের বিরুদ্ধে।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, জিআর মামলার ফটোকপি ১০০ টাকা, মামলা ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ টাকা, সিআর মামলার ফটোকপি নিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, বেলবন্ড প্রতি ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, জামিনপ্রাপ্ত আসামি কোর্ট থেকে ছাড়াতে ১০০ টাকা, ১৬৪ ধারার ফটোকপি তুলতে ২০০ টাকা, ৩৪ ধারার মামলার আসামির জামিনের ক্ষেত্রে সুযোগ বুঝে অর্থ আদায়, রিকল সাক্ষর করতে ১০০ টাকা, কোর্ট হাজত খানায় আসামির সাথে দেখা করতে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করতে হয় স্বজনদের।

এছাড়া একটু বিশেষভাবে দেখা করা কিংবা কথা বলার সুযোগ পেতে হাজতের দায়িত্বরত পুলিশের হাবিলদারের সাথে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে হয়।

আর খাবার দিতে ১০০/২০০ টাকা, ওকালতনামায় আসামির সাক্ষর করাতে হলে ২০ টাকা করে প্রকাশ্য ঘুষ নেয়া হচ্ছে। এই টাকা আদায় ও বণ্টনের দায়িত্বে রয়েছেন কোর্ট পুলিশের হুমায়ন নামে কোর্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা। 

দীর্ঘদিন ধরে কোর্ট পুলিশের ওসির কক্ষের আশপাশেই প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য চলছে। তবে কেউ এর প্রতিবাদ না করে ‘ম্যানেজ ফর্মুলা’য় তুষ্ট থাকেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আইনজীবীর সহকারী বলেন, ‘কোর্ট পুলিশের বেপরোয়া ঘুষ দুর্নীতিতে ভুক্তভোগীরা সকলেই চরম ক্ষুব্ধ কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছেন না। কোর্টে জিআরও ও কনস্টেবলদের সাথে মাঝে মধ্যে ঘুষ আদায় নিয়ে আইনজীবী সহকারীদের বাকবিতণ্ডা হয়ে থাকে। কারণ আগে কোনো নথি বা চার্জশিট তুলতে যা দিতাম এখন তারও রেট বাড়িয়েছে। এমনকি আদালত চলাকালীন সময়ে হাজিরা দিতে আসা আসামি কিংবা রিমান্ড শুনানি হলেও কোর্ট পুলিশদের টাকা দিতে হয়। তাদের মতে গোটা আদালত অঙ্গণে এক ধরণের নৈরাজ্য কায়েম করেছে চলছে পুলিশ প্রশাসন।’ 

তবে কোর্ট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে, ‘যেসব বড় বড় ক্যাডার, ইয়াবা ব্যবসায়ী-মানবপাচারকারী ও আসামিরা জেলে রয়েছেন তাদের কোর্টের দিন হাজতখানায় আনা হলে বাহিরের নেতা ও পরিবারের সাথে খোলামেলা পরিবেশে দেখা ও গোপন কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মোটা অংকের লেনদেন হয়ে থাকে। 

বিষয়টি অবগত নয় বলে জানিয়ে কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোর্শেদ পারভেজ বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ‘আমি নতুন জয়েন করেছি। বিষয়টি এখনো নজরে পড়েনি। তবে সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে কেউ যাতে এখানে হয়রানির শিকার না করে। টাকা পয়সার বিষয়ে আপনাকে কিছু বলতে পারছি না। আপনি অফিসে আইসেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

রাজবাড়ীতে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী

রাজবাড়ীতে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী
বাড়িতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে মানুষ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বন্যায় রাজবাড়ীর চারটি উপজেলার তিন হাজারেরও বেশি পরিবারের ১০-১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। আর প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে এবং তা বিতরণ করা হচ্ছে।

পানিবন্দী মানুষের তালিকা তৈরি করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত দুই হাজার প্যাকেট শুকনা খাবারসহ সরকারিভাবে দেড়শ’ মেট্রিকটন চাল ও নগদ আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

a
বন্যা কবলিত এলাকা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

পানিবন্দী মানুষগুলো এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য বলে দাবি করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রতনদিয়া ইউনিয়নের পানিবন্দী কয়েকজন বলেন, ‘সপ্তাহ খানেক ধরে পানি উঠেছে। এখনো ত্রাণ পাইনি। আমাদের গ্রামের যারা পেয়েছেন, তা খুবই সামান্য। আমাদের বলা হয়েছে, আমরাও নাকি পর্যায়ক্রমে পাব। তবে কবে পাব তা আমরা জানি না। আমাদের নাম নাকি লিখে নিয়ে গেছে।’

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘পাংশা, কালুখালী, গোয়ালন্দ ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি উঠেছে। এতে পাংশায় ২৫০টি পরিবার, কালুখালীর রতনদিয়া ও কালকিাপুর ইউনিয়নের এক হাজার ৫৭৫ পরিবার, গোয়ালন্দের ৬০০ পরিবার ও সদরের ৯২১ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

a
বন্যা কবলিত এলাকা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালুখালী উপজেলার জন্য ৪৬.০৫০ মেট্রিকটন চাল, গোয়ালন্দের জন্য ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১২ মেট্রিকটন চাল এবং সদর উপজেলার জন্য ২১.০৪৫০ মেট্রিকটন চাল জেলা ত্রাণ ভান্ডার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তা বিতরণও শুরু হয়েছে। অপরদিকে পাংশা উপজেলায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পানিবন্দী পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

এবারের বন্যায় ৯৩৫ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে ২৪৯ হেক্টর ও আংশিক তলিয়ে গেছে ৬৮৬ হেক্টর জমির ফসল।

a
বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম



রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘জেলায় পানিবন্দী পরিবারগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এরই মধ্যে আমরা শুকনা খাবার ও চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। বন্যা পরিস্থিতি আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণ করছি। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে।’

চুয়াডাঙ্গায় মাদরাসা ছাত্রের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় মাদরাসা ছাত্রের মাথাবিহীন  লাশ উদ্ধার
নিহত আবিরের লাশ। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

চুয়াডাঙ্গায় আবির (১০) নামে এক মাদরাসা ছাত্রের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে জেলার কয়রাডাঙ্গা মাদরাসার পাশে ইটভাটা আম বাগান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবির ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার খালিশপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং চুয়াডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গা নুরানী হাফেজিয়া মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানায়, আবির গত মাসে কয়রাডাঙ্গা নুরানী হাফেজিয়া এতিমখানা মাদরাসায় ভর্তি হয়। মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের পর নিখোঁজ হয় আবির। এরপর মাদরাসার সবাই অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে গ্রামবাসী রাস্তা দিয়ে যাবার পথে মাথাবিহীন একটি লাশ দেখতে পায়। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সংবাদ পায় আবিরের লাশ ইটভাটা আম বাগানে পাওয়া গেছে। এ সময় তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহ জানান, আবিরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র