Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

বেনাপোলে সোহাগ পরিবহনের দুই স্টাফ আটক

বেনাপোলে সোহাগ পরিবহনের দুই স্টাফ আটক
অজ্ঞান হওয়া যাত্রী, ছবি: সংগৃহীত
আজিজুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বেনাপোল
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে জ্ঞান হারানো জয়নাল (৫০) নামে ভারতগামী এক পাসপোর্টধারী যাত্রীকে সড়কে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগে সোহাগ পরিবহনের দুই স্টাফকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুর ২ টায় যাত্রীকে উদ্ধারকারী পথচারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশ তাদের আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন, সোহাগ পরিবহনের সুপার ভাইজার ইকরামুল হোসেন (৩৫) ও তার সহযোগী মশিউর রহমান (৪০)।

স্থানীয় চিকিৎসক মনির হোসেন বার্তা২৪কে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাস স্থলবন্দরের দুই নাম্বার গেটের সামনের রাস্তায় এক যাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। তাকে নেশা জাতীয় কিছু খাওয়ানোর ফলে সে অজ্ঞান ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ বার্তা২৪কে জানান, অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়া ব্যক্তি সোহাগ পরিবহনের যাত্রী। তাই পরিবহন কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল তাকে বাস কাউন্টারে নামিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেটা না করে সড়কের উপর ফেলে রেখে চলে যাওয়া অমানবিক কাজ। এতে যানবাহনের চাপায় ওই যাত্রী মারা যেতে পারতেন। উদ্ধারকারী স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অমানবিক কাজের জন্য সোহাগ পরিবহনের সুপারভাইজারসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। অজ্ঞান পাটির সদস্যদের সাথে তাদের কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সম্প্রতি ঢাকা-কলকাতা সড়কের বেনাপোল রুটে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বেড়েছে। প্রায়ই তাদের হাতে ভারতগামী যাত্রী সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, সুপার ভাইজার বা চালকের সাথে অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা হাতমিলিয়ে যাত্রীদের সব ছিনিয়ে নিচ্ছে। আক্রান্ত এ যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা সন্দেহের বাইরে থাকে। সার্বক্ষণিক এক জন সুপারভাইজার ও হেলপারের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত যাত্রীরা বাসে রহস্যজনকভাবে অজ্ঞানপার্টির কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনিক ভাবে নজরদারি বাড়ানো দরকার।

আপনার মতামত লিখুন :

'ঘাতকদের হাত থেকে আল্লাহ শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছেন'

'ঘাতকদের হাত থেকে আল্লাহ শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছেন'
ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বক্তব্য রাখছেন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি বলেছেন, ‘সেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাই সেখানে মঞ্চ করতে দেয়া হয়নি। গ্রেনেড হামলার পর আহতদের চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার ছিল না। ঘাতকদের হাত থেকে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছেন।’

বুধবার (২১ আগস্ট) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস এবং ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের শহীদদের স্মরণে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে শাস্তি পেতে হবে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়া পাকিস্তান সরকারের হুকুম পালনে ব্যস্ত ছিলেন।’

ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল গফুর মন্ডলের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির, ভাইস-চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিপ্লব, ফুলছড়ি উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজহারুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া, উপজেলা সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম, উদাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বাবু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান সুজা, উদাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহদী মাসুদ পলাশ, গজারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জিহাদুর রহমান মওলা, ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুদৌলা রাজু ও জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।

পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ২১ আগস্ট নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অর্ধশত অবৈধ করাতকল

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অর্ধশত অবৈধ করাতকল
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে অবৈধ করাতকল

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বরগুনার তালতলীতে ম্যানগ্রোভ টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে অবৈধভাবে একের পর এক স’মিল (করাতকল) গড়ে উঠছে। বন অধ্যাদেশ আইনে বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে স’মিল বসানোর বিধান নেই। তবে সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে এসব স’মিল।

প্রশাসন বলছে বন থেকে ১০ কিলোমিটারের ভিতরে কোন স’মিলের মালিককে সরকারিভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ স’মিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566402724339.jpg

উপজেলা বন বিভাগ অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় সরকারি ম্যানগ্রোভ টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে ১৩ হাজার একর। রেঞ্জ অফিসের জানা মতে তালতলীতে ৩২টি স’মিল আছে। কিন্তু সরকারি তালিকায় নিবন্ধনকৃত ১টি স’মিলে কাগজপত্র আছে তাদের কাছে। উপজেলাসহ বনাঞ্চল ১০ কিলোমিটারের ভিতরে ৫০-৬০টির বেশি অবৈধ স’মিলের নেই কোনো কাগজপত্র।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সকিনা বিট অফিসের আওতায় লাউপাড়া বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বনের ভেতরে বা কাছাকাছি যত্রতত্র ১০ থেকে ১২টি করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। এসব করাতকলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শ্যালো মেশিন লাগিয়ে তা চালানো হচ্ছে। এতে চেরাই করা হচ্ছে সুন্দুরি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের কাছাকাছি একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে অবৈধভাবে এসব স’মিল গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ সরকারি খাল দখল করে এসব স’মিল পরিচালনা করছেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566402744836.jpg

লাউপাড়া বাজার থেকে টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৩ কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানেই দেখা যায় জলিল ফকিরের একটি অবৈধ স’মিল।

এ বিষয়ে স’মিলের মালিক জলিল ফকিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে বনের কোনো প্রকার গাছ চেরাই করা হয় না। তবে আমরা রেঞ্জ অফিসে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। বনের কাছাকাছি স’মিলের অনুমতি দেওয়া হয় না জানালে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালী মহলের কিছু লোক অবৈধভাবে স’মিল করে বনের ১০ কিলোমিটারের ভিতরে দীর্ঘদিন এ ব্যবসা করে যাচ্ছে। তারা যদি প্রশাসনকে ম্যানেজ না করতো তা হলে কিভাবে অবৈধভাবে স’মিল চালায়? প্রায় প্রতিটি স’মিল সড়কের পাশেই, সব ধরনের অফিসার এই সড়ক দিয়েই আসা-যাওয়া করেন। তারা কি চোখে কখনও দেখে না এসব স’মিল?
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566402774941.jpg
এ বিষয়ে আমতলী রেঞ্জ (তালতলী) কর্মকর্তা নয়ন মিত্র বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, উপজেলা নিবার্হী অফিসার বরাবর স’মিলের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার আবেদন করা হয়েছে। খুব দ্রুত অবৈধ স’মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার দীপায়ন দাস শুভ বলেন, বন বিভাগে অবৈধ স’মিলের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ স’মিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র