Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

হাওরে ফসল রক্ষার শপথে আসবে নতুন বছর

হাওরে ফসল রক্ষার শপথে আসবে নতুন বছর
হাওরে বিস্তৃত ফসলের মাঠ, ছবি: বার্তা২৪.কম
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে: মৃত্যুশোক ও ফসলহানির আঘাতে বিস্তীর্ণ হাওর জনপদে বইছে হাহাকার। চৈত্রের শেষ দিনে (১৩ এপ্রিল) সমাগত নববর্ষের আনন্দ নেই কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা, মিটামন ও অষ্টগ্রামে।

'শোক ও ফসলের ক্ষতির বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে এবার হাওরের তিন উপজেলায় নববর্ষের আনন্দ উৎসব স্থগিত করা হয়েছে। তার বদলে মাঠে মাঠে ফসল রক্ষার শপথ নিয়ে নতুন বছরকে আবাহন করা হবে,' বললেন সংসদ সদস্য প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

বার্তা২৪.কমকে এমপি তৌফিক বলেন, 'বনানীর এফআর টাওয়ারে হাওরের সন্তান অগ্নিনায়ক সোহেল রানার মৃত্যুতে আমরা শোকস্তব্ধ। ইটনা উপজেলার চৌগাঙ্গা গ্রামের কেরুয়ালা গ্রামের শোক ছড়িয়ে গেছে জলমগ্ন হাওর জনপদে। আমি বাংলা বছরের শেষ দিনটি কাটাচ্ছি শোকার্ত পরিবার ও গ্রামবাসীর সঙ্গে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555204515201.jpg
ফসল কাটা হচ্ছে হাওরে, ছবি: বার্তা২৪.কম

অগ্নিবীর সোহেল রানার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ছাড়াও চাকরির ব্যবস্থা করার কথা জানিয়ে এমপি তৌফিক বলেন, 'সাম্প্রতিক ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নববর্ষের আনন্দ-উৎসব করার মতো পরিস্থিতিতে নেই মানুষ। ফসল রক্ষার কাজেই সবাই ব্যস্ত।'

সরেজমিন তথ্যে জানা যায়, উপর্যুপরি শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ-পালা ছাড়াও মাঠে মাঠে আগাম জাতের বোরো ব্রি-২৮ ধানের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। কয়েক দিনের মধ্যে পুরোদমে এ ধান কাটতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে ফসল রক্ষায় চিন্তিত এখন হাওরের কৃষকরা।

হাওরের কিছু কিছু মাঠে ফসল কাটতেও দেখা যাচ্ছে কৃষকদের। অনেকেই সদ্য রোপিত পাট চারার পরিচর্যায় ব্যস্ত। শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড বীজতলা ও সবজির বাগান সংস্কারের চাষীদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।

চলমান আবহাওয়ায় প্রতিদিনই সকালে কিংবা বিকালে বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে উত্তাল বাতাস ও বড় বড় শিলাখণ্ড। বিনা নোটিশে আকাশ কালো করে বইছে ঝড় ও বৃষ্টি। ফলে হাওরের জনগোষ্ঠী, যারা মূলত কৃষিজীবী, তারা ফসলের চিন্তায় সন্ত্রস্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555204549313.jpg
হাওরের সংসদ সদস্য তৌফিক, ছবি: বার্তা২৪.কম

বিরূপ পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নববর্ষ উদযাপন করা সম্ভব না হলেও বৈশাখের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হলে হাওরে শুরু হবে সাংস্কৃতিক জাগরণ। গানের দেশের প্রাণের মানুষগুলো জলে, ডাঙায়, নৌকায় একতারা, দোতারা হাতে মেতে উঠবেন লোকজ সঙ্গীতের হৃদয় ছোঁয়া আবেশে। চলবে যাত্রা, পালা গান, বাউল ও দেশজ সঙ্গীতের আসর।

ঐতিহ্য ও লোকাচার মেনে জমবে মেলা ও হাট। কিশোরগঞ্জের হাওর সংলগ্ন বৃহত্তর নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের শিল্পীরা দলবদ্ধভাবে নানা অনুষ্ঠানে আসা-যাওয়া করবেন। বৃহত্তর বাঙালি সংস্কৃতির এক অনবদ্য অংশ হয়ে জল ছলছল জনপদের মানুষগুলো প্রাণের উচ্ছ্বাসে মিলিত হবেন হাওর সংস্কৃতির বর্ণিল বিভা ও সৌরভে।

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র