শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, নাটোর, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোরের সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করা যৌন হয়রানি ও ভোগান্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে সত্যতা মিলেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। 

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে তিন সদস্যের স্বাক্ষরিত দুই পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে এই সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা, ক্লাস টেস্টে ভিডিও করা, বাজে আচরণ করা, গায়ে হাত দেওয়া ও যৌন হয়রানির ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল বার্তা২৪.কম ও পরদিন একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলাব্যাপী বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। 

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে আগামীকাল (১৮ এপ্রিল) স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।‘

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, ভোগান্তি, হুমকি প্রদানসহ মোট ১২টি অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কয়েকটি দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন ঐ প্রতিষ্ঠানের ১৩ শিক্ষার্থী ও ১১ জন অভিভাবক।

অভিযোগে বলা হয়, ফজলুর রহমান তার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের রাতে ফোন করে কুপ্রস্তাব দেন। আর তার কুপ্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেশি নম্বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। এছাড়া পাইভেট পড়ানো অবস্থায় একাধিক শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেওয়াসহ যৌন হয়রানি করেন।

পরে ঘটনা তদন্তে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিপুল কুমার-কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অতি দ্রুত ঐ শিক্ষকের অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সিংড়া উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ও সুনাম ধরে রাখার প্রয়াশ অব্যাহত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ তদন্ত কার্য পরিচালনার জন্য ধন্যবাদ। তবে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :