Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

ছয় মাসে ৭০০ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ছয় মাসে ৭০০ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
ইয়াবা, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
কুষ্টিয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গত ছয় মাসে ৭০০ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ৭০০ জন। আর মামলা দেয়া হয়েছে পাঁচ শতাধিক। কঠোর পরিণতির কথা ভেবে অনেক মাদক ব্যবসায়ী কারাগার থেকে জামিন পর্যন্ত নিচ্ছেন না।

পুলিশ সুপার হিসেবে কুষ্টিয়ায় যোগ দেয়ার পর কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেন এসএম তানভীর আরাফাত।

তার মধ্যে সব থেকে বেশি অগ্রাধিকার দেন মাদক দমনকে। সেই মোতাবেক ৬ মাসের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগে নিজের ঘরে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। এখন পর্যন্ত মাদকের সাথে সম্পর্কের কারণে প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্যকে জেলা ছাড়া করেছেন। আর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের যে কোন মূল্য আইনের আওতায় আনতে ওসিদের নির্দেশ দেন। এখন পর্যন্ত পুলিশের নেয়া পদক্ষেপের কারণে মাদকের যে সিন্ডিকেট ছিল তা অনেকটা গুড়িয়ে গেছে।

সীমান্ত ঘেরা কুষ্টিয়া জেলায় মাদকের থাবা নিয়ে সব মহল কমবেশি উদ্বিগ্ন। কোনভাবেই মাদক বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে আগে মাদকের যে রমরমা উপস্থিতি ছিল তা আর এখন নেই। হাত বাড়ালেই এখন আর মাদক মেলে না। তারপরও সীমান্তসহ আশেপাশের জেলা দিয়ে মাদক কমবেশি জেলায় প্রবেশ করছে। আর ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবা না পেয়ে অনেকে বিকল্প মাদক হিসেবে টাপেন্টা নামক এক প্রকার ওষুধ সেবন করছে।

সম্প্রতি দৌলতপুরে এক মাদক বিরোধী সমাবেশে পুলিশ সুপার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মাদক নির্মূল করতে না পারলে চুরি পড়ে জেলা থেকে চলে যাব।’ এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান তিনি। না হলে চূড়ান্ত পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।’

এ ঘোষণার পর বদলে গেছে চিত্র।

সচেতন মহল মনে করেন, জেলার তিন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার পর কাঁপন ধরেছে মাদক সিন্ডিকেটে। এরপর জান বাঁচাতে শীর্ষরা গা ঢাকা দেয়া শুরু করে। অনেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। যেসব রাজনৈতিক নেতারা শেল্টার দিতেন তারাও সাবধান হয়েছেন।

পুলিশের গোপন সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের টিম দৌলতপুর ও ভেড়ামারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার বোতল ফেনসিডিল, এক মণ গাঁজা, ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। মামলা দেয়া হয়েছে ৫ শতাধিক। একই সময় মাদক ব্যবসা, পরিবহণ ও সেবনের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ৭ শতাধিক ব্যক্তিকে।

এর মধ্যে ফেনসিডিল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আনা হয়। পরে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশ সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পুলিশ মাদক নির্মূলে কাজ করছে। বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ মাঠে মাঠে কাজ করছে। মাদকের বিষয়ে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না। সব শ্রেণী পেশার মানুষকে সচেতন করতে উপজেলাগুলোতে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জেলায় কোন মাদক থাকবে না। আর যারা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনাগামী ট্রেন চুয়াডাঙ্গায়, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা

খুলনাগামী ট্রেন চুয়াডাঙ্গায়, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা
খুলনাগামী ট্রেন চুয়াডাঙ্গায়, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা

ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায়। এরপর পরপরই খুলনার সাথে সারা দেশের ট্রেন চলাচল অচল হয়ে পড়ে। কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ফলে খুলনা রুটে অন্যান্য ট্রেন চুয়াডাঙ্গার রেল লাইনের বিভিন্ন পয়েন্টে হাজারো যাত্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

সরজমিনে রাত ১১ টার দিকে খুলনামুখী তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন রেল লাইনের পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন হতে দুই কিলোমিটার দূরে ফার্মপাড়া ও উথলীতে এই তিনটি ট্রেন অপেক্ষমান রয়েছে। ট্রেনগুলো হলো খুলনামুখী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন, চিলহাটি থেকে ছেড়ে আসা রূপসা ও গোয়লন্দ থেকে ছেড়ে আসা নকশী। ট্রেনগুলোর বগিতে ৪ হাজারেরও বেশী যাত্রী। এসব যাত্রী দীর্ঘ সময় ট্রেনের মধ্যে বসে নিশ্চুপ সময় পাড় করছেন। তারা জানেন না কখন তাদের ট্রেন খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনে বসে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566160769719.jpg

স্টেশন থেকে দুই কিলোমিটার দূরে আন্ত:নগর রূপসা ট্রেনটিকে যাত্রী নিয়ে নিরাপত্তাহীনভাবে শহরের অন্ধকারাচ্ছন্ন ফার্মপাড়ায় রেল লাইনে অপেক্ষমান অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।  যাত্রীদের নিরাপত্তায় অপেক্ষমান ট্রেনের আশপাশে স্টেশনের কোনও জিআরপি পুলিশকে দেখা যায়নি। আর ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের মালামাল রক্ষার্থে যে পুলিশ সদস্য দায়িত্বে-তাকে দেখা গেছে ট্রেনের ভেতরে গভীর ঘুমে মগ্ন।

খুলনাগামী রূপসা ট্রেনের যাত্রী রোকন বলেন, স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিনি নাটোর থেকে খুলনায় ফিরছেন। সকালে তার অফিস। এখন কখন ট্রেন ছাড়বে তা কেউ বলতে পারছে না। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566160786981.jpg

সরকারী চাকরীজীবী মেরিনা বলেন, যে জায়গায় ট্রেন থামানো হয়েছে স্থানটি ভালো নয়। আশপাশের লোকজন বাজে বাজে কথা বলছে ট্রেনের জানালার ওপাশ থেকে। ট্রেনটি যদি প্লাটফর্মে থামাত তাহলে ভালো হত।

চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের মাস্টার নাসরিন ফারহানা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান সন্ধ্যার পরপরই তিনটি ট্রেন পর্যায়ক্রমে চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে ঢুকলে আমরা ট্রেনগুলোকে বিভিন্ন রুটে দাঁড় করিয়ে দেই। কোটচাঁদপরে কপোতাক্ষ ট্রেন সচল করতে ঈশ্বরদী থেকে এরই মধ্যে রিলিফ ট্রেন পোড়াদহ স্টেশন ছেড়ে এসেছে। রিলিফ ট্রেনটি গিয়ে লাইনচ্যুত ট্রেনকে উদ্ধার করার পরপরই চুয়াডাঙ্গায় অপেক্ষমান ট্রেনগুলো খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

সৈয়দপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

সৈয়দপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত
ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জোবেদা বেগম (৫০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৫ টায় বাইপাস সড়কের মুজার মোড় এলাকায় সড়ক পার হতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাবেদা বেগম সৈয়দপুর পৌর শহরের কয়া গোলাহাট এলাকার দক্ষিণ পাড়ার মৃত আজিজার রহমানের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, দুর্ঘটনায় আহত জোবেদা বেগমকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) প্রেরণ করলে, হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃতবরণ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র