Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ধামরাই উপজেলায় মোহাদ্দেছ চেয়ারম্যান নির্বাচিত

ধামরাই উপজেলায় মোহাদ্দেছ চেয়ারম্যান নির্বাচিত
নবনির্বাচিত ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোহাদ্দেছ হোসেন, ছবি: বার্তা২৪.কম
খন্দকার সুজন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ধামরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মোহাদ্দেছ হোসেন। তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চলতি বছরের ৩১ মার্চে চতুর্থ ধাপে ধামরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে এ উপজেলার ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছিল।

বুধবার ধামরাই উপজেলার স্থগিত থাকা কান্দাপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। এ কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ভোট পান মো. মোহাদ্দেছ।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কান্দাপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে, এই কেন্দ্রের ১ হাজার ৮৯১ ভোটের মধ্যে মোট ৮৫৬ জন ভোটার ভোট দেন। এর মধ্যে আনারস প্রতীক নিয়ে মোহাদ্দেছ পান ৮০৯ ভোট। আর নৌকা প্রতীক নিয়ে মিজানুর রহমান পান ৫৩ ভোট। এছাড়াও লাঙ্গল প্রতীকের দেলোয়ার হোসেন পান এক ভোট আর মশাল প্রতীকের আনোয়ার হোসেন পান  দুই ভোট।

ধামরাই উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কালাম বার্তা২৪কে জানান, ৩১ মার্চে চতুর্থ ধাপে ধামরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ধামরাই উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৩২। মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৪৮ টি। এর মধ্যে কান্দাপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বাতিল করা হয়। বাকী ১৪৭ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয় ওই দিনই।

ধামরাইয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চার জন প্রার্থী। ৩১ মার্চের ১৪৭ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী নৌকা প্রতীকে মিজানুর রহমান পায় ৩৯ হাজার ১ ভোট, আনারস প্রতীক নিয়ে মোহাদ্দেস হোসেন পান ৪০ হাজার ৫৬৩ ভোট, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে দেলোয়ার হোসেন পায় ৮৩৪ ভোট এবং মশাল প্রতীক নিয়ে আনোয়ার হোসেন মুন্নু পায় ১২১ ভোট।

 

আপনার মতামত লিখুন :

সরাইল-অরুয়াইল সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম

সরাইল-অরুয়াইল সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম
সরাইল-অরুয়াইল সড়কে সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল-অরুয়াইল সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভাটি অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটিতে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার, রাস্তার প্রশস্ততা কমানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এসব অনিয়ম সরেজমিন তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এনামুল হক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলাম সড়কের সংস্কার কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের কাছে সড়কে সিডিউল মোতাবেক কাজের দাবি করলে, তারা ভালোভাবে কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিলেও কাজে এখনও অনিয়ম হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জেলার সরাইল উপজেলা ও নাসিরনগর উপজেলার ভাটি অঞ্চলের প্রায় তিন লক্ষাধীক মানুষের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম ‘সরাইল-অরুয়াইল সড়ক।’ ভাটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১০ সালে এই সড়ক নির্মাণ হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাওর এলাকায় এই সড়ক নির্মাণের সময়ই নানা অনিয়ম হয়। ফলে প্রতিবছর বর্ষাকালে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর এতে সংস্কারের নামে বিভিন্ন বরাদ্দ বাস্তবায়নে লোপাটের মহোৎসব চলছে। মূলত এসব বরাদ্দে কার্যত কোনো কাজই করা হয়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563498124882.jpg

এদিকে দীর্ঘ ভোগান্তির পর প্রায় একবছর আগে সড়কটির একাংশের বইশ্বর মসজিদের সামনে থেকে পাকশিমুল চেয়ারম্যানের বাদির সামনে পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা সংস্কারের জন্য ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। দরপত্রসহ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাজটি পান ‘মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে এ সংস্কার কাজে আরও কিছু অর্থ বরাদ্দ আসে। শুষ্ক মৌসুমেই এ সড়কের সংস্কার কাজ করার জোর দাবি থাকলেও ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাজে অনিয়ম করার জন্যই তিনি ধীরগতি অবলম্বন করেছেন। ঠিকাদারকে এ সংস্কার কাজে অনিয়মে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল বাকি বিল্লাহ ও সার্ভেয়ার শফিকুর রহমান।

পাকশিমুল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. দানা মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, শুরু থেকে কাজে ব্যাপক অনিয়ম শুরু করেছে ঠিকাদার। পাশপাশি রাস্তার প্রসস্ততাও কমিয়েছে। রাস্তার ঢালু অংশের মাটিও চাপায়নি ভালোভাবে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমরা বাঁধা দিলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকে আবারও চলে অনিয়ম। এসব অনিয়মের সাথে এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীও জড়িত।

কালিশিমুল এলাকার মো. মাজু মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, রাস্তাটি এই এলাকার সাধারণ লোকজনের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। যে কারণে সবাই চায় কাজটি ভালোভাবে হোক। কিন্তু ঠিকাদার কারও কথা তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছেন।

সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, সড়ক সংস্কার কাজে এমন অনিয়ম কখনোই দেখিনি। প্রত্যেকটি কাজে ঠিকাদার তার মনের মত করে ফাঁকি যাচ্ছেন। সড়কে নেমে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সবাইকে কাজের ফাঁকি ও অনিয়ম প্রমাণসহ দেখিয়েছি। সিডিউল মোতাবেক কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563498161021.jpg

সড়কের সংস্কার কাজের তদারকি কর্মকর্তা সরাইল উপজেলা এলজিইডির সার্ভেয়ার শফিকুর রহমান তার ওপর আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, এ কাজে কিছু সমস্যা আছে। যখন যে সমস্যা পেয়েছি কর্তৃপক্ষকে তা লিখিতভাবে অবহিত করেছি। একাধিকবার পত্র দিয়েছি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, কাজের সিডিউল অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তার প্রসস্ততা কমানোসহ অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়। ১২ ফুট রাস্তা ও ৩ ফুট ওয়াকওয়ে আমরা ঠিক রেখেই কাজ করছি। আর নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিরাজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, সরাইল-অরুয়াইল সড়কের কাজে কোনোপ্রকার অনিয়ম হচ্ছে না। চেয়ারম্যানসহ অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন। যার কারণে আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসি। কোনো প্রকার সমস্যা পাওয়া যায়নি। অনিয়মের অভিযোগগুলো সত্য নয়। কাজ ভালোভাবেই হচ্ছে।

দুঃখের মাঝে মাছ ধরায় সুখ!

দুঃখের মাঝে মাছ ধরায় সুখ!
বন্যার পানিতে চলছে মাছ শিকার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধা জেলার শহরতলীর ডিবি রোড।বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। একইচিত্র শহরের পিকে বিশ্বাস সড়কেও। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার পাশে থাকা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও দায়রা জজের বাসভবন হাঁটুপানির নিচে।

শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা শহর। এতে যানবাহন নিয়ে চলাচলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারাক্রান্ত হয়েছে শহরতলীর মানুষদের মন। তবে নদী তীরবর্তী চর, চরদীপ ও নিম্নাঞ্চলের মানুষদের দুঃখের সাথে সুখের দোলা দিচ্ছে বানের সাথে আসা মাছ।

বন্যার পানিতে প্লাবিত এলাকাগুলোতে ছোটবড় নানা বয়সী মানুষ দুঃখকে ঝেড়ে ফেলে সুখের জালে মাছ খুঁজছেন। কমবেশি সবাই মাছ ধরায় ব্যস্ত। এই মাছ ধরার ব্যস্ততার উৎসব শহরে ডিবি ও পিকে বিশ্বাস রোড থেকে প্লাবিত গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে অবশ্য নানা ধরনের জালের বিক্রি বেড়েছে।

পিকে বিশ্বাস রোডে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে জাল দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত বৃদ্ধ মুসলিম মিয়া। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, বানের পানিতে ঘরের চৌকি ডুবে গেছে। খুব কষ্টে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। এখন অন্যকোনো কাজ না থাকায় মাছ শিকার করছি।

বাদিয়াখালী-ত্রিমোহনী রেলপথটির ওপর দিয়ে পানি প্লাবিত হওয়ায় লালমনিরহাট গাইবান্ধা ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝিক ঝিক করে অবিরাম ছুটে চলা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও থেমে নেই মাছ ধরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563494347644.jpg

কেউ কেউ ছোট জাল, ডার্কির ফাঁদ, কারেন্ট জাল, হেঙ্গা দিয়ে মাছ ধরার আনন্দে ভুলে থাকছেন দুঃখ আর দুর্ভোগ। খালবিল ডোবা রাস্তার উপর ও ছোট ছোট নদে বানের পানিতে চলছে মাছের খোঁজ।

ফুলছড়ির উদাখালী ইউনিয়নের আনন্দবাজারের মিজান বলেন, গত তিন দিনে ১০ কেজির বেশি মাছ ধরেছেন। ছোট জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে পারায় আনন্দে আত্মহারা ক্ষতিগ্রস্ত এ যুবক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট জাল, হেঙ্গা, ডার্কি ফাঁদ দিয়ে নতুন পানিতে তেলাপিয়া, পুটি, ডারকা, মলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট ছোট দেশি মাছ ধরতে দেখা যায়।

বর্তমানে জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩৪ ইউনিয়নের ২৪৯ গ্রামের প্রায় ১ লাখ পরিবারের সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে প্রায় ৬১ হাজার বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র