Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৮২ বছরেও ভাতা মেলেনি বিধবা জহুরান্নেছার

৮২ বছরেও ভাতা মেলেনি বিধবা জহুরান্নেছার
৮২ বছরের বিধবা বৃদ্ধা জহুরান্নেছা, ছবি: বার্তা২৪
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)।


  • Font increase
  • Font Decrease

‘জামাইর (স্বামী) ঘর বেশিদিন করা অইলো না। ভাবছিলাম পোলাপাইনে আমারে খাওন-খোরাকি দিবো। অভাবের ঠেলায় তো ওরাই নিজের সংসার চালাইতে পারেনা। আমারে কি খাওয়াইবো। কপালডা ভালা এই বইল্যা যে, অভাবের মধ্যেও ছোট পোলা সবদূর আমারে খাওয়ায়। ওর লগেই আমি থাহি (থাকি)।

তয় আমার বয়স অইছে, খাটাখাটনি করবার পারিনা, শইলেও মেলা অসুখ-বিসুখ ধরছে। টেকার অভাবে ভালা ডাক্তারও দেহাইতে পারিনা। মাইনসের কাছে হুনি বুড়া অইলে, স্বামী মরলে সরকারে বলে ভাতার কার্ড দেয়। কই আমি তো বুড়া থুরথুরা অইয়া গেছি। আমারে তো কেউ ভাতার কার্ড দিল না’।

বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন ৮২ বছরের বিধবা বৃদ্ধা জহুরান্নেছা। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলারা ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের শালীহর গ্রামে। স্বামী-মৃত উমর আলী।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় জহুরেন্নাছার দেখা মেলে গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায়। বয়সের ভারে তার কোমর বেঁকে গেছে। কুঁচকে  গেছে গায়ের চামড়া। এই শরীরেই হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে ধীর গতিতে হেঁটে চলছেন তিনি। হঠাৎ ওই এলাকার চায়ের দোকানে বসে থাকা কাস্টমারদের কাছে সাহায্যের আকুতি জানালেন তিনি। সাহায্য করার সূত্র ধরেই এ প্রতিবেদকের  সঙ্গে কথা হয় এই বৃদ্ধার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/18/1555582655068.jpg

বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, সংগ্রামের (মুক্তিযুদ্ধ) আগেই আমার বিয়া অয়। সংসারে আহে চাইর পোলা ও এক মাইয়া। জামাই (স্বামী) তহন কাঁচাবজারের ব্যবসা কইর‌্যা সংসার চালাইতো। অভাব থাকলেও সংসারডাত সুখ আছিল। হুট কইর‌্যা জামাই আরেকটা বিয়া করনে আমি ওইহান থেইক্যা আইয়া পড়ি। হেরপর কষ্ট কইর‌্যা পোলপাইনডিরে বড় করছি। তয় সংসারের অভাব আর দূর অইলো না। অহন বুইর‌্যা বয়সেও মাইনসের কাছে হাত পাতন লাগে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শালীহর গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে জহুরেন্নাছা বসবাস করেন। তার স্বামী মারা গেছে প্রায় ২০ বছর আগে। চার ছেলে ও এক মেয়ের সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। তবে ছোট ছেলে সবদূর ছাড়া কেউ মায়ের খোজঁ-খবর নেয় না। বয়সের ভাড়ে  ন্যুয়ে পড়া জহুরান্নেসার বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। প্রতিমাসে তার ওষুধ বাবদ এক হাজার টাকার বেশি খরচ অয়। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়েই তিনি খরচটা  জোগান।

জহুরেন্নাছার বয়স ৮২ হলেও তিনি কোনো বয়স্ক ভাতা পান না। জরাজীর্ণ ঘরে থাকলেও সরকারি ঘরের বরাদ্দ তার ভাগ্য জোটেনি। একবার স্থানীয় ইউপি সদস্য বয়স্ক ভাতা দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিলেও পরবর্তীতে তিনি ভাতা পাননি। তবে গ্রামের মানুষ ধান কাটার মওসুমে তাকে ধান-চাল দিয়ে সাহায্য করে। সেটা দিয়েই কষ্ট করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তিনি।

বার্তা২৪.কমকে জহুরান্নেছা বলেন ‘যারার (যার) লোক আছে, হেরা ভাতার কার্ড পাইছে। আমার লোকও নাই। ভাতার কার্ডও নাই। গেরামের মেম্বাররে জিগাইলে খালি কয় অইবো। কিন্তু কবে যে অইবো হেইডা আর কয় না। কার্ডটা পাইলে তো একটু অইলেও আমার অভাবডা কমতো। এই বয়সে কত কিছু খাইতে-পড়তে মন চায়। তয় সব কিছুর লেইগ্যা মাইনষ্যের কাছে হাত পাততে ভাল্লাগে না।’

জহুরান্নেছার সঙ্গে কথা বলতে বলতে ঘড়ির কাটায় ১২টা বেজেছে। চায়ের দোকানটা তখন অনেকটাই কাস্টমার শূন্য। এমন সময় কাছে এসে বসেন চা দোকানি হারুন রশিদ। তিনি বলেন, চাচি এই বয়সে তুমি ভাতা পাওনা আমার তো বিশ্বাস হয় না। সত্য করে বলেন,  সাংবাদিকের কাছে মিছা (মিথ্যা) কথা কইলে কিন্তু ধরা খাইবা।

জহুরান্নেছার সোঁজা জবাব, এই বয়সে মিছা কথা কইলে বাবা, মরার পরে আমারে মাইট্যে গছতো না”।

আপনার মতামত লিখুন :

‘কাঙাল হরিনাথ শুধু কুমারখালীর নন, সারা দেশের’

‘কাঙাল হরিনাথ শুধু কুমারখালীর নন, সারা দেশের’
কাঙাল হরিনাথের জন্মবার্ষিকীতে কুমারখালীতে আলোচনা সভায় বক্তারা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

‘সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ শুধু কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি ছিলেন সারা বাংলার। গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ কাঙাল হরিনাথের সংবাদপত্র ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র। তাঁর সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠাই একজন প্রকৃত নির্ভীক সাংবাদিকের আদর্শ হওয়া উচিত।’

শনিবার (২০ জুলাই) বিকালে কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

তিনি বলেন, ‘কাঙাল হরিনাথের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী কেবল কুমারখালীতে ছোট পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে। আগামীতে এই অনুষ্ঠান ব্যাপক আকার পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সভায় জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো: আবদুল মজিদ বলেন, ‘কুমারখালী-কুষ্টিয়া মানেই মীর মশাররফ, লালন ও সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথের জেলা। এ জেলায় এ মণীষীরা জন্মগ্রহণ করায় কুষ্টিয়া জেলাবাসী ধন্য।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563632205418.gif

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মালিক সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সেই এমএন প্রেসকে কেন্দ্র করে শুধু জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এই জাদুঘরে সেই প্রেসটি নেই।’

শীঘ্রই হরিনাথ মজুমদারের প্রেসটি এই জাদুঘরে রাখার জন্য স্থানীয় এমপিকে অনুরোধ জানান তিনি।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় আলোচক ছিলেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী, সরকারি মুজিব নগর কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন রায়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো: আনছার হোসেন, কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদর্শক প্রভাষক সৈয়দ এহসানুল হক প্রমুখ।

সভা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে ও কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত গান পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর আগে অতিথিরা কাঙাল হরিনাথের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সংগ্রহ

কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সংগ্রহ
ত্রাণ নিচ্ছে বন্যার্তরা।ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ওই উপজেলায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণ পেতে তারা চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান কিংবা বিভিন্ন দলীয় নেতাকর্মীর দিকে।

ইতোমধ্যে উপজেলার জুমারবাড়ি ও হলদিয়া ইউনিয়নের প্লাবিত গ্রামের ৩ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ হিসেবে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যা ছিল চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ওই ত্রাণের প্যাকেটের মধ্যে চিড়া, গুড় ও খাবার স্যালাইন ছিল।

শনিবার (২০ জুলাই) দিনব্যাপী সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের মাদরাসা মাঠে ওই ত্রাণ বিতরণ করা হয়। বন্যার্তরা কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহামুদ হাসান রিপনের অর্থায়নে ও আওয়ামী লীগ সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে তিন হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহামুদ হাসান রিপন বলেন, ‘সাঘাটা উপজেলার অনেকগুলো গ্রাম এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাঘাটার অসহায় বন্যার্ত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। তাদের দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি করতে প্রতিনিয়ত খোঁজ নিচ্ছি। এই উপজেলার বন্যার্তদের খাদ্য সংকট দূর করতে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেছ আলী প্রধান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামসীল আরেফিন টিটু প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র