Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কারাগার থেকে বের হয়ে যা বললেন হিরো আলম

কারাগার থেকে বের হয়ে যা বললেন হিরো আলম
হিরো আলম / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

স্ত্রী পেটানোর মামলায় বহুল আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে জামিন দিয়েছেন আদালত। হিরো আলমের শ্বশুর (বাদী) মামলায় আপস করায় এবং তার স্ত্রী সুমি বেগম স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাওয়ায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

কারাগার থেকে বের হয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৮টায় বগুড়ার শহরতলীর গোদারপাড়া বাজারে একটি দোকানে বার্তা ২৪.কমের সঙ্গে একান্তে কথা হয় হিরো আলমের। তিনি বলেন, ‘সত্যের জয় সব সময়ই হবে। আমি সত্যের পথে আছি, সারাজীবন থাকব। স্ত্রীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে শ্বশুর আমার নামে মামলা করেন। আমি সত্যের পথে ছিলাম, এ জন্যেই আমার স্ত্রী ও শ্বশুর তাদের ভুল বুঝতে পেরে মামলা তুলে নিয়েছে। স্ত্রী ভুল করলেও আমি হিরো ভুল করতে পারি না। আমার তিনটি সন্তান আছে। আমি তাদেরকে নিয়ে সুখে শান্তিতে সংসার করতে চাই।’

মিথ্যা মামলায় ৪০ দিন কারাগারে কাটানো একটি নতুন অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে হিরো আলম বলেন, ‘কারাগারেও যে আমার এত ভক্ত আছে সেখানে না গেলে আমি বুঝতাম না। কারাগারে থাকাকালে সব সময় দু’জন কারারক্ষী আমার সঙ্গে থাকতো। জেল সুপার আমাকে আলাদা একটি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। কারাগারে আমার ভক্তরা বেশ সম্মান করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকাকালে আমার নামে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি, যৌতুক দাবি করেছি, এগুলো চক্রান্ত তা আজ প্রমাণ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। কারাগারে থাকাকালে আমার ফেসবুক হ্যাক করা হয়।’

হিরো আলম বলেন, ‘৪০ দিন কারাগারে থাকায় কর্মজীবনে আমি অনেক পিছিয়ে পড়েছি। শুক্রবার থেকেই কর্মজীবন আবার শুরু করব। ভক্তদের জন্য আগামী ঈদে নতুন নতুন গানের ভিডিও প্রকাশিত হবে। এছাড়া দিয়াশলাই নামের সিনেমা বাজারে আসছে।’

আরও পড়ুন: জামিন পেলেন হিরো আলম

উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর এবং নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৬ মার্চ হিরো আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ২৫ মার্চ হিরো আলমের জামিন শুনানিকালে বাদী তার শ্বশুর মামলা আপোষ করেছে মর্মে আদালতকে জানায়। এ সময় হিরো আলমের স্ত্রী সুমি বেগম আদালতে উপস্থিত থেকে স্বামীর জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তাদের বক্তব্য শুনে মামলার বাদী ও হিরো আলমের স্ত্রীকে ভৎসনা করেন।

আদালত হিরো আলমের জামিন না মঞ্জুর করে ১৮ এপ্রিল হিরো আলমকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। পরে বাদীপক্ষ মামলা আপস করায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত হিরো আলমের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে সন্ধ্যায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।

আপনার মতামত লিখুন :

পদ্মায় প্রবল স্রোত, পুরনো ফেরিতে নদী পারাপারে বিলম্ব

পদ্মায় প্রবল স্রোত, পুরনো ফেরিতে নদী পারাপারে বিলম্ব
পদ্মায় ফেরি পারাপারের ফাইল ছবি

প্রবল স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ফেরিগুলোকে নদী পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। সাধারণত নদী পার হতে সময় লাগে ৩০-৩৫ মিনিট, এখন সেখানে সময় লাগছে ১ ঘণ্টা। কখনও কখনও ১ ঘণ্টাতেও নদী পারাপার করতে পারছে না ফেরিগুলো।

ফেরির ইঞ্জিনগুলো পুরাতন হওয়ায় নদীতে স্রোতের বেগ বাড়লেই তা আর চলতে পারে না। ফলে অনেক সময় ফেরিগুলোকে ঘাটে অলস সময় বসে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে ঘাট এলাকায় তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। নদী পারাপারের জন্য ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে গত সপ্তাহ থেকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে ফেরি পারাপার। স্রোতের তীব্রতায় ফেরিগুলো পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় নিচ্ছে। এতে করে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নদী পারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে শত শত যানবাহনকে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563682142902.jpg
রোববার (২১ জুলাই) সকালে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদী পারের জন্য টার্মিনাল ও সড়কে অবস্থান করছে প্রায় ৪ শতাধিক যানবাহন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফেরি চালক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এই নৌরুটের বেশির ভাগ ফেরি এত পুরাতন যে, নদীতে একটু স্রোত হলেই তা আর চলতে পারে না। ইঞ্জিনগুলো খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে নদী পার হতে সময় লাগার কথা ৩০-৩৫ মিনিট। কিন্তু এখন লাগছে প্রায় এক ঘণ্টা করে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআাইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ফলে নদী পার হতে যেখানে ৩০-৩৫ মিনিট সময় লাগত সেখানে এখন লাগছে প্রায় ১ ঘণ্টা। বেশি সময় লাগার কারণে নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে যানবাহনগুলো। আটকেপড়া যানবাহনগুলো দ্রুত নদী পার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাটুরিয়ায় ঘাটে যানবাহনের চাপ কমেছে

পাটুরিয়ায় ঘাটে যানবাহনের চাপ কমেছে
যাত্রীবাহী বাসের ভিড় নেই, ট্রাকগুলো ধীরে ধীরে পার হচ্ছে পাটুরিয়া ঘাটে/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রায় সপ্তাহ খানেক ভোগান্তির পর যানবাহনের চাপ কমেছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। স্বাভাবিক হতে শুরু হয়েছে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার। পদ্মা নদীতে আগের মতো স্রোত থাকলেও যমুনা নদীর পানি রয়েছে স্থিতিশীল।

এতে করে ধীরে ধীরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। নদীতে স্রোত কমে গেলে ছোট বড় মিলে ১৫টি ফেরি অনায়াসে চলাচল করতে পারবে। ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার শুরু করতে পারলে ভোগান্তির কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

রোববার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন পারাপারে ভোগান্তি কমে এসেছে।

নদী পারের অপেক্ষায় যাত্রীবাহী বাসের অপেক্ষামাণ কোনো সারি নেই। ফেরিঘাট এলাকায় জমে থাকা ট্রাকগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী পারাপার করা হচ্ছে। সবশেষ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক নৌরুট পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছ্। রোববার দুপুর নাগাদ ট্রাকগুলো পার হবে বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানির স্তর পরিমাপক ফারুক হোসেন জানান, যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বাড়েনি। যমুনার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। শনিবার ভোর ৬টার তথ্য অনুযায়ী যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে বিদপসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এরপর আর যমনুার আরিচা পয়েন্টে পানি কমেনি বা বাড়েনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ভোগান্তির খবর পেয়ে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমে এসেছে। আবার নদীতে স্রোত আগের তুলনায় একটু কম দেখা যাচ্ছে। ফেরি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট বড় মিলে ১৫টি ফেরির মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি ফেরি চলাচল করতে পারছে। বাকিগুলো অলসভাবে বসে আছে। নদীতে স্রোত কমে আসলে সবগুলো ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। তখন যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে কোন ভোগান্তির সম্ভাবনা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র