Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

পা হারিয়েও থেমে নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল

পা হারিয়েও থেমে নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল
পা হারালেও এখনো বলে যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের গল্প, ছবি: বার্তা২৪
ইমরান হোসেন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বরগুনা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পা হারিয়ে চিকিৎসা করাতে না পেরে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন বরগুনার এক মুক্তিযোদ্ধা। সহায়তার জন্য আবেদন করেও সহায়তা পাননি। তবে থেমে যাননি ওই মুক্তিযোদ্ধা। অসুস্থ শরীর নিয়ে গড়ে তুলেছেন মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্র ৯ম সেক্টর ১৯৭১। লিখেছেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই। নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া গ্রামের হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম মুকুল। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে নবম সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করে পাথরঘাটায় রায়হানপুর ইউনিয়নে সর্বপ্রথম লাল সবুজ পতাকা উড়ান তিনি। এর পরেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা শুরু করেন অনেক বই। নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেন মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্র ৯ম সেক্টর ১৯৭১।

পা হারিয়েও থেমে নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল: বার্তা২৪.কম

তবে ভাগ্যের নির্মমতায় ২০১৭ সালে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক পা হারান মুকুল। প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার চিকিৎসা। তবে থেমে যাননি মুকুল। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

শারমিন, নাদিরা মিম, মিতু, আফরিন, মৌরিন, সাইফুল, তকদির, সোহেলসহ পাথরঘাটার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মুকুলের কাছে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আসেন তারা। তার মুখেই শোনেন মুক্তিযুদ্ধের নানান ঘটনা।’

পা হারিয়েও থেমে নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল: বার্তা২৪.কম

পাথরঘাটা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল খালেক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মুকুল দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। দেশ স্বাধীন করেও সে এখন পরাজিত। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের কাছে ঘুরেছেন। তবে মেলেনি সহায়তা।’

আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা মুকুল পা হারিয়েও থেমে থাকেনি। গড়ে তুলেছেন মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্র ৯ম সেক্টর ১৯৭১। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব গাঁথার এখনই সময় নামে একটি পাণ্ডুলিপি। লিখেছেন বেশ কিছু বই। তবে সরকারের উচিত মুকুলকে সহায়তা করা।’

পা হারিয়েও থেমে নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল: বার্তা২৪.কম

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মুকুল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছিলাম। তবে দেড় বছর পার হলেও এখনো সহায়তা পাইনি। নিয়তির কাছে হয়তো এক সময় হেরেই যাবো আমি। এই গবেষণা কেন্দ্রটিও বিলুপ্তি হয়ে যাবে, যদি সরকার হস্তক্ষেপ না করে।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অতিদ্রুত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মুকুলকে সহায়তা করা হবে। আর মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্র ৯ম সেক্টর ১৯৭১ যাতে বন্ধ না হয় সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিবেন তিনি।’

উল্লেখ্য, উপজেলার ইজারার টাকা থেকে ৪% টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য রাখা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফিতানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গত ৯ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ মোট দশদিন বন্দরে সকাল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

তবে বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা, ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের চুনিয়াখালিপাড়া মহল্লার কাপড় ব্যবসায়ী আল মুবিন জনের স্ত্রী রুমকি পারভীন (২৬) ও একমাত্র কন্যা জাহরা খাতুন (৩) বেড়াতে গিয়ে চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনার পর গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে ব্যবসায়ী আল মুবিন শাহজাদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।

এই বিষয়ে আল মুবিন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ভেরুয়াদহ গ্রামে খালার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ রুমকির মা জিনাত রেহানা রিনা বলেন, 'নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর বগুড়া থেকে বুলবুল তালুকদার নামের এক যুবক আমার বোন জাহানারা বেগম মিনির কাছে ফোন দিয়ে জানায়, রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুন তার হেফাজতে আছে। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।'

আল মুবিন জানান, মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে ওই যুবক তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে না পারলে তাদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আমরা নিখোঁজ রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের উদ্ধারে সক্ষম হব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র