Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রতিবন্ধী তিন কন্যা, দিশেহারা বাবা-মা

প্রতিবন্ধী তিন কন্যা, দিশেহারা বাবা-মা
প্রতিবন্ধী তিন মেয়ের সাথে রিজিয়া বেগম, ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
চাঁপাইনবাবগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

জন্মই যেন আজন্ম পাপ লিপিআরা, লতামনি ও ঝুমুরের। জন্ম স্বাভাবিক হলেও, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অজানা রোগে শারীরিক, মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ডিমকইল এলাকার হতদরিদ্র নেকবর আলী ও রিজিয়া বেগমের তিন মেয়ে। তাদের হাঁটা-চলার শক্তি না থাকার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত আক্রান্ত তারা হচ্ছে নানাবিধ রোগে। 

একদিকে অভাবের সংসার, অন্যদিকে অসুস্থ সন্তানদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারটি। অসুস্থ সন্তানদের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে বিক্রি করতে হয়েছে জমি-জিরাত সবই। খরচ মেটাতে না পেরে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসাও। হত দরিদ্র এই বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা তাদের অবর্তমানে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এ অবস্থায় সন্তানদের চিকিৎসায় সরকার ও বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তারা। 

তিন কন্যা সন্তানের মা মোছাম্মত রিজিয়া বেগম জানান, অন্যরকম এক জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাদের বড় মেয়ে লিপির বয়স ৩০, মেজো মেয়ে লতামনির মেয়ের বয়স ২৭ ও ছোট মেয়ে ঝুমুরের বয়স ২২। তারা তিনজনই জন্মের পর থেকে শারিরীক, মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী। তিনটি সন্তানেরই হাত-পা বিকলাঙ্গ। হাঁটা চলারও নেই কোন শক্তি। এছাড়াও ধীরে ধীরে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।

মেয়েদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এরই মধ্যে জায়গা-জমি বিক্রি করে প্রায় নিঃস্ব পরিবারটি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে তাদের প্রতিবন্ধী ভাতা চালু থাকলেও তা একেবারেই নগন্য। তাদের সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

অপর দিকে তাদের এই অবস্থার মধ্যে নতুন করে নানান রোগে আক্রান্ত হয়েছেন পিতা নেকবর আলী। তিনি ডায়বেটিসসহ নানান রোগে ভুগছেন। বর্তমানে পায়ের আঙ্গুলে পচন ধরে রাজশাহীর ডায়বেটিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেখানে অপারেশনের মাধ্যমে দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলতে হয়েছে। তার খরচ যোগাতে গিয়ে আরও বিপদে পড়েছে পরিবারটি। অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে, অর্থ সংকটের কারনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে তার চিকিৎসা সেবাও।

নেজামপুর ইনিয়নের ৭নং ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টায় তাদের প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়েছে। সে ভাতার টাকা দিয়ে তিনজনের খরচ বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। 

সরকার ও বিত্তবানদের সহায়তা পেলে আর দশটা মানুষের মত স্বাভাবিক জীবন না পেলেও, হয়তো লিপিআরা, লতামনি ও ঝুমুরের সুনিশ্চিত ভবিষৎ নিশ্চিত করা যেত, এমন প্রত্যাশায় দিন কাটে পরিবারটির।

আপনার মতামত লিখুন :

বেনাপোলে পণ্য পরীক্ষণ জটিলতায় লোকসানে ব্যবসায়ীরা

বেনাপোলে পণ্য পরীক্ষণ জটিলতায় লোকসানে ব্যবসায়ীরা
বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের ফাইল ছবি

বেনাপোল স্থলবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৪৭ বছর আগে। তবে পথ চলার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বন্দরটি এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষত কেমিক্যাল ও খাদ্যদ্রব্য পরীক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই এ বন্দরে।

এতে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়া। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে ভোক্তার ওপর।

ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরের বাইরে থেকে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করিয়ে রেজাল্ট আসতে কখনও কখনও মাসের অধিক সময়ও লেগে যায়। এতে তারা যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হন তেমনি বন্দরে লম্বা সময় পণ্য চালান আটকে থেকে গুণগত মানও নষ্ট হয়। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দাতা এ বন্দরে পণ্য পরীক্ষণের নিজস্ব ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, পরীক্ষাগার স্থাপনের বিষয়টি ইতিমধ্যে তারা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ আসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। এ পথে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে, যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে। বন্দরে আমদানি পণ্য খালাসের অন্যতম শর্ত পণ্য পরীক্ষণ। এ বন্দর দিয়ে সাড়ে তিন শতাধিক আইটেমের পণ্য আমদানি হয়। যার মধ্যে খাদ্যদ্যব্যের কাঁচামাল, কসমেটিকস ও শিল্প কারখানার কেমিক্যাল জাতীয় ৫৫টি পণ্য পরীক্ষণ সার্টিফিকেট ছাড়া খালাস করা হয় না। কিন্তু পণ্য পরীক্ষণের ভালো কোন ব্যবস্থা নেই বেনাপোল বন্দরে। ফলে আমদানি করা খাদ্যদ্রব্য, খাদ্যদ্রব্যের কাঁচামাল, কসমেটিকস ও শিল্প কারখানার কেমিক্যাল বাইরে থেকে পরীক্ষণে মাসের অধিক সময় নষ্ট হয়। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

আমদানিকারক উজ্জ্বল বিশ্বাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে যে সব পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয় তার বড় একটি অংশ ক্যেমিক্যাল আর শিশুখাদ্য। বন্দরে পণ্য পরীক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় খুলনা বা ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে ১৫ থেকে ২০ দিন আবার কখনও মাসের অধিক সময় লেগে যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্য বন্দরে পড়ে থাকায় অনেক সময় মানও নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি আমদানি পণ্য বন্দর শেডে বা ট্রাকে রেখে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ব্যবসায়ীদের। যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বার্তাটোয়েন্টিফোরকে বলেন, বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআর-এর যে মারাত্মক সমস্যা তা নিরসন হওয়া দরকার। এটা বড় সদস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি পণ্য চালান আমদানি করতে এলসিসহ ধাপে ধাপে বিভিন্ন খরচ আছে। যদি পরীক্ষণ সমস্যায় লম্বা সময় পণ্য চালান আটকে থাকে তবে সব খরচ ব্যবসায়ীর ঘাড়ের ওপর পড়ে। আর যদি সময়মতো কাঁচামাল কারখানায় না পৌঁছায় তবে তা কাজে লাগাতে পারেন না ব্যবসায়ীরা।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, পরীক্ষা করাতে হয় এমন অনেক পণ্য ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে রফতানি হয়। কিন্তু সেখানে ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পণ্যের রিপোর্ট ই-মেইলের মাধ্যমে চলে আসে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য বেনাপোল বন্দরে এ সুবিধা নাই। চট্রগ্রাম বন্দরে ৫৫টি পণ্যের বাইরে যদি কোন খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয় তবে মানুষের খাবারের উপযোগী এমন সার্টিফিকেট দিলে ওই পণ্য পুনরায় আর পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। চট্টগ্রামে যদি ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা পান তবে বেনাপোল বন্দরে সেই সুবিধার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দিক-নির্দেশনার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

বেনাপোলের কাস্টমস কমিশনার মুহাম্মদ বেলাল হুসাইন চৌধুরী জানান, চট্রগ্রাম বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআর’র শাখা আছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে এ সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়ে আসছেন। এতে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রভাব পড়ে বাজারে ভোক্তার ওপর। বেনাপোল বন্দরে কাস্টমস হাউজে স্বল্পপরিসরে বিএসটিআই-এর একটি শাখা চালু হয়েছে। তবে বিসিএসআইআর-সহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখাও যাতে দ্রুত স্থাপন হয় তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

পঞ্চগড়ে তিস্তায় ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

পঞ্চগড়ে তিস্তায় ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
তিস্তা নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশু

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীতে নিখোঁজের প্রায় ৭ ঘণ্টা পর আব্দুল্লাহ (৯) ও শাওন (৬) নামে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলাধীন টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী চিলাহাটিপাড়া এলাকার তিস্তা নদী থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে এবং নিহত অপর শিশু শাওন একই এলাকার আলিউল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে আব্দুল্লাহ ও শাওন খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে তারা দুজন বাড়িতে না ফিরলে উভয়ের পরিবার তাদের খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী তিস্তা নদীর পাড়ে তাদের কাপড় দেখতে পায়।

স্থানীয়রা নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে দুই শিশুকে না পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা খোঁজাখুজির পর রাত সোয়া ১২টায় আব্দুল্লাহ ও শাওনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান সরকার বার্তাটয়েন্টিফোর.কমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র