Alexa

প্রতিবন্ধী তিন কন্যা, দিশেহারা বাবা-মা

প্রতিবন্ধী তিন কন্যা, দিশেহারা বাবা-মা

প্রতিবন্ধী তিন মেয়ের সাথে রিজিয়া বেগম, ছবি: বার্তা২৪.কম

জন্মই যেন আজন্ম পাপ লিপিআরা, লতামনি ও ঝুমুরের। জন্ম স্বাভাবিক হলেও, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অজানা রোগে শারীরিক, মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ডিমকইল এলাকার হতদরিদ্র নেকবর আলী ও রিজিয়া বেগমের তিন মেয়ে। তাদের হাঁটা-চলার শক্তি না থাকার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত আক্রান্ত তারা হচ্ছে নানাবিধ রোগে। 

একদিকে অভাবের সংসার, অন্যদিকে অসুস্থ সন্তানদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারটি। অসুস্থ সন্তানদের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে বিক্রি করতে হয়েছে জমি-জিরাত সবই। খরচ মেটাতে না পেরে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসাও। হত দরিদ্র এই বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা তাদের অবর্তমানে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এ অবস্থায় সন্তানদের চিকিৎসায় সরকার ও বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তারা। 

তিন কন্যা সন্তানের মা মোছাম্মত রিজিয়া বেগম জানান, অন্যরকম এক জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাদের বড় মেয়ে লিপির বয়স ৩০, মেজো মেয়ে লতামনির মেয়ের বয়স ২৭ ও ছোট মেয়ে ঝুমুরের বয়স ২২। তারা তিনজনই জন্মের পর থেকে শারিরীক, মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী। তিনটি সন্তানেরই হাত-পা বিকলাঙ্গ। হাঁটা চলারও নেই কোন শক্তি। এছাড়াও ধীরে ধীরে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।

মেয়েদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এরই মধ্যে জায়গা-জমি বিক্রি করে প্রায় নিঃস্ব পরিবারটি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে তাদের প্রতিবন্ধী ভাতা চালু থাকলেও তা একেবারেই নগন্য। তাদের সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

অপর দিকে তাদের এই অবস্থার মধ্যে নতুন করে নানান রোগে আক্রান্ত হয়েছেন পিতা নেকবর আলী। তিনি ডায়বেটিসসহ নানান রোগে ভুগছেন। বর্তমানে পায়ের আঙ্গুলে পচন ধরে রাজশাহীর ডায়বেটিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেখানে অপারেশনের মাধ্যমে দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলতে হয়েছে। তার খরচ যোগাতে গিয়ে আরও বিপদে পড়েছে পরিবারটি। অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে, অর্থ সংকটের কারনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে তার চিকিৎসা সেবাও।

নেজামপুর ইনিয়নের ৭নং ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টায় তাদের প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়েছে। সে ভাতার টাকা দিয়ে তিনজনের খরচ বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। 

সরকার ও বিত্তবানদের সহায়তা পেলে আর দশটা মানুষের মত স্বাভাবিক জীবন না পেলেও, হয়তো লিপিআরা, লতামনি ও ঝুমুরের সুনিশ্চিত ভবিষৎ নিশ্চিত করা যেত, এমন প্রত্যাশায় দিন কাটে পরিবারটির।

আপনার মতামত লিখুন :