Alexa

হবিগঞ্জে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে

হবিগঞ্জে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে

হবিগঞ্জের হাওরে ধান কাটছেন কৃষকরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

গেল দুই বছর আগাম বন্যার কারণে হাওরের বোরো ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি হবিগঞ্জের হাওরের কৃষকদের। তবে এ বছর কয়েকটি হাওর ছাড়া হবিগঞ্জের সবকয়টি হাওরে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এখানকার প্রতিটি হাওরেই সোনালি ধানের দোল খাওয়ানিতে উৎফুল্ল কৃষকের মন। যদিও আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।

ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের হাওরগুলোতে বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। পাকা ধান মাঠে সোনালি ঝিলিক দিলেও শ্রমিক সংকটের কারণে ঘরে তোলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। চড়া মজুরিতেও মিলছে না শ্রমিক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ১৫ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় আবাদ হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/25/1556190388062.gif
মাঠে পাকা ধান/ ছবি: বার্তা২৪.কম

এছাড়া বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি হেক্টর জমিতে তিন দশমিক ৯৫ মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চার দশমিক শূন্য ৫ মেট্রিক টন।

সেই অনুযায়ী জেলায় মোট বোরো ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেছিল চার লাখ ৫৪ হাজার ৭০৪ মেট্রিক টন। যা লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ধানের এমন ফলনে খুশি হবিগঞ্জের কৃষকরা। প্রচণ্ড তাপদাহেও কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান ধরে ধান কাটছেন কৃষকরা। আর নারীরা খলায় (ধান তোলার মাঠ) কাজ করছেন বিরামহীনভাবে।

এদিকে, উঁচু জমিতে ধানকাটা সবেমাত্র শুরু হলেও নিচুঁ এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বলছে, শ্রমিক সংকট না থাকলে এতদিনে ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে যেত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/25/1556190298329.gif
ধান কাটছেন কৃষকরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

এই ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী বার্ত২৪.কম-কে বলেন, ‘এ বছর ধানের ভালো ফলন হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া আগামী ১ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় ধান তোলা নিয়েও এতটা দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। যেহেতু নিচুঁ জমি নিয়েই সবচেয়ে বেশি শঙ্কা, সেহেতু আশা করা যাচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই নিচুঁ জমিগুলোর ধান কাটা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠের খোঁজখবর রাখছেন। সেই সাথে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন এই উপ-পরিচালক।

আপনার মতামত লিখুন :