Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

আলীকদমের দুর্ঘটনা পরিকল্পিত হত্যা দাবি নিহতের স্ত্রীর

আলীকদমের দুর্ঘটনা পরিকল্পিত হত্যা দাবি নিহতের স্ত্রীর
আলীকদমে জীপের চাপায় এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়/ ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বান্দরবান
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বান্দরবানের আলীকদমে জীপের চাপায় এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করছেন নিহত শাহেদুল ইসলামের স্ত্রী নিশাত আক্তার। পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে আলীকদম থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার আলীকদম উপজেলার কলারঝিরি সড়কে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে জীপ গাড়ি চাপায় শাহেদুল ইসলাম মারা যান। তিনি লামা উপজেলার বানিয়াছড়া বুড়ি চিকন ঘোনার বাসিন্দা লেদু মিয়ার পুত্র।

নিহতের স্ত্রী নিশাত আক্তার অভিযোগ করে বলছেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শাহেদুলের মৃত্যুর জন্য দায়ী উপজেলার উত্তর পালং পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ নূর, মোহাম্মদ নবী ও তাদের গাড়িচালক মোহাম্মদ সুজন। ঘটনার সময় গাড়ির মালিক মোহাম্মদ নবী গাড়িতেই ছিলেন।

নিশাত জানান, শাহেদুল গাড়ি থেকে নির্মাণ সামগ্রী নামাচ্ছিলেন। গাড়িটি তখন নির্মাণাধীন সড়কের উপরেই ছিল। মোহাম্মদ নবীদের মালিকানাধীন গাড়িটিকে সাইড দিতে দেরি হওয়ায় নূরের কথামত চালক সুজন সজোরে নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে শাহেদুল মারা যান। কিন্তু পুলিশ শুধু চালকের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম ও নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘নির্মাণ কাজ করার সময় সড়কটি বন্ধ রাখা হয়। এ সময় ঐ রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটি জিপ গাড়ি নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই পিকআপ ভ্যানকে সাইট দিতে বলে। একপর্যায়ে জিপের মালিক মোহাম্মদ নবীর নির্দেশে ডান-বাম না দেখে টান দিলে শাহেদুল ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। এ সময় ল্যান্ড ক্রুজারটি পাশের ভুট্টা ক্ষেতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন শাহেদ।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ বলেন, ‘এই ঘটনায় চালক সুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়, গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে হয় না। তবে নিহতের স্ত্রী চাইলে আদালতে মামলা করতে পারেন।’

এদিকে গাড়ির মালিক মোহাম্মদ নূর বলেন, ‘গাড়িটি ব্রেকফেল করে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাড়িতে তখন আমি কিংবা আমার ভাই মোহাম্মদ নবী কেউই ছিলাম না। আমি ছিলাম তখন ত্রিপুরা পাড়ায়। মোহাম্মদ নবী ছিল ঘটনাস্থল থেকে দূরে।’

আপনার মতামত লিখুন :

গিনেস বুকে নাম লেখানো হলো না কানাই লাল শর্মার

গিনেস বুকে নাম লেখানো হলো না কানাই লাল শর্মার
কানাই লাল শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

গিনেস বুকে নাম লেখানো হলো না সাঁতারু ডা. কানাই লাল শর্মার। ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক লালদিঘিতে ৯০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট সাঁতার কেটে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরতলীর মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কানাই লাল শর্মা।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। দুপুর আড়াইটার সময় কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

১৯৩০ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কানাইলাল শর্মা। তার বাবা স্বর্গীয় অভিমন্যু শর্মা। কানাইলাল শর্মা পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। কুষ্টিয়া শহরতলীর মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। তার স্বপ্ন ছিল সাঁতারে গিনেস বুকে নাম লেখাবেন। তবে তার সে স্বপ্ন পূরণ হলো না।

আরও পড়ুন: গিনেস বুকে নাম লেখাতে চান কানাই লাল শর্মা

ধান-পাটের তুলনায় শসা চাষে ৪ গুণ বেশি লাভ

ধান-পাটের তুলনায় শসা চাষে ৪ গুণ বেশি লাভ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় নড়াইলে দিন দিন শসার আবাদ বাড়ছে। অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এখানকার কৃষকরা।

জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার আগদিয়া, বিছালী, মুসুড়ি, মুলিয়া, শেখহাটিসহ অন্তত ১০ গ্রামের কৃষকরা শসা চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। পেয়েছেন আর্থিক সচ্ছলতা, হয়েছেন স্বাবলম্বী।

শসা আবাদে জমি-মাচা তৈরি করা সহ এক একর জমিতে খরচ হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা। সেখানে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার শসা উৎপাদিত হয়। প্রতি শতক জমিতে খরচ হয় ৪শ থেকে ৫শ টাকা। আর সেখানে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার শসা উৎপাদিত হয়। বীজ রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা শুরু হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566194706129.jpg

এদিকে আবাদ ভালো হওয়ায় গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে শসা কেনাবেচার মৌসুমি আড়ত। কৃষকরা ক্ষেত থেকে শসা তুলে এনে আড়তে বিক্রি করছেন। এতে বেকার যুবক-নারীদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে এখানকার শসা।

আকদিয়া গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ধান বা পাট চাষে লাভ হয় না। ধান বা পাটের তুলনায় শসা চাষে ৩-৪ গুণ বেশি লাভ হয়। তাই শসা চাষ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পাইকারি প্রতি কেজি শসা বর্তমানে ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিছালী গ্রামের তপন বিশ্বাস জানান, শষা চাষে প্রতি শতক জমিতে খরচ হয় ৫শ থেকে ৬শ টাকা। আর খরচ বাদে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা লাভ হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566194764291.jpg

যশোর থেকে আসা পাইকারি শসা ক্রেতা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এখানকার শসা কিনে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করি। বর্তমানে পাইকারি প্রতি মণ শসা ১২শ থেকে ১৩শ টাকা দরে ক্রয় করে নিয়ে যাই। পরে ১৭শ থেকে ১৮শ টাকা দরে তা বিক্রি করি।’

নড়াইল শহরের রুপগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী বিন্দু বিশ্বাস জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে।

নড়াইল সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, জেলায় এ বছর ১৫০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেকেই শসা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র