Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

বোরকা পরে ধর্ষণ মামলার আসামি ধরলো পুলিশ!

বোরকা পরে ধর্ষণ মামলার আসামি ধরলো পুলিশ!
গ্রেফতারকৃত ধর্ষণ মামলার মূল আসামি শুকুর আলী/ ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট মৌলভীবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ১৭ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি শুকুর আলীকে (৩৫) ঘটনার ১০ দিন পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এই ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেফতার করতে বোরকা পরে রাস্তায় নামেন পুলিশের এক পুরুষ কনস্টেবল।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার থেকে পুলিশ একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে শুকুর আলীকে গ্রেফতার করে। এর আগে ঘটনার সাথে জড়িত অপর পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, পুলিশের কাছে আগেই খবর ছিল, গণধর্ষণ মামলার মূল আসামি রাজনগর থানা এলাকায় রয়েছেন। খবর পেয়েই কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে কৌশলী পুলিশ কর্মকর্তারা একটি পরিকল্পনা আঁটেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী এএসআই নাজমুলকে স্বামী, কনস্টেবল জুনায়েদকে কালো বোরকা পরিয়ে স্ত্রী সাজিয়ে অভিযানে নামে কুলাউড়া থানা পুলিশ। মোটরবাইকে করে চলতে থাকে শুকুর আলীকে বহনকারী সিএনজিকে লক্ষ করে। স্ত্রীর গায়ে সিএনজি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অজুহাতে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে চ্যালেঞ্জ করে ছদ্মবেশে থাকা এএসআই নাজমুল।

এ সময় সিএনজি থামিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী ছদ্মবেশী পুলিশের সাথে তর্কে লিপ্ত হন চালক। এক পর্যায়ে সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে শুকুর আলীকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে পুলিশ একই মামলার আসামী হাসান মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের পুসাইনগর ও জুড়ী উপজেলার ফুলতলা সীমান্ত এলাকা থেকে বিলাল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, সুজন মিয়া ও সুফিয়ান মিয়াকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে বিলাল ও জাহাঙ্গীর দালালের মাধ্যমে চোরাই পথে ভারতে পালানোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘গণধর্ষণের ঘটনার ১০ দিনের মাথায় মোট ছয় আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। তারা আদালতে এ ব্যাপারে জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।’

উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল রাতে কুলাউড়া পৌরসভাধীন আশুরিঘাট এলাকায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে সাত জন মিলে ধর্ষণ করেন এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন আসামিরা। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় শুকুর আলীকে প্রধান আসামি করে সাত জনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঐ দিন রাতেই হাসান আহমদ (২৪)-কে পুলিশ আটক করে।

আপনার মতামত লিখুন :

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মসজিদ খাদেমের মৃত্যু

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মসজিদ খাদেমের মৃত্যু
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নাম দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। সে শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকায় বসবাস করতেন এবং পূর্ব খাবাসপুর জামে মসজিদের খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের শেখ শফিউদ্দিনের ছেলে।

এতে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় মারা গেছে তিনজন।

স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার (১৬ আগস্ট) থেকে দেলোয়ার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রোববার (১৮ আগস্ট) রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় গতকাল রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ভোরে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার এক পর্যায়ে বেলা ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৩৪৬ জন, চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭১২ জন, অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে ১৬০ জনকে। ২০ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি হয়েছে ১২২৪ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ছয়জন।

প্রসঙ্গত, গত ৭২ ঘণ্টায় ফরিদপুরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাতটার দিকে মৃত্যুবরণকারী ওই রোগীর নাম ইউনুস শেখ (৫৫)। ইউনুস শেখ রাজবাড়ীর সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের আয়নাল শেখের ছেলে।

ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মাগুরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. মিজানুর রহমানের ছেলে ও স্থানীয় সত্যজিৎপুর কলেজের মানবিক বিভাগে দ্বাদশ বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন বাশার (২২) মারা যান।

গিনেস বুকে নাম লেখানো হলো না কানাই লাল শর্মার

গিনেস বুকে নাম লেখানো হলো না কানাই লাল শর্মার
কানাই লাল শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

গিনেস বুকে নাম লেখানো হলো না সাঁতারু ডা. কানাই লাল শর্মার। ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক লালদিঘিতে ৯০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট সাঁতার কেটে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরতলীর মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কানাই লাল শর্মা।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। দুপুর আড়াইটার সময় কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

১৯৩০ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কানাইলাল শর্মা। তার বাবা স্বর্গীয় অভিমন্যু শর্মা। কানাইলাল শর্মা পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। কুষ্টিয়া শহরতলীর মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। তার স্বপ্ন ছিল সাঁতারে গিনেস বুকে নাম লেখাবেন। তবে তার সে স্বপ্ন পূরণ হলো না।

আরও পড়ুন: গিনেস বুকে নাম লেখাতে চান কানাই লাল শর্মা

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র