Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

অবৈধ পাথর উত্তোলনে অস্তিত্ব সংকটে পঞ্চগড়ের ডাহুক নদী

অবৈধ পাথর উত্তোলনে অস্তিত্ব সংকটে পঞ্চগড়ের ডাহুক নদী
পাথর উত্তোলনের কাজ করছে শ্রমিকরা /ছবি: বার্তা২৪
মোহাম্মদ রনি মিয়াজী ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট পঞ্চগড়
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড় পাথরের রাজ্য নামে বেশ খ্যাত। কারণ এ জেলার কয়েকটি নদীতে নুড়ি পাথর পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্যতম তেঁতুলিয়ার ডাহুক নদী। কিন্তু এ নদীতে সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কারণে নদীটি গভীরতা ও গতিপথ হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ ডাহুক নদী এখন শুধু নব্যতা সংকটেই নয়, পড়েছে চরম অস্তিত্ব সংকটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাইকোর্টে নির্দেশ অমান্য করে সরকারি নিয়মনীতি না মেনে অপরিকল্পিতভাবে প্রাকৃতিক বিধ্বংসী অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে এ নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা বার্তা২৪.কমকে জানান, উপজেলাধীন শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, গুচ্ছ গ্রাম, লোহাকাচী, বালাবাড়ি, কালিতলাসহ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বালাবাড়ি, কাটাপাড়া, সরকারপাড়া ও হারাদিঘী এলাকায় ডাহুক নদীতে কয়েকশ প্রাকৃতিক বিধ্বংসী অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে কিছু অসাধু পাথর ব্যাবসায়ী। তারা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রশাসন ও স্থানীয় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতাকে ম্যানেজ করে রাতের আধারে এসব কাজ করছেন। ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মেশিনের বিকট শব্দে ঘুমাতে পারে না এলাকাবাসী।

পঞ্চগড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও নদীর গতিপথ নিশ্চিত করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন কাজ করে আসছে। তারা অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ ও নদীর গতি পথ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন, সচেতনতামূলক মাইকিং, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ, পথনাটকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন নাটকীয়তায় এই মেশিনগুলো বন্ধ হলেও কিছুদিন পর আবারও চালু হয় বলে জানা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/29/1556496609266.jpg

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন জাগ্রত তেঁতুলিয়ার সদস্য রাব্বী ইমন বার্তা২৪.কমকে বলেন ‘আমরা নদীর গতি পথ নিশ্চিত করার দাবিতে ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর তোলা বন্ধ করার জন্য অনেক কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয় ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন।’

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা ডাহুক নদীর সীমানা খুজে পাচ্ছি না। ফলে আমরা অভিযান চালাতে পারছি না। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যদি নদীর নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে তাহলে পরবর্তীতে নদীর গতিপথ বন্ধ করে কেউ পাথর উত্তোলন করলে আমরা ব্যবস্থা নিব।’

এদিকে পঞ্চগড় জেলা নদী সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব ও পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পঞ্চগড়ের নদীর সীমানা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় মৌজা ম্যাপ ও জনবল সংকটের কারণে নদীর সীমানা চিহ্নিত করার কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

শেরপুরে বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা

শেরপুরে বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা
শেরপুরের ম্যাপ

শেরপুরে ফরিদা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর পৌর এলাকার গৌরিপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফরিদা ওই এলাকার মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী।

নিহতের নাতি শিহাব বলেন, ‘আমি শেরপুরে একটি মোটরসাইকেল শো-রুমে কাজ শেষে বাসায় যাই। এসময় ঘরে সামনে গিয়ে দরজা খোলার জন্য দাদীকে ডাকাডাকি করি। কিন্তু তিনি দরজা না খোলায় পাশের বাসা থেকে হাতুড়ি এনে তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দাদীকে গলা কাটা অবস্থায় পাই। এরপর চিকৎকার করলে আশপাশের লোকজন আসে। আমি আর কিছু জানি না।’

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা বৃদ্ধার গলা কেটে রেখেছে আমরা ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।

গুড়ায় গভীর রাতে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও-ওসি

গুড়ায় গভীর রাতে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও-ওসি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গভীর রাতে বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় এই দুই কর্মকর্তা হাজির হন মির্জাপুর ইউনিয়নের মাড়র খোলা গ্রামের আকিমুদ্দিনের বাড়িতে। কেননা সেখানে গভীর রাতে আয়োজন করা হয়েছিল নবম শ্রেনীর ছাত্রী আদরী খাতুনের (১৩)। বর পার্শ্ববর্তী ভাদরা গ্রামের মহসিনের ছেলে ইকবাল হোসেন (১৬)।

বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কাজী সাহেব এমন সময় সেখানে হাজির হন ইউএনও লিয়াকত আলী শেখ ও শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর।

তাদেরকে দেখে বাল্য বিয়ের প্রস্তুতি ভন্ডুল হয়ে যায় মুহুর্তের মধ্যে। এসময় মেয়ের বাবা আকিমুদ্দিন তার মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না মর্মে অঙ্গীকার নামা দেন।

এছাড়া বরকে ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং মেয়েকে আটকের পর বয়স বিবেচনা করে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। ছেলের বাবা ও কাজী সাহেবের অর্থ দণ্ড করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও লিয়াকত আলী শেখ।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র