Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রাণ ভয়ে রঙ্গবিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামবাসী

প্রাণ ভয়ে রঙ্গবিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামবাসী
রঙ্গবিল। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট শেরপুর বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

৩০ এপ্রিল ১৯৭১ সাল। এই দিনে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর জগৎপুর গ্রামে পাকবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪৫ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। তখন আহত হয়েছিল অর্ধশত মানুষ, পাকবাহিনী জ্বালিয়ে দিয়েছিল জগৎপুর গ্রাম। এতে ২০০ এর বেশি বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। তবে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও এই গ্রামে শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিসৌধ। অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে শহীদদের গণকবর।

শেরপুর শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে ঝিনাইগাতী উপজেলার জগৎপুর গ্রাম। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক বাহিনী আর দেশীয় দোসররা গ্রামটিকে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে। আর গ্রামের মানুষ প্রাণ ভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাশের রঙ্গবিলে। সেদিনের বর্বরোচিত হামলায় নিহত হন ৪৫ জন।

ভয়াল সেই স্মৃতি বুকে নিয়ে নিরীহ গ্রামবাসী জানায়, সেদিন ছিল বাংলা ১৬ বৈশাখ, ৩০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৮টা। পাশের সংকর ঘোষ গ্রাম থেকে স্থানীয় রাজাকার মজিবর, বেলায়েত, নজর ও কালামের সহযোগিতায় পাক বাহিনী তিন দিক থেকে জগৎপুর ঘিরে ফেলে। পরে পাক বাহিনী নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। এ সময় কোনো কিছু না বুঝেই জীবন বাঁচাতে রঙ্গবিলের দিকে দৌড়ে পালাতে থাকে স্থানীয়রা। ওই ঘটনায় ৪৫ জন গ্রামবাসী শহীদ হন।

শুধু গুলি করে গ্রামবাসীকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাক সেনারা। তারা শূন্য গ্রামের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনার প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর পাক সেনারা চলে যায়।

পরে স্থানীয়রা ফিরে এসে লাশগুলো একটি জঙ্গলের কাছে গণকবর দেয়। ওই গণ কবরের পাশেই বর্তমানে হিন্দুদের শ্মশান ঘাট রয়েছে। কিন্তু ওই গণকবরের স্থানটি আজো সংরক্ষিত না করার জন্য ক্ষোভ রয়েছে গ্রামবাসীর। শুধু গণকবরে স্মৃতিসৌধ তৈরিই নয়, সেদিনের হত্যাকাণ্ডে কতজন প্রাণ দিয়েছিলেন এর সঠিক তালিকা নির্ণয় করার দাবিও জানিয়েছে স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন :

হাতকড়া না পরানোয় ৫ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

হাতকড়া না পরানোয় ৫ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার
ছবি: প্রতীকী

বাগেরহাটে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে কোর্ট পুলিশের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ওই কোর্ট পুলিশের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

ওই পুলিশ সদস্যরা হলেন- কোর্ট পুলিশের দুইজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ কনস্টেবল (সদস্য) রঞ্জিত, আবুল হোসেন ও আব্দুস সোবাহান।

জানা গেছে, ১১০ কোটি টাকা পাচার মামলার আসামি বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল স্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মান্নান তালুকদারকে কারাগারে নেয়ার পথে হাতে হাতকড়া না পরানো ও প্রিজনভ্যানে না নিয়ে আসামির ব্যক্তিগত গাড়িতে করে জেলা কারাগারের ফটকে পৌঁছে দেয় ওই পাঁচ কোর্ট পুলিশ। এ কারণে তাদের প্রত্যাহার করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়। মঙ্গলবার বাগেরহাট আদালত থেকে তাদের প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, বাগেরহাট আদালতে দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে কর্তব্য কাজে অবহেলা করেছেন। তাই আদালতে কর্মরত ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, সোমবার বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল স্টেটের ব্যবস্থাপনা এমডি আব্দুল মান্নান তালুকদার দুদকের করা ১১০ কোটি টাকা পাচারের একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর আব্দুল মান্নান তালুকদারকে কারাগারে নেয়ার পথে হাতে হাতকড়া না পরানো এবং পুলিশের প্রিজনভ্যান ছাড়া আসামির ব্যক্তিগত গাড়িতে করে জেলা-কারাগারের ফটকে পৌঁছে দেয় ওই পাঁচ কোর্ট পুলিশ।

সিলেটের চার জেলার বন্যা পরিদর্শনে যাচ্ছেন দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

সিলেটের চার জেলার বন্যা পরিদর্শনে যাচ্ছেন দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

সিলেটের চার জেলায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. মো. এনামুর রহমান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একে এম এনামুল হক শামীম। তাদের সঙ্গে আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল। এছাড়াও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকবেন।

আগামী ১৭ ও ১৮ জুলাই সিলেটের চার জেলায় বন্যা কবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান। তিনি বলেন, ‘দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সচিব, আঞ্চলিক উপপরিচালকসহ (ডিডি) গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা থাকবেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563283924368.jpg

১৭ জুলাই বুধবার ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন তারা। ওইদিন সকালে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। পরে বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বিভিন্ন বন্যা কবলিত স্থান পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই দিন সন্ধ্যায় সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে রাত ৮টার দিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ওইদিন সিলেট সার্কিট হাউজে রাত্রীযাপন করবেন তারা।

পরদিন ১৮ জুলাই সিলেট থেকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র