Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৩৫ বছরে মে দিবসে ছুটি পাননি নৌবন্দরের শ্রমিকরা

৩৫ বছরে মে দিবসে ছুটি পাননি নৌবন্দরের শ্রমিকরা
৩৫ বছরে মে দিবসে ছুটি পাননি নৌবন্দরের শ্রমিকরা। ছবি: বার্তা২৪.কম
আল মামুন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মহান মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস আজ (১ মে)। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন আজ। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের নৌবন্দরের দুই সহস্রাধিক শ্রমিক জানেন না মে দিবস কিংবা শ্রম দিবস কী। ৩৫ বছরের মধ্যে কখনো এই দিবসে ছুটি পাননি এখানে কর্মরত শ্রমিকরা।

মে দিবসে শ্রমিকদের জন্য সরকারিভাবে বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনের মতো কাজ করতে হয় তাদের। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ ও হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা। এখানে কর্মরত শ্রমিকরা দিন রাত বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে কাজ করেন। যুগের পর যুগ কাজ করে গেলেও কখনো তাদের কেউ বলেননি মে দিবসের কথা।

সরেজমিনে জেলার আশুগঞ্জের নৌবন্দরে গিয়ে জানা যায়, আশুগঞ্জ নৌবন্দরের গোড়াপত্তনের শুরু থেকেই জাহাজের বিভিন্ন পণ্য খালাসের কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। এখানে রেলপথ, নৌপথ ও সড়ক পথে বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এ কারণে এ বন্দরের গুরুত্ব অনেক। পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে শ্রমিকের সংখ্যা। বর্তমানে এই বন্দরে দুই সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করেন।

এদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, সাতক্ষীরা, নওগাঁ ও ময়মনসিংহসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। এসব শ্রমিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য জাহাজ থেকে ওঠানো ও নামানোর কাজ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জাহাজের শ্রমিকরাও এই বন্দরে কাজ করেন।

এই বন্দরে কাজ করতে আসা বিভিন্ন শ্রমিক জানান, মে দিবস সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। কোনো দিবসেই তারা বন্ধ পান না। শুধুমাত্র বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেই বন্ধ পান তারা।

এই বন্দরের শ্রমিকদের সরদার মো. আলমগীর হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ এখানে কাজ করছি। কিন্তু কখনোই কোনো মালিক আমাদের মে দিবসের কথা বলেনি। শুনেছি শ্রমিকদের জন্য একটি দিবস আছে। আমরা এই দিবসে কখনো ছুটি পাই না। এছাড়া কাজ না থাকলে আমাদের সংসার চলে না। তাই আমরাও কাজ বন্ধ রেখে চলতে পারি না।’

বন্দরে কাজ করতে আসা কিশোরগঞ্জের আমির হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি প্রায় ৫ বছর যাবৎ এই বন্দরে কাজ করছি। এর মধ্যে আমাকে কখনো কেউ মে দিবসের কথা বলেনি। আমরা শ্রমিক, তাই প্রতিদিন কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। মালিকরা যদি আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করত, তাহলে আমরা হয়তো দিনটি পালন করতে পারতাম।’

আরেক শ্রমিক খুরশিদ মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দিনটি সম্পর্কে শুনেছি। তবে আমরা কখনো এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করতে পারি নাই। আমাদেরকে কোনো প্রকার সুযোগ দেয়া হয় না। আমরাও এই দিবসটি পালন করতে চাই। পাশাপাশি ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও আমরা পেতে চাই।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি এ.কে.এম হাবিবুল্লাহ বাহার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নৌবন্দরের শ্রমিকদের কোনো সংগঠন নাই। পাশাপাশি তারা কোনো বেতনভুক্ত শ্রমিকও নয়। এ কারণে তাদের এই সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করব মে দিবসে তারা যেন ছুটি পায়।’

আশুগঞ্জ উপজেলার শ্রম কল্যাণ সংগঠক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সকলকেই মে দিবসের কথা জানানোর চেষ্টা করেছি।’

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজিমুল হায়দার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমরা এ বিষয়গুলো শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নৌবন্দরের শ্রমিকদের অবগত ও সচেতন করার জন্য কাজ করব। পাশাপাশি শ্রমিকরা যেন তাদের ন্যায্য অধিকার ও বেতন-ভাতা পায় সেজন্য আমরা কাজ করব।’

আপনার মতামত লিখুন :

কচুয়ায় খাল দখলের হিড়িক

কচুয়ায় খাল দখলের হিড়িক
খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ভূমি কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে অধিকাংশ ছোট ও বড় খাল স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। একজনকে দখল করতে দেখে অন্যরাও খাল ভরাট করে সেখানে ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। তবে খাল দখলের এমন হিড়িকে নীরব ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কচুয়া বাজার খাল, হাজীগঞ্জ খাল, পরানপুর খাল, সাচার খাল, নায়েরগাঁ খাল, বড়দৈল খাল, রঘুনাথপুর খাল, কাপিলা বাড়ি খাল, বাখৈইয়া খাল, সাপলোলা খাল ও সুন্দরী খালসহ বেশকিছু খাল দখল করে নিয়েছে স্থানীয়রা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563367358595.jpg

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, খালের উপরে কেউ বাঁধ নির্মাণ করে বাড়িতে আসা যাওয়ার পথ তৈরি করেছে, আবার কোথাও কোথাও খাল ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

এতে খালের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাঠে ঘাটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে ফসল উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমন দে জানান, খালগুলো দখলমুক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি মাস থেকে খালগুলো উদ্ধারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
প্রতীকী ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুলাই) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমানগন্ডা ও কালির বাজার এলাকায় এ দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার পূর্ব ধনমুড়ির ওবায়েদুল্লাহর ছেলে নুরুল আলম জাবলু (৩৫), প্রাণ গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের পড়ুয়া গ্রামের জুয়েল মোল্লার ছেলে জোবায়ের (২১) ও ফেনী জেলার কুমিড়া গ্রামের গিত্তলাল দাসের ছেলে শিমুল দাস (২০)।

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, সকাল ৯টার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা থেকে বাই সাইকেলে করে মিয়াবাজার যাচ্ছিলেন জোবায়ের ও শিমুল। পথে মহাসড়কের আমানগন্ডা এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় তারা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই শিমুল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জোবায়ের মারা যান।

অপরদিকে কালির বাজার এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মানসিক প্রতিবন্ধী নুরুল আলম জাবলু নিহত হন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র