Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মে দিবসেও ছুটি পাননি তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিকরা

মে দিবসেও ছুটি পাননি তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিকরা
নিজেদের এ দিবসেও কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম
মোহাম্মদ রনি মিয়াজী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
পঞ্চগড়
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমিকদের কাছে মর্যাদাপূর্ণ এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে নানা রকম কর্মসূচি পালন করে থাকেন শ্রমিকরা৷ এ দিন শ্রমিকরা ছুটি কাটালেও দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা ছুটি থেকে বঞ্চিত। এদের কেউ কেউ মালিক কর্তৃক ছুটি পেলেও অনেকে পেটের দায়ে কাজ করছে।

জানা যায়, মে দিবস উপলক্ষে এ জেলায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ১৮৮৬ সালের এ দিনে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্ম বিরতি বা কিছু সময় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তেঁতুলিয়ায় প্রায় কয়েক শতাধিক শ্রমিক এ দিনটিতেও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

মে দিবসেও ছুটি পায়নি তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিকরা

সরেজমিনে, মেশিনে ভাঙ্গা পাথর নিয়ে বহুতল ভবনে শ্রমিকদের উঠতে দেখা যায়। এছাড়া পাথর সংশ্লিষ্ট কাজ করতে দেখা যায়।

কয়েকজন পাথর শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিবসটি শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক শ্রমিকই এ সম্পর্কে জানেন না।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার নারী পাথর শ্রমিক হাজেরা খাতুন বলেন, 'আমরা পেটের দায়ে কাজ করি, কাজ করলে মজুরি পাই। না করলে না খেয়ে থাকি। আজ মেশিন চালু হবে বলে কাজ করতে আসছি, নয়তো কাল অন্য কাউকে নিয়োগ দেবে মহাজন।'

মে দিবসেও ছুটি পায়নি তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিকরা

এ বিষয়ে দেবগড় এলাকার পাথর শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'মে দিবস কি আমরা জানি না। তবে অনেক লেবার আজ মিছিল করল। কেউ কাজ বন্ধ রাখছে আমরা কি করব। আমাদেরতো আজ মেশিন চালু তাই কাজ করছি, আমাদের পাথর ভাঙ্গা মেশিন শ্রমিকদের কোন সমিতি নাই যে মে দিবস পালন করব আমরা।'

মে দিবসেও ছুটি পায়নি তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিকরা

উপজেলার বুড়াবুড়ি এলাকার পাথর ব্যবসায়ী রাজু রহমান জানান, শ্রমিকরা আজ কেউ কাজ করবে বলে জানায় আমাদের। আমরা কিছু কিছু ব্যবসায়ী মেশিন চালু করছি তবে আমরা কাউকে বাধ্য করিনি আসতে।'

এ বিষয়ে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, 'আমরা ট্রাক লোড আন লোড শ্রমিকরা আজ মে দিবস পালন করছি। বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। কাজেই সব শ্রমিকদের ওপর মালিকদের সুদৃষ্টি সহ তাদের অধিকারের বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার।'

আপনার মতামত লিখুন :

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে
জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই, চলছে আমনের চারা রোপণ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে। জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই। একদিকে চলছে জমি চাষ অন্যদিকে চলছে চারা রোপণের কাজ। চারা এবং শ্রমিকের মূল্য কম থাকায় কেউ জমি ফেলে রাখছেন না। বোরো চাষের লোকসান আমন চাষের পুষিয়ে নেয়ার জন্যই কৃষকের এই উদ্যোগ। তবে এবার বন্যার কারণে বগুড়া জেলার পূর্ব অঞ্চলের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় আমন চাষ দেরিতে শুরু হবে।

বগুড়া জেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। এ কারণে কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর এক থেকে দেড় মাস জমি ফেলে রাখে। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু করেন। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকেই আগাম চাষের জন্য সেচ মেশিনের পানি দিয়ে আমন চাষ শুরু করেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, আমন চাষের মৌসুম পহেলা শ্রাবণ থেকে শুরু হয়। কিন্তু  আলু চাষের কারণে বগুড়া অঞ্চলের কৃষক ১৫-২০দিন আগে থেকেই আমন চাষের প্রস্তুতি নেন। এবার আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আগাম আমন চাষ করতে পারেন নি। তবে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক ঘরে বসে নেই।

গাবতলী উপজেলার খলিশাকুড়ি গ্রামের শাহিন ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, তিনি পেশায় গৃহ নির্মাণ শ্রমিক। অন্যের জমি পত্তন নিয়ে তিনি চাষাবাদ করেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় শ্রমিক না নিয়ে নিজেই আমন চারা রোপণ করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563539343944.gif

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বার্তা টোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এবার আমন চাষে খরচ তেমন হবে না। জমিতে পর্যাপ্ত পানি এবং ঘরের বীজ রয়েছে। শুধু চারা রোপণের শ্রমিক এবং জমি চাষের খরচ। পাওয়ার টিলার দিয়ে এক বিঘা জমি চাষ করতে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হয়। এবার শ্রমিকের দাম কম রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোন জমি ফাঁকা নেই, কেউ চাষ করছেন আবার কেউ চারা রোপণ করছেন।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বোরো চাষ করে লোকসান হয়েছে। দাম কম থাকায় এখনও ধান বিক্রি করা হয়নি। লোকসান পুষিয়ে নেয়ার জন্য এবার ১৭ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছি। আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু চাষ করব।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা শ্রাবণ থেকে আমন চাষ শুরু করা হয় এবং তা চলে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। এছাড়াও বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে এবার চরাঞ্চলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

 

নুসরাতের সেই মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা

নুসরাতের সেই মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় ১০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতেই মাদরাসার বিভিন্ন স্থানে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকালে মাদরাসাটি সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে আনার কাজ শেষ হয়।

এই মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তারপর থেকেই আলোচিত হয়ে ওঠে মাদরাসাটি। তবে সিসি ক্যামেরার স্থাপনের কারণে মাদরাসায় যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গভর্নিং বডির সর্বসম্মতিক্রমে মাদরাসা পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। আশা করি, এবার কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভিতে রেকর্ড থাকবে, কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র