Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজশাহী-রংপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ‘ফণী’

রাজশাহী-রংপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ‘ফণী’
ফোনি’র গতিপথ/ ছবি: সংগৃহীত
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী: সুপার সাইক্লোন ফণী’র বর্তমান গতিপথ অপরিবর্তিত থাকলে সেটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৪ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে রাজশাহী বিভাগ দিয়েএই ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং রংপুর বিভাগ হয়ে পরদিন সকাল নাগাদ ভারতের আসামে প্রশমিত হবে।

ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘উইন্ডি ডটকম’ (windy.com) থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণ থেকে এমন তথ্যই মিলছে। উইন্ডি’র তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৪ মে) বিকেল ৫টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র রাজশাহী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। রাত ৮টা নাগাদ ফোনি’র বগুড়ায় থাকার শঙ্কা রয়েছে। রাত ১১টায় রংপুর ও রাত ৩টায় নীলফামারী হয়ে এটি বাংলাদেশ অতিক্রম করে যাবে ভারতের আসামের দিকে।

এ ধরনের সুপার সাইক্লোনের কেন্দ্রে থাকার অভিজ্ঞতা দেশের উত্তরাঞ্চলের এই জেলাগুলোর এর আগে খুব বেশি একটা হয়নি। ফলে এনিয়ে সরকার উচ্চপর্যায় থেকে রাজশাহী ও রংপুরের বেশ কয়েকটি জেলার প্রশাসককে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কাজও করছে কয়েকটি জেলার প্রশাসন।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন তার ফেসবুক পেজে সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, ‘ফণী রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। সকলকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য জোর আহ্বান করছি।’

একই বার্তা দিয়ে সতর্ক করেছেন রাজশাহী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকও।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বুধবার (০১) রাতে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছে যে ঘূর্ণিঝড় ফণী’র গতিপথ বারবার পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর হয়ে রাজশাহীর ওপর দিয়ে দিনাজপুর পর্যন্ত প্রবাহিত হতে পারে। এজন্য সম্ভাব্য ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি রোধে মানুষক সতর্ক করা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটি করছি।’

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদফতরের উচ্চ পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরাও ফোনি’র গতিপথের দিকে নজর রাখছি। তবে ১ থেকে ২৫ নম্বর বুলেটিন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি পরিবর্তিত হওয়ার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঠিক কোন পথে ‘ফণী’ যাবে, এটা নিশ্চিত করতে আরও একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান বুধবার (০১ মে) রাতে জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হওয়া আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। স্থলভাগে প্রবেশের পর এর তীব্রতা বাড়তেও পারে।

অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফণী’র এখনকার গতিবেগ এবং পথ যদি ঠিক থাকে, তবে ভারতের উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শনিবার সকালে আমাদের দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও মোংলায় আঘাত করবে। এটি যশোর হয়ে রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত প্রবাহিত হতে পারে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

ছেলের বিয়ের বাজার শেষে বাড়ি ফেরা হলো না আজিজুলের

ছেলের বিয়ের বাজার শেষে বাড়ি ফেরা হলো না আজিজুলের
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-আলমসাধুর মুখোমুখি সংঘর্ষে আজিজুল হক (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকালে উপজেলার মুন্সিগঞ্জে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজ দামুড়হহুদা উপজেলার পুরাতন বাজার পাড়ার মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে।

নিহতের স্বজনেরা জানান, ছেলের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার কুষ্টিয়ার পোড়াদহে কেনাকাটা করতে যান আজিজুল। ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ফিরছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়।

মুন্সিগঞ্জের নিগার সিদ্দিক কলেজের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অবৈধ আলমসাধুর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে
জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই, চলছে আমনের চারা রোপণ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে। জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই। একদিকে চলছে জমি চাষ অন্যদিকে চলছে চারা রোপণের কাজ। চারা এবং শ্রমিকের মূল্য কম থাকায় কেউ জমি ফেলে রাখছেন না। বোরো চাষের লোকসান আমন চাষের পুষিয়ে নেয়ার জন্যই কৃষকের এই উদ্যোগ। তবে এবার বন্যার কারণে বগুড়া জেলার পূর্ব অঞ্চলের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় আমন চাষ দেরিতে শুরু হবে।

বগুড়া জেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। এ কারণে কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর এক থেকে দেড় মাস জমি ফেলে রাখে। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু করেন। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকেই আগাম চাষের জন্য সেচ মেশিনের পানি দিয়ে আমন চাষ শুরু করেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, আমন চাষের মৌসুম পহেলা শ্রাবণ থেকে শুরু হয়। কিন্তু  আলু চাষের কারণে বগুড়া অঞ্চলের কৃষক ১৫-২০দিন আগে থেকেই আমন চাষের প্রস্তুতি নেন। এবার আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আগাম আমন চাষ করতে পারেন নি। তবে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক ঘরে বসে নেই।

গাবতলী উপজেলার খলিশাকুড়ি গ্রামের শাহিন ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, তিনি পেশায় গৃহ নির্মাণ শ্রমিক। অন্যের জমি পত্তন নিয়ে তিনি চাষাবাদ করেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় শ্রমিক না নিয়ে নিজেই আমন চারা রোপণ করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563539343944.gif

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বার্তা টোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এবার আমন চাষে খরচ তেমন হবে না। জমিতে পর্যাপ্ত পানি এবং ঘরের বীজ রয়েছে। শুধু চারা রোপণের শ্রমিক এবং জমি চাষের খরচ। পাওয়ার টিলার দিয়ে এক বিঘা জমি চাষ করতে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হয়। এবার শ্রমিকের দাম কম রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোন জমি ফাঁকা নেই, কেউ চাষ করছেন আবার কেউ চারা রোপণ করছেন।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বোরো চাষ করে লোকসান হয়েছে। দাম কম থাকায় এখনও ধান বিক্রি করা হয়নি। লোকসান পুষিয়ে নেয়ার জন্য এবার ১৭ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছি। আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু চাষ করব।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা শ্রাবণ থেকে আমন চাষ শুরু করা হয় এবং তা চলে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। এছাড়াও বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে এবার চরাঞ্চলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র