Alexa

বাজারে সবজি-মাছ নেই, ভিড় মুরগির দোকানে

বাজারে সবজি-মাছ নেই, ভিড় মুরগির দোকানে

ছবি: বার্তা২৪.কম

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব পড়েছে নাটোরের বাজারগুলোতে। শনিবার (৪ মে) সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে বাজারে আসেনি শাক-সবজি। ফলে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে মুরগির বাজারে।

ব্রয়লারসহ বিভিন্ন মুরগির দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম।

বৈরী আবহাওয়ায় সকালে বাজারগুলোতে সবজি আনেননি বিক্রেতারা। তবে দুপুরের দিকে সবজি সরবরাহ একটু বাড়লেও ছিল না ক্রেতা।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের সর্ববৃহৎ নীচাবাজার, স্টেশনবাজার, মাদরাসা মোড় বাজার, হরিশপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতার সংখ্যা। দিনের শুরুতে বাজারগুলোতে সবজি ও মাছের সরবরাহ একেবারেই ছিল না। সকালের দিকে যারা বাজারে আসেন তাদের অনেকেই সবজি ও মাছ কিনতে না পেরে মুরগির মাংস কিনে ফিরে যান।

এ কারণে চাপ বাড়ে মুরগির বাজারে। ফলে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয় ব্রয়লারসহ দেশি ও পাকিস্তানি মুরগি।

গত দুইদিনের তুলনায় ১২০ টাকা কেজির ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি মুরগি কেজিতে বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দরে। এছাড়া অনান্য জাতের মুরগি কেজি প্রতি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

এদিকে শহরের নীচাবাজার ও স্টেশন বাজার এলাকায় হাতে গোনা দু-একটি দোকানে গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস কেজি প্রতি ৫০০ টাকা অপরিবর্তিত থাকলেও খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত ৫০ টাকা কম দামে। শনিবার দুপুরে নীচাবাজার কাঁচাবাজারে ৭০০ টাকা কেজির খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা দরে।

অপরদিকে নীচাবাজার ও স্টেশনবাজারে শনিবার দুপুর পর্যন্ত আসেনি কোনো মাছ। আগের দিন বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা কাতল ও ইলিশ ছাড়া অন্য কোনো মাছের দেখা মেলেনি। দুপুরে বিক্রির জন্য এসব মাছ আনা হলেও এ সময় ছিল না কোনো ক্রেতা। একই অবস্থা অন্য বাজারগুলোতেও।

নীচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা জয়নাল হোসেন জানান, বাজারে মাছ না আসায় ক্রেতারা মুরগি বেশি কিনেছে। চাপ বেশি পড়ায় দাম বেড়েছে।

গরুর মাংস বিক্রেতা সেলিম উদ্দীন জানান, তিনি শনিবার সকালে একটি গরু জবাই করে এনেছেন। তবে মাংসের দাম বাড়েনি বা কমেনি।

খাসির মাংসের বিক্রেতা আহসান আলী জানান, বাজারে মুরগির চাহিদা থাকায় কম দামেও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে না।

সবজি বিক্রেতা সলিম উদ্দীন জানান, বাজারে সবজি কম এসেছে।

দেওয়ান কাউয়ুম নামে এক ক্রেতা দুপুরে বাজারে আসেন। তিনি জানান, বাজার থেকে মাছ কিনতে পারেননি। তাই ডিম কিনে ফিরছেন তিনি।

নীচাবাজার কাঁচাবাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে বাজারে ক্রেতা ছিল না। যারা এসেছেন, তারা শাকসবজি না পেয়ে ফিরে গেছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাজারও স্বাভাবিক হবে।

আপনার মতামত লিখুন :