Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

ভালো নেই পায়রা পাড়ের মানুষ

ভালো নেই পায়রা পাড়ের মানুষ
ছবি: বার্তা২৪.কম
আব্দুস সালাম আরিফ
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পটুয়াখালী


  • Font increase
  • Font Decrease

গত এক বছরের অধিক সময় ধরে পায়রা নদী সংলগ্ন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৪ নং দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চারটি গ্রামের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। উচ্চ জোয়ারের পানি কিংবা অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় নির্ঘুম রাত কাটে এসব এলাকার মানুষের।

তবে এর সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। শুক্রবার (৩ মে) স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙা বেড়িবাঁধগুলো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শনিবার (৪ মে) এসব দুর্গত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেকের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা বাঁধের উপরে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা আবার শিশুদের নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন।

মেন্দিরাবাদ গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কৃষক রুহুল আমিন জানান, গত দেড় বছর আগে মেন্দিরাবাদ গ্রাম সংলগ্ন পায়রা পাড়ের বাঁধটি ভেঙে যায়। এর ফলে এখনো চরখালি, হাজী খালি এবং রানীপুর গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এসব এলাকার তিন শতাধিক পরিবার এখন প্রতিনিয়ত পানিবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করে। ফলে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে তাদের রান্নাবান্না করতে হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556981029814.gif

এছাড়াও এসব এলাকার প্রায় ৫০০ একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করলে আগামীতে আউশ এবং আমন আবাদ করা যাবে না বলেও জানান কৃষক রুহুল আমিন।

৪ নং দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের 8 নং ওয়ার্ডের মেম্বার খলিলুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে আবেদন করলেও ভাঙা বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে প্রতিনিয়ত তাদেরকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়।

তিনি আরও জানান, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই বেড়িবাঁধটি সংস্কার করা না হলে এই এলাকায় চরম বিপর্যয় দেখা দেবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান জানান, ২০১৮ সালের দিকে মির্জাগঞ্জের পায়রা নদী ভাঙনের কারণে ওই এলাকার বেড়িবাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নতুন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েক দফা এলাকা পরিদর্শন করলেও স্থানীয়রা জমি দিচ্ছে না। তাই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বছর নতুন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য তারা আবারো উদ্যোগ নেবেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র