Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

নড়াইলে চার মাসে ১০ হত্যা, আহত শতাধিক

নড়াইলে চার মাসে ১০ হত্যা, আহত শতাধিক
গত চার মাসে নড়াইলে ১০ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ছবি: বার্তা২৪.কম
শরিফুল ইসলাম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
নড়াইল
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নড়াইলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত চার মাসে ১০টি হত্যাকাণ্ডসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়, খুলনা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও অধিকাংশ আসামি রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২৮ এপ্রিল সকালে নড়াইলের লোহাগড়ায় শারোল গ্রামে লিকু শেখ (৪৫), ২৭ এপ্রিল নড়াইলের লোহাগড়ায় উপজেলা নির্বাচনের জের ধরে সৈয়দ মিজানুর রহমান (৫০), ২৬ এপ্রিল রাতে নড়াইল সদর উপজেলার শালিখা এলাকায় ডাবলু শেখ (৪৮), ৮ এপ্রিল নড়াইলের নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আজিজুর রহমান ওরফে কটাই শেখ (৪৫), ৭ মার্চ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামে ভাতিজার ইটের আঘাতে চাচা, ১৮ মার্চ নিখোঁজের দুইদিন পর নড়াইলে সাব্বির মোল্যা (১৪) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

এছাড়াও গত ১৫ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি এক ভ্যান চালক। পরে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৯ মার্চ নড়াইল সদর উপজেলার তারাশি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাম সিকদারকে (৬০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একইদিনে নড়াইলের লোহাগড়ায় অজ্ঞাত নারীর (৩০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৬ জানুয়ারি নড়াইলের নড়াগাতিতে ফাতেমা আক্তার (২২) নামে একজনকে হত্যা করে বড় ভাই রিপন মোল্যা। ৪ জানুয়ারি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারোল গ্রামের বৃদ্ধা হাজেরা বেগম (৯৫) নামে এক জনকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে জানান, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। পুলিশের পক্ষে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসন করা সম্ভব নয়। এ জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। তবে পুলিশ জেলার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

ধান-পাটের তুলনায় শসা চাষে ৪ গুণ বেশি লাভ

ধান-পাটের তুলনায় শসা চাষে ৪ গুণ বেশি লাভ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় নড়াইলে দিন দিন শসার আবাদ বাড়ছে। অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এখানকার কৃষকরা।

জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার আগদিয়া, বিছালী, মুসুড়ি, মুলিয়া, শেখহাটিসহ অন্তত ১০ গ্রামের কৃষকরা শসা চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। পেয়েছেন আর্থিক সচ্ছলতা, হয়েছেন স্বাবলম্বী।

শসা আবাদে জমি-মাচা তৈরি করা সহ এক একর জমিতে খরচ হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা। সেখানে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার শসা উৎপাদিত হয়। প্রতি শতক জমিতে খরচ হয় ৪শ থেকে ৫শ টাকা। আর সেখানে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার শসা উৎপাদিত হয়। বীজ রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা শুরু হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566194706129.jpg

এদিকে আবাদ ভালো হওয়ায় গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে শসা কেনাবেচার মৌসুমি আড়ত। কৃষকরা ক্ষেত থেকে শসা তুলে এনে আড়তে বিক্রি করছেন। এতে বেকার যুবক-নারীদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে এখানকার শসা।

আকদিয়া গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ধান বা পাট চাষে লাভ হয় না। ধান বা পাটের তুলনায় শসা চাষে ৩-৪ গুণ বেশি লাভ হয়। তাই শসা চাষ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পাইকারি প্রতি কেজি শসা বর্তমানে ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিছালী গ্রামের তপন বিশ্বাস জানান, শষা চাষে প্রতি শতক জমিতে খরচ হয় ৫শ থেকে ৬শ টাকা। আর খরচ বাদে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা লাভ হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566194764291.jpg

যশোর থেকে আসা পাইকারি শসা ক্রেতা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এখানকার শসা কিনে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করি। বর্তমানে পাইকারি প্রতি মণ শসা ১২শ থেকে ১৩শ টাকা দরে ক্রয় করে নিয়ে যাই। পরে ১৭শ থেকে ১৮শ টাকা দরে তা বিক্রি করি।’

নড়াইল শহরের রুপগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী বিন্দু বিশ্বাস জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে।

নড়াইল সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, জেলায় এ বছর ১৫০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেকেই শসা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফিতানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গত ৯ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ মোট দশদিন বন্দরে সকাল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

তবে বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র