Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন অ্যাম্বুলেন্স

হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন অ্যাম্বুলেন্স
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
হিলি (দিনাজপুর)


  • Font increase
  • Font Decrease

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে। দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এ অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন।

রোববার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার শাকিল মাহমুদের কাছে সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হারুন, পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম ডাবলু, যুবলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম লিটনসহ আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

ধারের টাকা আনতে গিয়েই খুন হন আলমগীর

ধারের টাকা আনতে গিয়েই খুন হন আলমগীর
নিহত ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন এক সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন আলমগীর হোসেন ও মেহেদি হাসান রুবেল। সেই সুবাধে আলমগীরের কাছ থেকে রুবেল ৬ লাখ টাকা ধার নেয়। ধারের টাকা আনতে গিয়েই খুন হন আলমগীর।

তিন লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে রুবেল একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আলমগীরকে নিয়ে বিভিন্নস্থানে ঘোরাঘুরি করে। তাদের সাথে ফয়েজ নামে এক ভাড়াটে খুনিও ছিল। আর অটোরিকশার পেছনের সিটে রুবেল ও ফয়েজের মাঝখানে বসা ছিল আলমগীর।

পরে দালালবাজার-রামগঞ্জ সড়কের মীরগঞ্জ এলাকায় চলন্ত অটোরিকশায় রুবেল হাত-পা চেপে ধরলে আলমগীরকে জবাই করে ফয়েজ। একপর্যায়ে আলমগীরের মরদেহ কাজিরদিঘীর পাড় এলাকার একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে চলে যায় তারা। এসময় তিন লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পেশাদার কিলার ফয়েজকে দেয়া হয়। বাকি আড়াই লাখ টাকা রুবেল নিয়ে যায়। মূলত টাকা আত্মসাৎ করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566553497981.jpg

হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ঘাতক রুবেলের আদালতে দেয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোক্তার হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর হত্যার পরিকল্পনাকারী রুবেল ও অটোরিকশা চালক সাগরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল কাদের তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, ঘাতক রুবেল সদর উপজেলার পশ্চিমবটতলী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ও সাগর দক্ষিণ মান্দারীর জামাল উদ্দিনের ছেলে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি ও আত্মসাৎ করা আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করেছে ডিবি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566553508820.jpg

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে পাওনা টাকা আনতে আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার মান্দারীতে রুবেলের কাছে যায়। বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার কাজিরদিঘীর পাড় এলাকার একটি পুকুর থেকে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত আলমগীরের ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত আলমগীর (৪৫) রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইছা গ্রামের মৃত. বশির উল্যার ছেলে। তিনি রায়পুর পৌরসভার এলাকার তানহা কম্পিউটার দোকানের স্বত্ত্বাধিকারী।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ঔষধি গ্রাম পীরগাছার পেটভাতা

ঔষধি গ্রাম পীরগাছার পেটভাতা
পুরো গ্রাম জুড়েই দেখা যায় তুলশি-বাসকসহ বিভিন্ন জাতের ঔষধি গাছ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গ্রামের প্রবেশপথের দুই পাশে সারি সারি তুলশি ও বাসক গাছ। একটু এগোলেই বাড়ির আনাচে কানাচে চোখে পড়বে বিভিন্ন আকৃতির লতাপাতার গাছ। বাড়ির আঙিনা বা উঠান বলতে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই, যেদিকে চোখ যায় শুধু গাছ আর গাছ।

লতাপাতা বা কোনো আগাছা নয়, সবই ঔষধি গাছ। এখানেই শেষ নয় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গেলে দেখা যাবে বিলুপ্ত প্রায় অশোক, চিরতা, কর্পুর, পুনর্বভা, তেজবল, নাগেশ্বর, অশ্বগন্ধা, জাতিপুষ্প, গোরখ চাকুলিয়া, কূটরাজ গাছ। এছাড়াও জীবন রক্ষাকারী মহৌষধ হিসেবে পরিচিত তুলশি পাতা, বাসক পাতা, কলোমেঘ, ওলট কম্বল, হরতকি, বহেরা, অর্জুন, স্বর্ণলতা, তেজপাতা ও বস গাছ।

এমন দৃশ্য দেখা যায় রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পেটভাতা গ্রাম ঘুরে। গ্রামের ষাটোর্ধ্ব জব্বার-সালেহা দম্পতির উদ্যোগে পেটভাতা গ্রামটির চিত্রই পাল্টে গেছে। গ্রামটি এখন ঔষধি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত আব্দুল জব্বার ২০০২ সালে নিজের প্রয়োজনে স্বল্প পরিসরে বাড়ির আশে পাশে ঔষধি গাছ লাগান। পরে তিনি বিভিন্ন এনজিও’র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এলাকার দরিদ্র কৃষকদের বাড়ির আঙিনা বা উঠানে পরিত্যক্ত জমিতে ঔষধি গাছ চাষ করে স্বাবলম্বি হওয়ার স্বপ্ন দেখান।

শুরুতে এলাকার ১২ থেকে ১৫ জন কৃষকের মাঝে আব্দুল জব্বার নিজ উদ্যোগে চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে লাগিয়ে দেন। একই সাথে পরিচর্যাও করতে হয়েছে তাকে। পরে এক বছরের মাথায় ঐ কৃষকদের বাড়িতে লাগানো ঔষধি গাছ থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566553119703.jpg

বর্তমানে গ্রামটিতে প্রায় ৩০০ কৃষক ঔষধি গাছ লাগিয়ে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। আব্দুল জব্বার-সালেহা দম্পতি নিজেরাই এলাকার কৃষকদের নিকট থেকে ঔষধি গাছ ও পাতা ক্রয় করে থাকেন। ক্রয়কৃত গাছ ও পাতা তারা প্রক্রিয়াজাত করে একাধিক ঔষধ কোম্পানি নিকট বিক্রি করে থাকেন। এ থেকে আব্দুল জব্বার-সালেহা দম্পতি প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বর্তমানে গ্রামটি চিকিৎসকবিহীন গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামের লোকজন অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ঔষধি গাছ ব্যবহার করে থাকে। প্রতিটি বাড়ির লোকজন অধিকাংশ ঔষধি গাছের গুণাগুণ বলতে পারে।

পেটভাতা গ্রামের আয়শা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘পাঁচ শতক জমির উপর আমার বাড়ি। এখানে বসবাসের পাশাপাশি ঔষধি গাছ লাগিয়েছি। প্রতি মাসে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ঔষধি গাছ ও পাতা বিক্রি করে থাকি। এটা আমাদের বাড়তি আয়।’

সলেমান মিয়া বলেন, ‘ঔষধি গাছ লাগিয়ে প্রতিমাসে ভালই আয় হয়। ঔষধি গাছের জন্য আলাদা খরচ করতে হয় না। শুধু পরিচর্যা করলে আয় করা সম্ভব।’

সফল উদ্যোক্তা ও কবিরাজ হিসেবে পরিচিত আব্দুল জব্বার মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে তার সফলতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল গ্রামটিকে ঔষধি গ্রাম বানাব। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রতি মাসে বিভিন্ন জাতের ঔষধি গাছ ও পাতা ১০ থেকে ১৫ মণ ক্রয় করেন তিনি। এর মধ্যে শতমূল- ৬০ টাকা কেজি, তুলশি পাতা ৫০, বাসক পাতা ৪২, কলোমেঘ ১২০, ওলট কম্বল, হরতকি ৪০০ টাকা মণ, এছাড়াও বহেরা, অর্জুন, স্বর্ণলতা, তেজপাতা ও বস এসবের বাজার উঠা নামা করে থাকে। আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির নিকট সরবরাহ করে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মন্ডল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘এই গ্রামে বহু প্রজাতির ঔষধি গাছ আছে। এর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঔষধি গাছের সুরক্ষা হচ্ছে। এই ঔষধি গাছের বাগানের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা উপকৃত হচ্ছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র