Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

কলা নিয়ে কারসাজি

নাটোরে দিনের বেলায় বাজারে মিলছে না কলা

নাটোরে দিনের বেলায় বাজারে মিলছে না কলা
অর্ধ পাকা কলা বিক্রি করছেন বিক্রেতা / ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নাটোর


  • Font increase
  • Font Decrease

রমজানে কলার দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে নাটোরের বাজারগুলোতে। এক সপ্তাহ আগেও এখানকার বাজারগুলোতে কলা বিক্রি হয়েছে প্রতি হালি ১৬ থেকে ২০ টাকা।

অথচ রোজার প্রথম দিন থেকে এক লাফে কলার দাম হালি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এভাবে প্রতিটি কলা ৮ থেকে ১০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এমন চড়া দামে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের নাগালের বাইরে চলে গেছে কলা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, দিনের বেলা বাজার থেকে দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে কলা। কলা নিয়ে নাটোরের ব্যবসীরা মেতে উঠেছে অন্যরকম এক কারসাজিতে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নাটোর শহর ও আশেপাশের বাজারগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না কলা। দিনের শুরুতে কেনাকাটায় এসে বাজারে কলা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে ইফতারের দুই ঘণ্টা আগে বাজারে আসছে কলা। আর সেই সময়ই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা এ সময় বর্ধিত দামের বাইরে বিক্রি করছেন না কলা।

বুধবার (৮ মে) দুপুরের পর শহরের নীচাবাজার, কাঁচাবাজার, পৌরসভা মোড়, স্টেশন বাজার ও মাদরাসামোড় বাজার ঘুরে দেখো যায়, নীচাবাজার ছাড়া অন্য কোথাও কলার দেখা মেলেনি।

নীচাবাজারের কলা ব্যবসায়ী আবুল কালামের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, তিনি কাঁচা কলা নিয়ে বসে আছেন। পাকা কলা কখন পাওয়া যাবে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

কলার দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা কম চাষের অজুহাতে কম সরবরাহের কথা বলছেন। তবে ক্রেতাদের দাবি, এক সপ্তাহ আগেও বাজারে কলার সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল। দাম বাড়ানোর উদ্দেশে কৃত্তিম সংকট তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/08/1557318846548.jpg

শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় সাইকেলে চড়ে কলা বিক্রি করছিলেন জব্বার আলী। তিনি জানান, কলা উৎপাদনের কৃষকদের বেশি খরচ হচ্ছে বলে দাম বেশি। তাই কলা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।

শহরের পৌরসভা মোড়ে অন্যদিনগুলোতে কলা বিক্রি করতে দেখা গেলেও বুধবার দুপুরে কলা বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

নীচাবাজার এলাকায় কলা ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বার্তা৪.কমকে বলেন, ‘রোজা আসলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কলার দাম বাড়িয়ে দেয়। এবার তারা ইফতারের কয়েকঘণ্টা আগে কলা এনে বেশি দামে বিক্রি করছে। বছরের অন্যসময় ২০ টাকা হালি কলা পাওয়া গেলেও এবার দ্বিগুণ দাম গুনতে হচ্ছে।’

মাদরাসামোড় বাজারে কলার ক্রেতা আবুল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কলার এতো দাম হওয়ার কথা নয়। রমজানে বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।’

সদর উপজেলার লক্ষীপুর-খোলাবাড়িয়া গ্রামের কলাচাষী আমজাদ ও সবুজ বার্তা২৪.কমকে জানান, এবার রোজার আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কলার ফলন কম হয়েছে। তাই বাইরে থেকে কলা আমদানি করা হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েসন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি রইস উদ্দীন সর্দার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রমজানে ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফা লাভের মানসিকতা তাড়া করে বেড়ায়। এর থেকে কলাও রেহাই পায়নি। প্রশাসনের উচিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা।’

এদিকে রমজানের দ্বিতীয় দিন নাটোরের বিভিন্ন বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজের নেতৃত্বে মাঠে নামে প্রশাসন। তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, রমজান মাসজুড়ে পণ্য ও দ্রব্য সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে বাজার তদারকি অব্যাহত রাখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফিতানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গত ৯ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ মোট দশদিন বন্দরে সকাল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

তবে বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা, ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের চুনিয়াখালিপাড়া মহল্লার কাপড় ব্যবসায়ী আল মুবিন জনের স্ত্রী রুমকি পারভীন (২৬) ও একমাত্র কন্যা জাহরা খাতুন (৩) বেড়াতে গিয়ে চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনার পর গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে ব্যবসায়ী আল মুবিন শাহজাদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।

এই বিষয়ে আল মুবিন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ভেরুয়াদহ গ্রামে খালার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ রুমকির মা জিনাত রেহানা রিনা বলেন, 'নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর বগুড়া থেকে বুলবুল তালুকদার নামের এক যুবক আমার বোন জাহানারা বেগম মিনির কাছে ফোন দিয়ে জানায়, রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুন তার হেফাজতে আছে। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।'

আল মুবিন জানান, মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে ওই যুবক তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে না পারলে তাদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আমরা নিখোঁজ রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের উদ্ধারে সক্ষম হব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র