Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রাণের ফসল ভুট্টা

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রাণের ফসল ভুট্টা
ছবি: বার্তা২৪
তোফায়েল হোসেন জাকির
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গাইবান্ধা


  • Font increase
  • Font Decrease

‘স্বাদে ভরা রসমঞ্জুরীর ঘ্রাণ, চরাঞ্চলের ভুট্টা-মরিচ গাইবান্ধার প্রাণ’ এই স্লোগানে গাইবান্ধার চরবাসী ভুট্টা মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কৃষক-কৃষাণীরা পবিত্র রমজানে বিরতিহীনভাবে হারভেস্ট মেশিনে ভুট্টার মোচা ভেঙ্গে দানা বের করছেন।

কৃষকদের স্বপ্নের এই ফসলে এবার আশানুরূপ ফলন অর্জিত হওয়ায় চাষিদের মধ্যে প্রাণভরা হাসি ফুটেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়া থেকে রেহাই পেতে মাড়াই করা ভুট্টা ঘরে তুলতে আপ্রাণভাবে চেষ্টা করছেন তারা।

গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, জেলার সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নদী বেষ্টিত। এসব এলাকায় রয়েছে কামারজানি, কাপাসিয়া ও মোল্লার চরসহ বিভিন্ন চর। এসব চরে মরিচের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ ভুট্টার আবাদ হয়। ভুট্টা চাষেই চরাঞ্চলের মানুষ নির্ভরশীল। বছরের রবি ও খরিপ মৌসুমে এ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভুট্টা আবাদ করে আসছেন। প্রাণপ্রিয় এই ফসলে এখানকার কৃষক-শ্রমিকরা অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রাণের ফসল ভুট্টা

কামারজানি চরের গোঘাট গ্রামের আবদুল হাই বার্তা২৪.কমকে জানান, ভুট্টার আবাদ বেশ লাভজনক। এ ফসল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানো হয়।

ভুট্টা সংগ্রহ ও মাড়াই প্রসঙ্গে হাসেন আলী নামের এক কৃষক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ভুট্টার গাছ ও মোচা সবুজ থেকে হলুদ রংয়ের হলে পরিপক্ক হয়। তখন গাছ কেটে ফেলে মোচা সংগ্রহ করি। এরপর মোচাগুলো বাড়িতে এনে ৩/৪দিন রোদে শুকানো হয়ে থাকে। উপযুক্ত সময়ে হারভেস্ট মেশিনের মাধ্যমে মোচা থেকে দানা বের করা হয়। এতে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগে।

ভুট্টা চাষের আয়-ব্যয় সম্পর্কে মো. তারা মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিঘা প্রতি ফলন হয় ২০-২৫ মণ। বর্তমান বাজারে ৬০০ টাকা মণ বিক্রি হয়। চাষাবাদে সর্বসাকুল্যে খরচ হয় ৫-৬ হাজার টাকা।

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রাণের ফসল ভুট্টা

শ্রমিক সাহিদা বেগম, নাজির উদ্দিন ও মেহেন্নেকা বেগম বার্তা২৪.কমকে জানান, আমাদের এলাকার গৃহস্থরা ভুট্টা আবাদ করার ফলে সেখানে আমরা দিনমজুরির কাজ করি। এ থেকে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা পারিশ্রমিক পাই। জ্বালানি জন্যও ভুট্টার গাছ সংগ্রহ করা হয়।

কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মাহাবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, এ অঞ্চলের ভুট্টা চাষিদের জন্য বিশাল এক তথ্য ভাণ্ডার রয়েছে। এ তথ্যমতে তারা সরকারিভাবে বিভিন্ন কৃষি সহায়তা পান।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, চরাঞ্চলে ধানের আবাদ করা সম্ভব না হওয়ায় এখানকার কৃষকদের ভুট্টা আবাদে উৎসাহিত করা হয়। স্বল্প খরচে অধিক লাভ পেয়ে ভুট্টা চাষে ঝুকে পড়েছেন কৃষকরা।

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র