ফরিদপুরে স্লুইস গেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরে পদ্মা নদী থেকে কুমার নদের উৎস মুখে মদনখালী স্লুইস গেটের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে। তাছাড়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।

তবে প্রকল্পটি নিয়মিতভাবে তদারকি করার দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের। তারা বলছেন, এখানে নিম্নমানের কাজ করে পার পেয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

১৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমার নদ খননের যেই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে সোয়া ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মদনখালী রেগুলেটর নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ১০০ বছর স্থায়িত্বকাল ধরে ছয় ভেন্টবিশিষ্ট এ রেগুলেটরটি নির্মাণ করার কথা।

নৌবাহিনীর হয়ে এই কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান- ফিউচার ইনফ্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (এফআইডিএল)।

ফরিদপুরে স্লুইস গেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটি বাস্তবায়নে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কোনো সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি। নিম্নমানের পাথর ও সিলেট বালু ছাড়াও ওপিসি মানের সিমেন্টের স্থলে পিপিসি সিমেন্ট এবং ৬০ গ্রেডের রডের বদলে ৪০ গ্রেডের রড ব্যবহার করা হচ্ছে। সিলেট বালু ও ষ্টোন চিপে ডাস্ট ভরা।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন ও চাকরিজীবী শাহেদুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই এভাবে কাজ চলছে। সিলেট বালুতে ধুলা মেশানো। আর কালো পাথরের স্থানে সাদা পাথর দেওয়া হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কাজী নজরুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেন, সাদা পাথর কিংবা কালো পাথর বলে সিডিউলে কোনো পার্থক্য নেই। সেখানে রয়েছে ষ্টোন চিপ। আর রড এবং সিলেট স্যান্ডও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরেই ব্যবহারের অনুমতি মিলেছে। এখন পর্যন্ত কাজের ৩৫ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ আরো বাড়বে।

ফরিদপুরে স্লুইস গেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

এ ব্যাপারে ফরিদপুর পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, মদনখালী স্লুইস গেটের স্থায়িত্বের উপর ফরিদপুর শহরের স্থায়িত্ব নির্ভর করছে। তাই এই কাজ বাস্তবায়নে নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে সিলেট বালু ও পাথরের মানহীনতার যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখব। নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে সেগুলো পরীক্ষার পর ব্যবহারের অনুমতি দেব। কোনোভাবেই মানহীন কাজের সুযোগা দেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন :