Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

৩০ মণ ধানের মূল্য ২০ হাজার টাকা!

৩০ মণ ধানের মূল্য ২০ হাজার টাকা!
ধান কাটছে ঝিনাইদহের কৃষকরা। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঝিনাইদহ


  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশাখের তাপদাহ ও প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে সোনালি ধান ঘরে তুলছে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার কৃষকরা। জমি থেকে ধান কাটা, কাটা ধান বাঁধা, মাড়াই করতে ব্যস্ত তারা। তবে হাসি নেই কৃষকের মুখে।

গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ফলন হলেও দাম না পাওয়ায় মলিন কৃষকের মুখ। কোনো জমিতে চাষের খরচের টাকা উঠছে, আর কোনো জমিতে লোকসান থেকে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর জেলার ৬ উপজেলার ৮৮ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৪৪ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৬ হাজার ১৩০ হেক্টর, মহেশপুরে ২০ হাজার ৩৭০ হেক্টর, শৈলকুপায় ১৪ হাজার ৮৭০ হেক্টর ও হরিণাকুণ্ডুতে ৯ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও পরিমিত সারের ব্যবহারের কারণে এ বছর বোরো আবাদে এলাকার কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছে। গত মাসের ১ম সপ্তাহে শুরু হয়েছে ধান কাটা। ইতোমধ্যে জেলার ৬ উপজেলায় প্রায় ৭০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান ধরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।

সদর উপজেলার চুটলিয়া গ্রামের কৃষক ওমর আলী জানান, এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে সুবল লতা ধানের আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ মণ ধান উৎপাদন হবে। কিন্তু ৭শ টাকা মণে ধান বিক্রি করে তাদের লাভ হচ্ছে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/09/1557389943615.gif

ক্ষোভ নিয়ে তিনি জানান, এ বছর ধান চাষ করে কোনো লাভ হয়নি।

একই গ্রামের কৃষক আবু কালাম জানান, এ বছর প্রতি বিঘা বোরো ধান আবাদ করতে সেচ খরচ ৪ হাজার টাকা, সার খরচ ৪ হাজার টাকা, পরিচর্যা ৩ হাজার টাকা, ধান কেটে ঘরে তুলতে শ্রমিক খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এ বিঘায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর ৩০ মণ ধান বাজারে বিক্রি করে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।

মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামের কৃষক দাউদ হোসেন জানান, জমিতে এবার ধানের ফলন গত কয়েক বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে সব জিনিসের দাম বেশি হবার কারণে শ্রমিকের দামও বেড়ে গেছে। ফলে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে। এখন ধান ৭শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ ধান ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে কৃষক লাভের মুখ দেখবে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি এম আব্দুর রউফ জানান, গত বছর জেলার ৬ উপজেলায় হেক্টর প্রতি ৪.৩০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। এ বছর তা বেড়ে ৪.৩৫ মেট্রিক টনে দাঁড়াবে। তবে কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে।

তিনি আরও জানান, যেহেতু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে, সে ক্ষেত্রে ধান উৎপাদনে খরচ কমিয়ে আনার ব্যাপারে কৃষকদের নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনলে দাম যাই হোক না কেন কৃষক লোকসানের সম্মুখীন হবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফিতানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গত ৯ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ মোট দশদিন বন্দরে সকাল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

তবে বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা, ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের চুনিয়াখালিপাড়া মহল্লার কাপড় ব্যবসায়ী আল মুবিন জনের স্ত্রী রুমকি পারভীন (২৬) ও একমাত্র কন্যা জাহরা খাতুন (৩) বেড়াতে গিয়ে চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনার পর গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে ব্যবসায়ী আল মুবিন শাহজাদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।

এই বিষয়ে আল মুবিন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ভেরুয়াদহ গ্রামে খালার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ রুমকির মা জিনাত রেহানা রিনা বলেন, 'নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর বগুড়া থেকে বুলবুল তালুকদার নামের এক যুবক আমার বোন জাহানারা বেগম মিনির কাছে ফোন দিয়ে জানায়, রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুন তার হেফাজতে আছে। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।'

আল মুবিন জানান, মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে ওই যুবক তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে না পারলে তাদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আমরা নিখোঁজ রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের উদ্ধারে সক্ষম হব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র