Alexa

চিকিৎসা হচ্ছে না, বৃদ্ধা সালেহার বাঁচার আকুতি

চিকিৎসা হচ্ছে না, বৃদ্ধা সালেহার বাঁচার আকুতি

সালেহা খাতুন। ছবি: বার্তা২৪.কম

ছোট্ট একটা ঝুপড়ি ঘর। বেড়ায় মাকড়সার জাল পাতা। মেঝেতে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সূর্যের আলো না পৌঁছায় ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। এ ঘরটিতে তিন বছর ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক রকম বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন বৃদ্ধা সালেহা খাতুন (৭১)। প্রতি মুহূর্তেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। এই বুঝি দম যায় যায় অবস্থা!

অর্থ সংকটে চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারের সদস্যরাও এখন নিরুপায়। কিন্তু সালেহা বাঁচতে চান। সুস্থ হয়ে হাঁটতে চান। বেঁচে থাকার এই আকুতিটাই যেন সরকার ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে এটাই তার দাবি।

সালেহা খাতুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের রেলওয়ে কলোনিতে। স্বামী মৃত জালাল উদ্দিন। সংসারে তার চার ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ে বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। তারা মায়ের তেমন কোনো খোঁজ নেয় না। এখন সালেহা থাকে বড় ছেলে রিকশাচালক আব্দুল কদ্দুসের সংসারে।

শনিবার (১১ মে) দুপুরে রেলওয়ে কলোনিতে গিয়ে দেখা যায় ঝুপড়ি ঘরের ভাঙা চৌকিতে অর্ধ আবরণে পড়ে আছেন বৃদ্ধা সালেহা। তার মাথার সাদা চুলে জট লেগেছে। দাঁতগুলো পড়েছে অনেক আগেই। ভাঁজ পড়েছে চামড়ায়। পা দুটো অবশ। বিছানাতেই সবকিছু সারতে হয় তাকে। তবুও এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকবার বিছানা থেকে ওঠার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যান সালেহা।

কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সালেহা আক্তার বলেন, ‘আমি অসুখে মরি, খাইতাম পারিনা। কোনো ভাতা পাই না। অভাবে চিকিৎসা করাইতারি না। ছেরার বউডা কষ্ট-মষ্ট কইর‌্যা খাওয়ায়। আমারে আপনেরা বাঁচাইন। সরকাররে আমার কষ্টের কথা জানাইন।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নানা রকম রোগে ভুগছিলেন সালেহা খাতুন। অভাবের তাড়নায় ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় তিন বছর আগে বিছানায় পড়ে যান।

সালেহা খাতুনের ছেলের বউ সাহানা আক্তার বলেন, ‘অভাবের কারণে আমরাই তিনবেলা খাইতারি না। শাশুড়িরেও ভালা ডাক্তার দেহাইতারি না। ফার্মেসি থেইক্যা ওষুধ আইন্যা চিকিৎসা চালাইতাছি। তিন বছর ধইর‌্যা শাশুড়ি প্রস্রাব-পায়খানা ঘরের মইধ্যে করে। একটা হুইল চেয়ার না থাকায় বাইরে আনতারি না। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাইলে আমরা শাশুড়ির ভালা চিকিৎসা করাইতে পারতাম।’

এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান মাসুদুর রহমান খান সুজন বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে সালেহা খাতুন ভাতা পায়। আর যদি না পেয়ে থাকে, তাহলে তার ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসায়ও সহযোগিতা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :