Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

চিকিৎসা হচ্ছে না, বৃদ্ধা সালেহার বাঁচার আকুতি

চিকিৎসা হচ্ছে না, বৃদ্ধা সালেহার বাঁচার আকুতি
সালেহা খাতুন। ছবি: বার্তা২৪.কম
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গৌরীপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

ছোট্ট একটা ঝুপড়ি ঘর। বেড়ায় মাকড়সার জাল পাতা। মেঝেতে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সূর্যের আলো না পৌঁছায় ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। এ ঘরটিতে তিন বছর ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক রকম বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন বৃদ্ধা সালেহা খাতুন (৭১)। প্রতি মুহূর্তেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। এই বুঝি দম যায় যায় অবস্থা!

অর্থ সংকটে চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারের সদস্যরাও এখন নিরুপায়। কিন্তু সালেহা বাঁচতে চান। সুস্থ হয়ে হাঁটতে চান। বেঁচে থাকার এই আকুতিটাই যেন সরকার ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে এটাই তার দাবি।

সালেহা খাতুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের রেলওয়ে কলোনিতে। স্বামী মৃত জালাল উদ্দিন। সংসারে তার চার ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ে বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। তারা মায়ের তেমন কোনো খোঁজ নেয় না। এখন সালেহা থাকে বড় ছেলে রিকশাচালক আব্দুল কদ্দুসের সংসারে।

শনিবার (১১ মে) দুপুরে রেলওয়ে কলোনিতে গিয়ে দেখা যায় ঝুপড়ি ঘরের ভাঙা চৌকিতে অর্ধ আবরণে পড়ে আছেন বৃদ্ধা সালেহা। তার মাথার সাদা চুলে জট লেগেছে। দাঁতগুলো পড়েছে অনেক আগেই। ভাঁজ পড়েছে চামড়ায়। পা দুটো অবশ। বিছানাতেই সবকিছু সারতে হয় তাকে। তবুও এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকবার বিছানা থেকে ওঠার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যান সালেহা।

কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সালেহা আক্তার বলেন, ‘আমি অসুখে মরি, খাইতাম পারিনা। কোনো ভাতা পাই না। অভাবে চিকিৎসা করাইতারি না। ছেরার বউডা কষ্ট-মষ্ট কইর‌্যা খাওয়ায়। আমারে আপনেরা বাঁচাইন। সরকাররে আমার কষ্টের কথা জানাইন।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নানা রকম রোগে ভুগছিলেন সালেহা খাতুন। অভাবের তাড়নায় ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় তিন বছর আগে বিছানায় পড়ে যান।

সালেহা খাতুনের ছেলের বউ সাহানা আক্তার বলেন, ‘অভাবের কারণে আমরাই তিনবেলা খাইতারি না। শাশুড়িরেও ভালা ডাক্তার দেহাইতারি না। ফার্মেসি থেইক্যা ওষুধ আইন্যা চিকিৎসা চালাইতাছি। তিন বছর ধইর‌্যা শাশুড়ি প্রস্রাব-পায়খানা ঘরের মইধ্যে করে। একটা হুইল চেয়ার না থাকায় বাইরে আনতারি না। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাইলে আমরা শাশুড়ির ভালা চিকিৎসা করাইতে পারতাম।’

এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান মাসুদুর রহমান খান সুজন বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে সালেহা খাতুন ভাতা পায়। আর যদি না পেয়ে থাকে, তাহলে তার ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসায়ও সহযোগিতা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফিতানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গত ৯ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ মোট দশদিন বন্দরে সকাল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

তবে বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা, ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের চুনিয়াখালিপাড়া মহল্লার কাপড় ব্যবসায়ী আল মুবিন জনের স্ত্রী রুমকি পারভীন (২৬) ও একমাত্র কন্যা জাহরা খাতুন (৩) বেড়াতে গিয়ে চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনার পর গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে ব্যবসায়ী আল মুবিন শাহজাদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।

এই বিষয়ে আল মুবিন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ভেরুয়াদহ গ্রামে খালার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ রুমকির মা জিনাত রেহানা রিনা বলেন, 'নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর বগুড়া থেকে বুলবুল তালুকদার নামের এক যুবক আমার বোন জাহানারা বেগম মিনির কাছে ফোন দিয়ে জানায়, রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুন তার হেফাজতে আছে। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।'

আল মুবিন জানান, মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে ওই যুবক তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে না পারলে তাদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আমরা নিখোঁজ রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের উদ্ধারে সক্ষম হব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র