Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

রায়পুরে দুই আ’লীগ নেতার দ্বন্দ্বে ঝরছে রক্ত

রায়পুরে দুই আ’লীগ নেতার দ্বন্দ্বে ঝরছে রক্ত
হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
লক্ষ্মীপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে মাছঘাট দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই আওয়ামী লীগ নেতার দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (১০ মে) সকাল থেকে শনিবার (১১ মে) দুপুর পর্যন্ত তিন দফায় সংঘর্ষে ১৬ জন নেতাকর্মীর রক্ত ঝরেছে।

এদিকে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা করা হয়নি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই ইউনিয়নের খাসেরহাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের শান্ত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/11/1557584434905.jpg

স্থানীয়রা জানিয়েছে, উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন হাওলাদার ও ইউনিয়ন কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক ওসমান খাঁনের অনুসারিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। আলতাফ হোসেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে ওসমান খাঁনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শনিবার (১১ মে) সকালে ওসমান খাঁনের অনুসারীরা খাসেরহাট এলাকায় যুবলীগ নেতা আক্তার হোসেনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করে। আক্তার একই এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি আলতাফ হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। 

এর আগে শুক্রবার (১০ মে) আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ নেতাকর্মীর রক্ত ঝরেছে। এনিয়ে গত দুইদিনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।

বার্তা২৪ barta24

অন্যদিকে আহতদেরকে দেখতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মারুফ বিন জাকারিয়া ও সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল হাসপাতাল যান।

আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে ওসমান খাঁনের অনুসারীরা আমাদের মাছঘাট ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এখন উল্টো তারা আমাদের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার করছে। বিষয়টি আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে জানিয়েছি। 

অভিযোগ অস্বীকার করে ওসমান খাঁন বলেন, ‘আলতাফ হোসেনের লোকজন দুই দফায় হামলা চালিয়ে আমাদের ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে আহত এবং ৫-৬ জনের বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করেছে। অন্যায়ভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’

barta24 বার্তা২৪

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এসব ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।’

প্রসঙ্গত, রায়পুরের মেঘনা নদীর তীরে চান্দনা খালের মাছ ঘাট দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের বিবদমান ওই দু’গ্রুপের সংঘর্ষ এবং খাসেরহাট দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দু’গ্রুপের ১৫ জন আহত হয়েছেন। 

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র