Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

গায়ের রঙ শ্যামলা হওয়ায় স্ত্রীকে খুন

গায়ের রঙ শ্যামলা হওয়ায় স্ত্রীকে খুন
পাবনার মানচিত্র, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পাবনা


  • Font increase
  • Font Decrease

বাড়ির ভিটে বেচে জামাইকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়ে মেয়ের সুখ কিনেছি, হায়রে কপাল। ওরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না। মেয়ে শ্যামলা ছিল, জামাইয়ের পছন্দ ছিল না। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে এমনই আহাজারি করলেন নীলা আক্তার নীপার রিকশা চালক দরিদ্র বাবা নুর জামাল।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামের নীলা আক্তার নীপা নামের (১৯) এক গৃহবধূকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ করেছেন নিহত গৃহবধূর স্বজনেরা। অবশ্য, পুলিশ বিষয়টি ধামা চাপা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ। এদিকে, পুলিশ এটিকে হত্যা নয়, আত্মহত্যা বলে দাবি করছেন।

নিহত গৃহবধূ নীলার বাবা দরিদ্র রিকশা চালক নুর জামাল জানান, দেড় বছর আগে মেয়ে নীলার সাথে রিপনের বিয়ে হয়। বিয়ের যৌতুক হিসেবে ৭ লাখ টাকা দিয়ে জামাই রিপনকে সেনাবাহিনীতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

নুর জামাল বলেন, ‘মেয়ের গায়ের রং শ্যামলা হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই জামাই মেয়ের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। শনিবার দুপুরে স্বামী রিপন, শ্বশুর শাহ আলম এবং শাশুড়ি আঞ্জুয়ারা পরিকল্পিতভাবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর আত্মহত্যা বলেও গুজব ছড়ান তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আত্মহত্যা প্রমাণে তারা দ্রুত মেয়েকে নিয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আগেই মারা গেছে এমন তথ্য জানালে হাসপাতাল থেকে রিপন তার বাবা ও মাকে নিয়ে পালিয়ে যান।’

নীলার দাদা হাসান আলী মোল্লা জানান, ‘নুর জামাল বাবার থেকে প্রাপ্ত পৈত্রিকভিটা বিক্রি করে মেয়ের সুখের জন্য জামাইকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, নীলা আত্মহত্যা করেছে এমন খবর পাওয়ার পর আমরা ওই বাড়িতে যাই। কিন্তু যে স্থানের কথা বলা হয়েছে, সেখানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার কোন ধরণের ব্যবস্থা নেই।’

হাসান মোল্লা জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনেছি, তারা ঘটনার সময়ে ওই বাড়িতে চ্যাঁচামেচির শব্দ শুনতে পেরেছেন। ১৪/১৫ দিন আগে রিপন ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। বাড়ি আসার পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা নিহত নীলার পরিবারকে জানিয়েছে।

প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে নীলার বাবা নুর জামাল বলেন, ‘মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর থেকেই শুনেছি ছেলের বউ পছন্দ হয়নি। তার সাথে অন্য কোনো মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। ছুটিতে আসলেও অধিকাংশ সময়ে সে বাড়ির বাইরেই অবস্থান করতেন।’

প্রতিবেশীরা জানান, রিপন সেনাবাহিনীতে চাকরি করলেও বিয়ের কোনো অনুমতি না নিয়ে গোপনেই সে বিয়ে করেছেন।

নুর জামাল বলেন, ‘আমি আমার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। জামাই রিপন, তার বাবা ও মা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন শনিবার বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। শুনেছি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন কি জন্য আত্মহত্যা করেছে তা জানিনা।’

ওসি নাসির বলেন, ‘অভিযোগ পাইনি। মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র