Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

হোটেলে কাজ করেই জীবন চলে সত্তরোর্ধ্ব মায়ের

হোটেলে কাজ করেই জীবন চলে সত্তরোর্ধ্ব মায়ের
হোটেলে কাজ করছেন সত্তরোর্ধ্ব আলেফা বেওয়া / ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
বগুড়া


  • Font increase
  • Font Decrease

‘ছেলেরা ভালো বাবা, ওদের নাম লেখ না, ওদের সংসারেই অভাব। দুই ছেলের ঘরে সাত জন নাতি নাতনি। সারাদিন রোদের মধ্যে রিকশা চালায়। আমিতো হোটেলে ফ্যানের নিচে টেবিল পরিষ্কার আর পানি দেওয়ার কাজ করি। আমার ছেলেদের কষ্টের শেষ নাই।’

বিশ্ব মা দিবসে এভাবেই সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলেন সত্তরোর্ধ্ব এক মা আলেফা বেওয়া। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোর মণ্ডলপাড়া গ্রামের মৃত আকবর আলীর স্ত্রী। কাজ করেন কৈচড় বাজারে তোফাজ্জল ওরফে তোফার হোটেলে। 

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হোটেলে টেবিল পরিষ্কার এবং টেবিলে পানির গ্লাস এগিয়ে দেওয়া তার কাজ। দুই বেলা হোটেলে খাওয়া ছাড়াও ১০০ টাকা দিন তার পারিশ্রমিক।

আলেফা বেওয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমার ছেলেরা ভাল, ছোট বেলায় তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর মানু্ষের বাড়িতে কাজ করে ওদেরকে বড় করেছি। আমাকে ভাত না দিলেও কোনো দুঃখ নাই। ওরা ভাল থাকুক।’

তিনি বলেন, ‘দুই ছেলে এক মেয়ে ছোট থাকতেই তাদের বাবা মারা যায়। স্বামীর তিন শতাংশ ভিটেমাটি ছাড়া সম্পদ বলতে কিছু নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের বাড়িতে কাজ করে তিন সন্তানকে বড় করেছি। মেয়ের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। ছেলেদেরকে লেখা পড়া করাতে না পারায় তারা এখন রিকশা চালায়। বড় ছেলে আলম বাদশার ঘরে তিন ছেলে, ছোট ছেলে মিছির আলীর ঘরে তিন মেয়ে এক ছেলে।’

ছেলেদের সংসার ঠিকমত চলে না উল্লেখ করে আলেফা বেওয়া বলেন, ‘হোটেলে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে নিজের ওষুধ কিনতে হয়। এরপর নাতিদের জন্য কিছু টাকা রেখে দিতে হয়। বয়স্ক ভাতার যে টাকা উত্তোলন করি সেটাও নাতিদের লেখা পড়ায় দেই।’

দুই ছেলে তাকে ভাত কাপড় না দিলেও ছেলে এবং নাতিদের ওপর ভালোবাসার কোনো কমতি নেই বরেও জানান আলেফা বেওয়ার।

ফাপোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহরম আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আলেফা বেওয়াকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দিয়েছি। সরকারি সুবিধা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার কারণে তাকে ভিজিএফ বা ভিজিডি কার্ডের আওতায় আনা যাচ্ছে না।’

আপনার মতামত লিখুন :

বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে ইশরাত (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আকরতমা গ্রামের একটি মসজিদের পুকুর থেকে ডুবরিরা তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ইশরাত উপজেলার পানিয়ালা গ্রামের জলার বাড়ির ইমরান হোসেনের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে ইশরাতের বাবা-মা স্বপরিবারে আকরতমা গ্রামে ভুলুয়া বাড়ির নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বিকেলে সবার অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে আত্মীয়-স্বজনরা বাড়ির পুুকুর ও আশপাশের এলাকায় খুঁজেও তাকে পায়নি। কোথাও না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে যায় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে এর আগেই রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও চাঁদপুরের ডুবরির দল প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে পুকুর থেকে ইশরাতের ডুবন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা থানায় জিডি করার জন্য এসেছিল। জিডি নথিভূক্ত করার আগেই ডুবরিরা পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

সালিশ থেকে ধর্ষককে গ্রেফতার করল পাগলা পুলিশ

সালিশ থেকে ধর্ষককে গ্রেফতার করল পাগলা পুলিশ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

স্কুল ছাত্রীর ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিশ থেকে দিলু মিয়া (২৬) নামে এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহের পাগলা থানার পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে পাগলার মশাখালী ইউনিয়নের দড়িচাইর বাড়িয়া গ্রাম থেকে দুই সন্তানের জনক ও মামলার প্রধান আসামী দিলু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন পাগলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুজ্জামান।

এ বিষয়টি মামলার তদন্ত অফিসার ফয়েজুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, দড়িচাইর বাড়িয়া গ্রামের শাহজাহান কবীরের বাড়ির ধর্ষণ মামলার সমঝোতা সালিশের আয়োজন করে স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী ও বদরুজ্জামান বুইদ্যা। সেখান থেকে দিলুকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, সোমবার বিকেলে মশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীকে (১৩) বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে একই গ্রামের দিলু মিয়া ও আমিরুল ইসলাম। এরপর রাতেই ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে পাগলা থানায় দু’জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।

মঙ্গলবার পুলিশ হেফাজতে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়। বুধবার ঘটনাটি মিমাংসার জন্য ইউপি সদস্যসহ ১০-১২ জন ধর্ষিতার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে। উপায় না পেয়ে ধর্ষিতার পরিবার সালিশ বৈঠকে বসে। ওই বৈঠক থেকে আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র