Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

'৩০ লাখ টাকার দুর্নীতি কি নিউজ হওয়ার মতো ঘটনা!'

'৩০ লাখ টাকার দুর্নীতি কি নিউজ হওয়ার মতো ঘটনা!'
সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পাবনা


  • Font increase
  • Font Decrease

এটা কি নিউজ হওয়ার মতো ঘটনা? ৩০ লাখ ১২ হাজার ৬১২ টাকার দুর্নীতির অডিট আপত্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এমনই উত্তর দেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির মজুমদার। পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অডিটে নানা খাতে বহুমুখী আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১৬-১৭ সালের পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অডিট হয়। ওই অডিট প্রতিবেদনে বিভিন্ন খাতে এই আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে আসে অডিট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মন্তব্যে।

তথ্যমতে, সরকারি পরিপত্র লঙ্ঘন করে এক খাতের টাকা অন্যখাতে ব্যয় করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৫ টাকা ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ছাড়াই সকল বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে সম্মানী বাবদ ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৮ টাকা বিতরণ এবং পরিপত্র বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন খাতের টাকা আদায়ের পরিমাণ ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪০ টাকাসহ সর্বসাকুল্যে ৩০ লাখ ১২ হাজার ৬১২ টাকার অডিট আপত্তি এসেছে। সংশ্লিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমার কোনো ধরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তিমূলক কোনো জবাবও পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. প্রফেসর হুমায়ুন কবির মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪০ টাকার আপত্তির বিষয়টি গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। সবগুলো প্রায় নিষ্পত্তির দিকে এবং মীমাংসিত অবস্থায়। অডিট আপত্তি মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের রুটিন ওয়ার্ক যা একটা চলমান প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ সম্পূর্ণ বিধি মেনেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিপত্র মেনেই যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। কলেজের নানামুখী অনিয়ম ও আর্থিক খাতে ব্যাপক গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ ধরনের খবর কী খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা বারবার পত্রপত্রিকায় ফলাও করে ছাপাতে হবে। এ খবর না ছাপালেও হয়।

পাবনার সচেতন মহলের দাবি, উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাত পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ। বর্তমান অধ্যক্ষ এই প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে নানা ভাবে নানা খাতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

তাদের অভিযোগ, সরকার দলীয় মতের প্রভাবে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রক্ষা, শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও দুর্নীতি এবং নানা অনিয়ম দুর করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, অধ্যক্ষর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ে। দুদক পাবনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ নানামুখী অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে একাধিক অভিযোগের তদন্ত কাজও চলছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্র সংসদ কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত থাকলেও ছাত্র সংসদের বিপুল পরিমাণ টাকাও নয়-ছয় করা হয়েছে এমন অভিযোগও দুদকে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র