Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের খোজঁ নেননি কেউ

গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের খোজঁ নেননি কেউ
গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধ সেবা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দারা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
তোফায়েল হোসেন জাকির
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গাইবান্ধা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের খোঁজ-খবর নিয়েছেন তাদের সন্তানরা। কিন্তু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় পাওয়া মায়েদের খোঁজ নেননি কেউ। এমনকি প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজ নেননি তাদের।

তবে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন প্রষ্ঠিানটি গড়ে তোলার নায়ক একদল যুবক। জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছোট সোহাগি গ্রামে এই বৃদ্ধাশ্রমটি অবস্থিত। ঐ এলাকার একদল যুবক দুই বছর আগে নিজেদের উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত করে।

রোববার (১২ মে) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃদ্ধাশ্রমে যে যার মতো সময় কাটাচ্ছেন মায়েরা। বিশ্ব মা দিবসেও তাদের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/12/1557674203136.jpg

তাদের মধ্যে একজন আছমা বেওয়া। তিনি জানান, সব সময় সন্তানের কথা মনে পড়ে। রাতে ঘুম আসে না। আর ঘুমালেও গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায়। তখন ছেলেটার মুখ খুব দেখতে ইচ্ছে করে।

তিনি জানান, এই দিনে তাকে আঁকড়ে ধরার জন্য আর দশটা মায়ের মতো তারও সন্তান ছিল। কিন্তু আছমার সেই কলিজার ধনটি এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর থেকে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।

জহুরা খাতুন নামের আরেক বৃদ্ধা জানান, একদিন তার সবই ছিল। কপাল দোষে আজ এই অবস্থা হয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানরা যার যার মতো সংসার পেতে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু কারো কাছেই মায়ের জায়গা হয়নি। ফলে দুই বছর আগে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তারপর ঠাঁই হয় গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধাশ্রমে।

আশ্রমটিতে দেখা যায়, সেখানে ১২ জন বৃদ্ধ ও সাত জন বৃদ্ধা কেউ শুয়ে কেউ বা বসে আছেন। কেউবা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আকাশ পানে তাকিয়ে কী যেন ভাবছেন আরেক মা।

কাছে গিয়ে সন্তানদের কথা জিজ্ঞেস করতেই চোখ দুটো ছলছল করে উঠে তার। সন্তানদের ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি তিনি।

আশ্রমটির পরিচালকদের একজন মেহেদী হাসান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘গত ২০১৭ সালে বৃদ্ধ সেবা বৃদ্ধাশ্রম নামের এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েকজন বন্ধু সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়। এখানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই ছিন্নমূল, হতদরিদ্র।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/12/1557674238784.jpg

তিনি জানান, নিজেদের প্রচেষ্টায় মাঝে-মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কিছু মানুষের দান-সদকা, যাকাত-ফিতরা, কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা-পয়সায় এটি পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগক্তারা জানান, শুরুতে বাসা ভাড়া নিয়ে আশ্রিতদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এর পর এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশ না করা শর্তে) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের সোহাগী গ্রামে ছয় শতাংশ জমি দান করলে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এখনো সেখানেই রয়েছে।

আশ্রমটির হিসাব রক্ষক মেহেদী হাসান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি চালাতে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে দুই টন টিআর ছাড়া সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কাছে সহযোগিতা চাইলেও কেউ পাশে আসেনি।’

আপনার মতামত লিখুন :

পুকুর ভাড়ায় পাট জাগ, দুর্ভোগে চাষিরা

পুকুর ভাড়ায় পাট জাগ, দুর্ভোগে চাষিরা
ভাড়া করা পুকুরে পাট জাগ দিচ্ছেন এক কৃষক

আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। বিজ্ঞানের যুগান্তকারী নানা উদ্ভাবনের ফলে কৃষিকাজ হয়েছে সহজতর। কিন্তু পাটের আঁশ ছাড়ানোর সেই সনাতন পদ্ধতি আজও রয়ে গেছে।

একদিকে অনাবৃষ্টি অন্যদিকে খাল-বিল, নদী-নালা ভরাটের ফলে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকের দুর্ভোগের সীমা নেই। বাধ্য হয়ে অন্যের পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন মেহেরপুর জেলার কৃষকরা। আর একই পুকুরে বার বার পাট জাগ দেওয়ায় পাটের রং যাচ্ছে নষ্ট হয়ে। ফলে পাটের দাম কম পাচ্ছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২৫ হাজার হেক্টরের উপরে। পাট চাষ নিয়ে নানা রকম সমস্যা ও দর পতনের ফলে চাষিরা অর্থকরী এই ফসল আবাদে বিমুখ হচ্ছেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566206669467.jpg

বানিয়াপুকুর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বর্ষাকালে চাইলেই সব ফসল আবাদ করা যায় না। কিছু জমি আছে যেখানে একমাত্র পাট আবাদ করা যায়। ফলে বাধ্য হয়ে পাট আবাদ করতে হচ্ছে।

ভোমরদহ গ্রামের পাটচাষি মিলন হোসেন বলেন, ১ বিঘা জমির পাট জাগ দিতে পুকুর ভাড়া দিতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। একটি পুকুরে বার বার পাট জাগ দিতে গিয়ে পাটের রং নষ্ট হচ্ছে। ফলে দর কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: পুকুর ভাড়া নিয়ে চলছে পাট জাগ

চাষি আরও জানান, সব পাটচাষির নিজস্ব পুকুর নেই। খাল-বিল, নদী-নালায়ও নেই পানি। আবার কিছু জলাশয় বেদখল হয়েছে। ফলে পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দেওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প কোন উপায়ও নেই।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566206786332.jpg

স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দামে। এই দরে পাট বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা আবাদ খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে এক সময় পাট আবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতি বছর আবাদ খরচ বৃদ্ধি পেলেও পাটের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে না, এটা দুঃখজনক।

চুয়াডাঙ্গায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক আটক

চুয়াডাঙ্গায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক আটক
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার, ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ভূমিহীন পাড়ায় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সোমবার (১৯ আগস্ট) সুলতান (২১) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সুলতান একই এলাকার ভূমিহীনপাড়ার তুরাপ আলির ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে খালি বাসায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে সুলতান। বাবা-মা বাসায় ফিরলে শিশুটি ঘটনাটি তাদের অবহিত করে। এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সোমবার দুপুরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধর্ষক সুলতানকে ভূমিহীন পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র