Alexa

গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের খোজঁ নেননি কেউ

গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের খোজঁ নেননি কেউ

গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধ সেবা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দারা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের খোঁজ-খবর নিয়েছেন তাদের সন্তানরা। কিন্তু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় পাওয়া মায়েদের খোঁজ নেননি কেউ। এমনকি প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজ নেননি তাদের।

তবে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন প্রষ্ঠিানটি গড়ে তোলার নায়ক একদল যুবক। জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছোট সোহাগি গ্রামে এই বৃদ্ধাশ্রমটি অবস্থিত। ঐ এলাকার একদল যুবক দুই বছর আগে নিজেদের উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত করে।

রোববার (১২ মে) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃদ্ধাশ্রমে যে যার মতো সময় কাটাচ্ছেন মায়েরা। বিশ্ব মা দিবসেও তাদের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/12/1557674203136.jpg

তাদের মধ্যে একজন আছমা বেওয়া। তিনি জানান, সব সময় সন্তানের কথা মনে পড়ে। রাতে ঘুম আসে না। আর ঘুমালেও গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায়। তখন ছেলেটার মুখ খুব দেখতে ইচ্ছে করে।

তিনি জানান, এই দিনে তাকে আঁকড়ে ধরার জন্য আর দশটা মায়ের মতো তারও সন্তান ছিল। কিন্তু আছমার সেই কলিজার ধনটি এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর থেকে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।

জহুরা খাতুন নামের আরেক বৃদ্ধা জানান, একদিন তার সবই ছিল। কপাল দোষে আজ এই অবস্থা হয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানরা যার যার মতো সংসার পেতে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু কারো কাছেই মায়ের জায়গা হয়নি। ফলে দুই বছর আগে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তারপর ঠাঁই হয় গোবিন্দগঞ্জ বৃদ্ধাশ্রমে।

আশ্রমটিতে দেখা যায়, সেখানে ১২ জন বৃদ্ধ ও সাত জন বৃদ্ধা কেউ শুয়ে কেউ বা বসে আছেন। কেউবা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আকাশ পানে তাকিয়ে কী যেন ভাবছেন আরেক মা।

কাছে গিয়ে সন্তানদের কথা জিজ্ঞেস করতেই চোখ দুটো ছলছল করে উঠে তার। সন্তানদের ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি তিনি।

আশ্রমটির পরিচালকদের একজন মেহেদী হাসান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘গত ২০১৭ সালে বৃদ্ধ সেবা বৃদ্ধাশ্রম নামের এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েকজন বন্ধু সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়। এখানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই ছিন্নমূল, হতদরিদ্র।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/12/1557674238784.jpg

তিনি জানান, নিজেদের প্রচেষ্টায় মাঝে-মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কিছু মানুষের দান-সদকা, যাকাত-ফিতরা, কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা-পয়সায় এটি পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগক্তারা জানান, শুরুতে বাসা ভাড়া নিয়ে আশ্রিতদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এর পর এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশ না করা শর্তে) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের সোহাগী গ্রামে ছয় শতাংশ জমি দান করলে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এখনো সেখানেই রয়েছে।

আশ্রমটির হিসাব রক্ষক মেহেদী হাসান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি চালাতে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে দুই টন টিআর ছাড়া সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কাছে সহযোগিতা চাইলেও কেউ পাশে আসেনি।’

আপনার মতামত লিখুন :