Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মোকামে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক

মোকামে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ধানের মোকাম। ছবি: বার্তা২৪.কম
আল মামুন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারের ক্রয়নীতি ঘোষণার পরও ধানের দাম বাড়েনি। এ কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকামে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে কৃষকরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে চাষাবাদ থেকে বিরত থাকবে অনেক কৃষক।

সরেজমিনে আশুগঞ্জ ধানের মোকামে গিয়ে জানা যায়, বৃহত্তর হাওরাঞ্চল কিশোরগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান আশুগঞ্জ মোকামে আসে। আর এসব ধান স্থানীয় ৪ শতাধিক রাইস মিলে প্রক্রিয়াজাত করে চাল বানানো হয়। পরে সেই চাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও নৌ পথে সরবরাহ করা হয়।

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের হাজার হাজার মণ নতুন ধান ইতোমধ্যেই আশুগঞ্জ মোকামে আসতে শুরু করেছে। তবে শিলাবৃষ্টি ও সেচের অভাবে এবার জমিতে ফলন কম হয়েছে। পাশাপাশি ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আশুগঞ্জ মোকামে ধান আসছে অনেক কম। জমিতে চাষাবাদ করে যে টাকা খরচ হয়েছে, সে টাকার ধান জমিতে হয়নি। এ জন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অর্ধেক ধান এসেছে বাজারে।

কৃষকরা বলছে, মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করেছে তারা। চলতি বছরে শ্রমিক সংকট, মজুরি বৃদ্ধিসহ মালামালের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৮শ থেকে সাড়ে ৮শ টাকা। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৬শ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা। এতে করে উৎপাদন খরচ উঠছে না। প্রতি মণ ধানে দেড় থেকে দুইশ টাকা লোকসান হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557748750446.gif

আশুগঞ্জ ধানের মোকামে প্রতি মণ বি আর ২৮ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬২০ থেকে ৬৩০ টাকা পর্যন্ত। বি আর ২৯ বিক্রি হচ্ছে ৫৭০ টাকা। মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শ টাকা। এছাড়া প্রতি মণ ভেজা ধান ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সিলেট থেকে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক হাজী আবু তাহের বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতি মণ ধানে দেড়শ থেকে ২শ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই অল্প কিছু ধান বিক্রি করেছি।’

সুনামগঞ্জ থেকে ধান নিয়ে আসা আরেক কৃষক রমজান মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আর ধান চাষ করব না। যেভাবে ধানের দাম কমছে তাতে ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’

তবে মিল মালিকরা বলেছে, বিগত বছরে আমন ধানের ফলন ভালো হওয়াতে অনেক মিলেই পুরনো ধান ও চাল অবিক্রিত রয়েছে। তাছাড়া নতুন ধান ভিজা থাকার কারণে চাল উৎপাদন কম হচ্ছে। এ কারণে নতুন ধানের চাহিদা কম রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাতালকল ও হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াদুল্লাহ বার্তা২৪.কমকে জানান, চলতি মৌসুমে হাওরে শিলাবৃষ্টি ও চিটার কারণে ধানের ফলন কম হয়েছে। এ জন্য আশুগঞ্জ মোকামে ধান আসছে কম। সেই সঙ্গে চাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান ও চাল মজুদ রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় করছে কম। তবে সরকার যদি রপ্তানির অনুমতি দিত তাহলে চালের দাম বেড়ে যেত। এতে কৃষকরাও ধানের ন্যায্য মূল্য পেত।

আপনার মতামত লিখুন :

ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি

ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি
পানিতে তলিয়ে গেছে পদ্মার পাড়ের বাড়ি-ঘর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে নদীর পানি। ফলে ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর নিম্নঞ্চালের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পদ্মা পাড়ের মানুষ একরকম জন্মলগ্ন থেকেই পানির সাথে যুদ্ধ করে বেচেঁ আছেন। তবে কৃষি নির্ভর হওয়ায় কোনোরকম নিজেদের রক্ষা করলেও গবাদি পশু ও বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী জেলার সদর উপজেলা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায়ই ১৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563578899227.jpg

বন্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিগ্রিরচর, চরমাধবদিয়া ও আলিয়াবাদ এবং চরভদ্রাসন উপজেলার চরঝাউকান্দা, হাজিগঞ্জ, চরহরিরামপুর ও গাজিরটেক, সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, ঢেউখালী ও চরমানাইর ইউনিয়নের বসতবাড়ী, কয়েক হাজার একর বিস্তৃর্ণ ফসলী জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে।

এছাড়া সদরপুর উপজেলার ৪৪টি ও ভাঙ্গা উপজেলায় ১৪টিসহ মোট ৫৮টি বসত ভিটা গত দুদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক জানান, পানিতে তার ইউনিয়নের ৩০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা মারত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই গরু পালন করেছে তারাও তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, পানি বেড়েই চলছে। ফলে ভাঙনও বেড়েছে। আমরা প্রবল ভাঙন কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে কাজ করছি।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘গত তিনদিনে তিন উপজেলায় ৪০ মেট্রিকটন চালের পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। আশা করি সকলের সহযোগিতায় আপদকালীন সময় মোকাবিলা করতে পারব।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোখসানা রহমান জানান, ফরিদপুর এখনো বন্যা দুর্গত জেলায় পরিণত হয়নি। যেসব এলাকায় পানির তীব্রতা বেশি সেসব এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিকসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে শহরের মিজান পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত বাকিদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবরের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র