Alexa

বগুড়ায় নিজ ঘরে ছুরিকাঘাতে নারী খুন

বগুড়ায় নিজ ঘরে ছুরিকাঘাতে নারী খুন

নিহত জিন্নাত ফারজানা এলমা, ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় নিজ ঘরে খুন হয়েছেন জিন্নাত ফারজানা এলমা (৪২) নামের এক নারী। ঘরে কেউ না থাকায় দুর্বৃত্তরা কৌশলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে খুন করে।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে বগুড়া শহরের মালতীনগর এসপি বাংলো লেনে এই খুনের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী আলহাজ্ব মকবুল হোসেন মুকুলকে থানায় নেয়।

জানা গেছে, বগুড়া শহরের পালশা এলাকার ফল ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মকবুল হোসেন মুকুলের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জিন্নাত ফারজানা এলমাকে বিয়ে করেন। মালতীনগরে দোতলা বাসার নীচতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। তাদের কোন সন্তান ছিল না। তবে এলমার প্রথম স্বামীর ঘরে এক মেয়ে রয়েছে। সেই মেয়ের বগুড়া শহরের বাদুড়তলায় বিয়ে হয়েছে।

বাড়ির মালিক আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে চৈতী বার্তা২৪.কম-কে জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি বাসার প্রধান গেট খুলতে গিয়ে নীচতলার ঘরের দরজা খোলা দেখে এলমাকে (আন্টি) ডাকেন। কোন সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন মেঝেতে পড়ে আছেন এলমা। মুখ কম্বল দিয়ে মোড়ান এবং মেঝেতে রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার বাবাকে জানান, তিনি এলমার স্বামী মকবুল হোসেনকে এবং থানা পুলিশকে খবর দেন।

প্রতিবেশীরা জানান, নিহত এলমার স্বামী ফলের ব্যবসার কারণে প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যেত। প্রতিদিনের মত সোমবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বের হয়ে যান। তাদের বাসায় মেয়ের জামাই ছাড়াও বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন যাতায়াত করত। তবে এলমার মামা পরিচয়ে এক ব্যক্তি মাঝেমধ্যে দিনের বেলা মকবুল হোসেনের অনুপস্থিতিতে বাসায় যাতায়াত করত। এছাড়াও রমজান মাসে প্রতিদিন এলমার ভাগ্নে পরিচয়ে এক যুবক ওই বাসায় ইফতার করতে আসত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও মাঝেমধ্যে ঝগড়া বিবাদ হত বলে প্রতিবেশীরা জানান।

প্রতিবেশীরা বলেন, খুনি যেই হোক, সে এলমার পূর্ব পরিচিত। কারণ বাসার প্রধান গেটের চাবি বাড়ির মালিক এবং নীচতলার ভাড়াটিয়ার কাছে ছিল। তাদের মতে খুনি বাসায় প্রবেশ করার সময় এলামাকেই প্রধান গেট খুলে দিতে হয়েছে। আবার এলমাকে খুন করে যাওয়ার সময় ঘরের দরজা খোলা থাকলেও বাসার প্রধান গেট তালা দেয়া ছিল।

নিহতের মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) আব্দুর রহীম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'এলমার শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।'

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বার্তা-২৪.কম-কে বলেন, 'খুনের কারণ নিয়ে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। নিহতের স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী খুনিকে শনাক্ত করা হবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

জেলা এর আরও খবর