Alexa

ফরিদপুরে জমে উঠেছে বাঙ্গির হাট

ফরিদপুরে জমে উঠেছে বাঙ্গির হাট

খোলা হাটে বাঙ্গি নিয়ে বসেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা / ছবি: বার্তা২৪

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই ধারে বসছে বাঙ্গির হাট। রমজান উপলক্ষে এই হাটে প্রতিদিন হাজার হাজার বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হচ্ছে এ অঞ্চলের বাঙ্গি।

সদরপুর উপজেলার সবচেয়ে বেশি বড় হাট বসেছে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কাটাখালী, মটুকচর ও বাঁধানোঘাট এলাকায়। এছাড়াও পিয়াজখালী, আকোটেরচর, কারীরহাট, বিষ্ণুপুরসহ আরও কয়েকটি জায়গায় বসছে হাট। প্রায় ১৫ থেকে ২০টি হাটের মধ্যে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের হাট সবচেয়ে বড় এবং বেচাকেনা বেশি।

হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, গত বছর থেকে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে রাস্তার পাশে হাট বসতে শুরু করে। চাষিরা ক্ষেত থেকে বাঙ্গি তুলে ভোরে সড়কের দুই ধারে হাট বসান। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে বাঙ্গি বেচাকেনা। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারি ক্রেতারা এসব বাঙ্গি কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠান। এছাড়া সড়কের পাশে হাট বসায় চলতি পথে যানবাহন থামিয়েও অনেকে বাঙ্গি কেনেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঙ্গির এই হাটে দূরদূরান্ত থেকে লোক আসেন। ছোট, বড়, মাঝারি আকারের বাঙ্গি হাটে তোলা হয়। কোনোটি সবুজ, কোনোটিতে হালকা হলুদ রং এসেছে। সড়কের দু’পাশেই শত শত বাঙ্গির স্তুপ। প্রতিদিন ক্রেতা বিক্রেতাদের হাঁকডাকে জমে উঠে বেচাকেনা। এসব বাজারে শতকরা হিসাবে বাঙ্গি বিক্রি হয়। ছোট সাইজের বাঙ্গি (১০০টি) ১০০০-১২০০ টাকা, মাঝারি সাইজের ১২০০-১৮০০ টাকা এবং বড় বাঙ্গি ২০০০-৪০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছোট বড় প্রায় ২০টি হাটে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা প্রতিটি বাঙ্গি সর্বনিম্ন ১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557765746436.JPG

বাঙ্গি চাষ সর্ম্পকে সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিধান রায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে এবার বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম থাকায় বাজারে বাঙ্গির কাটতিও বেশ ভালো। তাই কৃষকদেরও ভালো মুনাফা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিঘা প্রতি জমিতে চাষাবাদ বাবদ খরচ হচ্ছে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতিবিঘা জমিতে লাভ থাকবে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাঙ্গির বাম্পার ফলন হয়েছে।’

কাটাখালীতে বাঙ্গি চাষি আব্দুল ওসমান মাতুব্বর বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি এ বছর দুই বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছি। ক্ষেতের অধিকাংশ বাঙ্গি বিক্রি হয়ে গেছে। এ বছর ভালো লাভ হয়েছে।’

বাঙ্গি বিক্রেতা আয়নাল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘হাটে প্রতিদিন ৭০-৯০ জন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা বাঙ্গি কিনতে আসেন।’

পাইকারি মহাজন ইদ্রিস হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা কৃষকদের কাছ থেকে বাঙ্গি কিনে ঢাকায় পাঠাই। ঢাকায় ভালো দাম পাওয়ায় আমরা কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে বাঙ্গি কিনতে পারি। ফলে কৃষকরাও লাভবান হন।’

মটুকচর এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী শওকত হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এখান থেকে বাঙ্গি কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করি। এ হাটে কোনো হাসিল দিতে হয় না বলে কম দামে বিক্রি করতে পারি।’

ফরিদপুরে যাওয়ার পথে সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে বাঙ্গি কিনছিলেন সাদীপুরের বাসিন্দা তুষার আহম্মেদ। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এখানে অনেক কম দামে ভালো বাঙ্গি পাওয়া যায়। তাই যাওয়া আসার পথে সুযোগ থাকলেই বাঙ্গি কিনি।’

আপনার মতামত লিখুন :