Alexa

মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার!

মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার!

নাটোর শহরের ট্রাফিক মোড়ে টাঙানো সাইনবোর্ড, ছবি: বার্তা২৪

নাটোর শহরের ব্যস্ততম ট্রাফিক মোড়ে ছায়াবাণী হলের নিচে টাঙানো একটি সাইনবোর্ড দৃষ্টি কাড়ছে সবার। এ পথ দিয়ে যেইই যাচ্ছেন সেইই একবার হলেও তাকাচ্ছেন এই সাইনবোর্ডের দিকে। এতে লেখা- 'অপকর্ম রোধে অপকর্মের ব্যবহার, মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার', প্রচারে- নাটোরবাসী।'

চার রাস্তার এই মোড় দিয়ে শহরে কেনাকাটার কেন্দ্রস্থল পিলখানা, কাপুড়িয়াপট্টি ও লালবাজারে যেতে হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে এমন সাইনবোর্ড জনমনে সচেতনতার সঞ্চার ঘটাচ্ছে। মাদকের প্রতি ঘৃণার উদ্রেগ তৈরি করছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদক নির্মূলে সচেতনতার চেয়ে বড় অস্ত্র কিছু নেই। আর তাই সচেতনতায় সৃষ্টিতে জেলার সাত উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মাদকবিরোধী বার্তা। এছাড়া 'মাদক তাড়াও, নাটোর বাঁচাও' স্লোগানে ‘মাদক তাড়াই কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন
নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন

 

তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে এখন নাটোরের সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হচ্ছে অভিনব প্রচারণায়। আমি চেয়েছিলাম মানুষ ঘৃণা করতে শিখুক এবং সেই ঘৃণা ছড়িয়ে দিক সর্বত্র। মাদক এখানে পুরোপুরি নির্মূল না হলেও দুষ্প্রাপ্য হয়েছে আগের চেয়ে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী যদি নিজের ভুল বুঝতে পারে, তবে পুলিশ তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

স্থানীয় সমাজকর্মী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ঘৃণার উপর আর কোনো প্রতিবাদ নেই। নাটোরবাসী মাদকের প্রতি সেই ঘৃণা প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। দায়িত্বশীলরা এগিয়ে এলে এবার মাদকের বিরুদ্ধে সত্যিকারের সামাজিক আন্দোলন হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মাদকের কুফল নিয়ে বরাবরই সোচ্চার থাকেন নাটোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু। তিনি বলেন, প্রথমবার মাদকের বিরুদ্ধে নাটোরবাসীকে প্রকাশ্যে আওয়াজ তুলতে দেখলাম। এই বার্তা প্রতীকী হলেও ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের স্বার্থে, যাতে তারা অন্তত মাদককে ঘৃণা করতে শেখে।

মাদক বিক্রেতার বাড়ি হবে গণশৌচাগার!

নাটোর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও কলামিস্ট রেজাউল করিম খান মাদকের প্রতি জনগণের ঘৃণা প্রদর্শনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মাদক উদ্ধার বা আসামি গ্রেপ্তার যে মাদক নির্মূলে যথেষ্ট নয়, তা পরিষ্কার। দরকার জনসচেতনতা, যা তৈরি করতে শুরু করেছে জেলা পুলিশ এবং ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, গত চার মাসে জেলায় ৫৬০টি মাদক মামলা দায়ের করে পুলিশ। এসব মামলায় ৯১ লাখ ৬৯ হাজার ৪১০ টাকা মূল্যের ২২ হাজার পিস ইয়াবা, ৪৩২ বোতল ফেনসিডিল, ২৫৪ লিটার চোলাই মদ, ৩১ কেজি গাঁজা, ৩০৮.৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকা অবস্থায় ৮৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :