Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নাফ নদীর জেলেপাড়ায় নীরব দুর্ভিক্ষ

নাফ নদীর জেলেপাড়ায় নীরব দুর্ভিক্ষ
নাফ নদীর পাড়ে বসে থাকা হতাশাগ্রস্ত এক জেলে, ছবি: বার্তা২৪
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কক্সবাজার


  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী পাড়ের জেলে সম্প্রদায়ের মাঝে চলছে নিরব দুর্ভিক্ষ। দুই বছর ধরে নাফ নদীতে মাছ শিকারের উপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে জেলেরা দিন পার করছেন খেয়ে না খেয়ে। বন্ধ রয়েছে সন্তানদের পড়াশোনাও।

তবে প্রশাসন জানিয়েছে, ইয়াবা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে এ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নাফ নদী উন্মুক্ত করে দিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি চলছে।

নাফ নদীতে মাছ আহরণ করে সংসার চলে ৩০ হাজারেরও বেশি জেলের। অসাধু কিছু জেলে ইয়াবা পাচারে সহযোগিতা করায় এই নদীতে মাছ শিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অসাধু কিছু জেলের জন্য আজ হাজারো জেলের না খেয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এক জেলে আত্মহত্যাও করেছেন!

নাফ নদীতে মাছ আহরণ বন্ধ: জেলে পাড়ায় নিরব দুর্ভিক্ষ

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ইয়াবা পাচার বন্ধে ২০১৭ সালে ২৪ আগস্টের পর থেকে নাফ নদীতে মাছ আহরণ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এরপর থেকেই চরম বিপদে পড়েন স্থানীয় জেলেরা। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার পরও থেমে এই নদী দিয়ে ইয়াবা পাচার।

এমনিভাবে টেকনাফের জেলের পল্লীর শত শত নারী পুরুষ প্রতিদিন আহাজারি করেন তাদের কর্মক্ষেত্র ফিরে পাওয়ার জন্য।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, পূর্ব পুরুষের শেখানো মাছ শিকারের কাজটি ছাড়া তারা কোনো কাজই করতে পারেন না। আর তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের অভাব অনটনের পাশাপাশি তাদের মাথার উপর এখন ঋণের বোঝা চেপে বসেছে।

নাফ নদীতে মাছ আহরণ বন্ধ: জেলে পাড়ায় নিরব দুর্ভিক্ষ

টেকনাফের জেলে মোহাম্মদ সেলিম বলেন, নাফ নদীতে মাছ আহরণ করেই চলতো আমাদের সংসার। ছেলে-মেয়ে আটজন আছে। অনাহারে দিন যার, আনাহারে রাত পার। পড়ালেখার কথা তো বাদই দিলাম।

হ্নীলার জেলে পল্লীর বাসিন্দা লক্ষীস্বরী বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এ নদীতে মাছ আহরণ করে চলছে আমাদের সংসার। কিন্তু এরকম সংকট কখনো দেখেনি। শুকনো খাবার খেয়ে দিন যাচ্ছে আমাদের। এক বেলা খেলে, আরেক বেলা খেতে পারছি না। শরীরের ভারে এখন আর কষ্ট করে খেতেও পারি না।

নাফ নদীতে মাছ আহরণ বন্ধ: জেলে পাড়ায় নিরব দুর্ভিক্ষ

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তা২৪.কমকে বলেন, নাফ নদী ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সাগরের মাছ ধরতে যেতে পারছে জেলেরা। কিন্তু অনেক জেলে সেখানে মাছ আহরণে যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আবছার বার্তা২৪.কমকে বলেন, নাফ নদী জেলেদের মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত আশার সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে নাফ নদী।

আপনার মতামত লিখুন :

পাটুরিয়ায় ইলিশ খেতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কলেজছাত্রী

পাটুরিয়ায় ইলিশ খেতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কলেজছাত্রী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের ঘিওরে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মেহেরুননেছা (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ইলিশ মাছ খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মারা যান মেহেরুননেছা।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার গিলণ্ড এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেহেরুননেছা। একই দুর্ঘটনায় আহত হয় তার আরও চার বন্ধু বান্ধবী। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঢাকার সাভার উপজেলার জামসিং এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে মেহেরুননেছা। সাভারের একটি কলেজ থেকে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইয়ামিন উদ দৌলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, বন্ধু বান্ধবীদের সঙ্গে পাটুরিয়া ঘাটে ইলিশ খাওয়ার জন্য আসে মেহেরুননেছাসহ মোট পাঁচজন। এরপর মাইক্রোবাসে করে পাটুরিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে মহাসড়কের গিলণ্ড এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাদেরকে চাপা দিয়ে চলে যায়।

এ সময় দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেহেরুননেছা। একই দুর্ঘটনায় আহত আরও চারজনকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ঘিওর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

নীলফামারীতে বিএনপির ৩০ নেতা কারাগারে

নীলফামারীতে বিএনপির ৩০ নেতা কারাগারে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

সন্ত্রাস ও নাশকতার মামলায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ ৩০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (২১ জুলাই) বিকেলে ডিমলা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালতে হাজির হয়ে উক্ত মামলায় জামিন আবেদন করেন। কিন্তু নীলফামারী জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রেজাউল করিম এ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডিমলা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নে আসামিরা এক হয়ে সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হলে তিন মাস আগে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। এই মামলায় ৭০ জন আসামি ছিলেন।

নীলফামারী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অক্ষয় কুমার রায় জানান, এই মামলায় আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। আজ রোববার তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডিমলা উপজেলা বিএনপির আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ডিমলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান রানা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী প্রমুখ।

নীলফামারী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আসামি পক্ষের আইনজীবী আল মাসুদ চৌধুরী জানান, নেতাকর্মীদের হয়রানি করার জন্য এই মামলা করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র