Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জয়পুরহাটে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

জয়পুরহাটে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
জয়পুরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

জয়পুরহাট সদর উপজেলার তেঘরবিশা গ্রাম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সকালে ওই গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা রাতে ওই যুবককে অন্য কোনো এলাকা থেকে তেঘরবিশা কবরস্থানে এনে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক সদর হাসাপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের পরিচয় ও এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: ৭ শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: ৭ শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু
কুড়িগ্রামে বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। এরইমধ্যে বন্যার পানিতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ শিশুসহ ৫ জন এবং পানিতে ডুবে ৩ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর এলাকায় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে আরো ২ জন।

নৌকা ডুবিতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563281707536.jpg

স্থানীয়রা জানায়, নতুন অনন্তপুর গ্রামের কয়েকজন মহিলা ১৪ থেকে ১৫ জন শিশুকে নিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে বন্যার পানিতে ঘুরতে পার্শ্ববর্তী একটি বিলে যান। এ সময় অতিরিক্ত ভারের কারণে বিলের পানিতে নৌকাটি ডুবে যায়।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করে নৌকা নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে যায়। তারা শিশুসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়। আর এক শিশুর মা নিহত রুনা বেগম (৩৫) তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজে পানিতে ডুবে দুই হাতে সন্তানকে পানির উপর ভাসিয়ে রাখেন। স্থানীয়রা তার শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবে থাকায় মা রুনাকে বাঁচাতে পারেননি।

নিহত অপর ৪ শিশুরা হলেন, অনন্তপুর গ্রামের ব্যাপারীপাড়ার আয়নাল হকের পুত্র হাসিবুল (৭) একই গ্রামের মহসিন আলীর কন্যা রুপা মনি (৮), মনছুর আলীর পুত্র মোরসালিন সুমন (১০)এবং রাশেদের কন্যা শিশু রুকু মনি (৭)।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছে। এদের মধ্যে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরেকজনের লাশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাসহ স্থানীয় লোকজন পানির নিচে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন, রৌমারী উপজেলার চাক্তাবাড়ী গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৩) এবং নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের মাদাইখাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ.ন.ম মুসার পুত্র আল মামুন (৪০)।

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন কবির জানান, মাদাইখাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ.ন.ম মুসা সোমবার নিজে বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বড় ছেলে আল মামুন নাগেশ্বরী উপজেলা শহর থেকে তার বাবাকে নিতে বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথে বন্যার পানি ভেঙে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাড়ির পাশে মাদাইখাল এলাকায় খাদে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর মঙ্গলবার দুপুর নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পার্শ্ববর্তী জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563281725035.jpg

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো: দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, রৌমারী উপজেলার চাক্তাবাড়ী এলাকায় বেরিবাঁধ ভেঙে প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে সাইফুর ইসলাম বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কলা গাছের ভেলায় উঠিয়ে উঁচু স্থানের দিকে যাওয়ার সময় বিদ্যুতের তারের সাথে ধাক্কা লেগে পানিতে পড়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন সন্ধান পাননি।

এছাড়াও গত রোববার ও সোমবার দুইদিনে বন্যার পানিতে ডুবে চিলমারীতে ২ এবং উলিপুরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: এসএম আমিনুল ইসলাম।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তার পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৯ উপজেলার ৫৬ ইউনিয়নের ৪০৭ টি গ্রাম। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে প্রায় ৪ লাখের বেশি মানুষ। বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বানভাসি মানুষ 

শেরপুরে বন্যার পানিতে মিলল বৃদ্ধার মর‌দেহ

শেরপুরে বন্যার পানিতে মিলল বৃদ্ধার মর‌দেহ
প্রতীকী ছবি

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে আসিমা বেওয়া (১০৫) নামে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সারিকালিনগর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আসিমা বেওয়া ওই গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন মন্ডলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবার জানায়, গত রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে তার মেয়ে তাকে ঘুমিয়ে রেখে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর পাননি। বাড়ির আঙ্গিনাসহ চারপাশে বন্যার পানি ছিল। পরিবারের ধারণা- আসিয়া রাতে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গিয়ে বন্যার পানিতে পড়ে ভেসে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বা‌ড়ির পা‌শে আসিয়ার মর‌দেহ ভাসতে দেখেন এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থে‌কে মর‌দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র