Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

১০০ টাকার তরমুজ ৩০০ টাকা

১০০ টাকার তরমুজ ৩০০ টাকা
রাজবাড়ীর রেলগেট এলাকার তরমুজ বিক্রেতা বিপ্লব। ছবি: বার্তা২৪.কম
সোহেল মিয়া
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজবাড়ী


  • Font increase
  • Font Decrease

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১শ টাকার তরমুজ এখন ৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজান মাসকে পুঁজি করে রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলায় বাজারে সিন্ডিকেট করে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

ফলে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে এখন এই মৌসুমী ফল। রোজা শুরুর আগেও রাজবাড়ীতে তরমুজ বিক্রি হতো পিস হিসাবে। আর এখন সেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি হিসাবে। বিক্রেতারা প্রতি কেজি তরমুজের দাম চাচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। আর কেজি হিসাবে বিক্রি করার কারণে ১শ টাকার তরমুজ এখন ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৩শ টাকা দিয়ে।

এদিকে হঠাৎ করে কেজি হিসাবে তরমুজ বিক্রি শুরু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ীর রেলগেট এলাকায় বেশ কয়েকটি তরমুজের দোকান রয়েছে। সেখানে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। প্রতি কেজি তরমুজের দাম তারা নিচ্ছেন ৬০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা একটু সচ্ছল তারা কিনছে আর যারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত তারা দাম শুনেই চলে যাচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/14/1557822686273.gif

বালিয়াকান্দি বাজারে তরমুজ কিনতে আসা ভ্যান চালক জামাল উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমার ছেলে অনেক দিন হলো তরমুজ খেতে চেয়েছে। তাই ভাবলাম আজ কিনে নিয়ে যাবো। কিন্তু কিনতে এসে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। যে তরমুজের দাম ৬০-৭০ টাকা, সেই তরমুজের দাম চাচ্ছে ২৬০ টাকা। আমি আজ সারা দিন ধরে এতো টাকা আয়ই করতে পারিনি। তাহলে তরমুজ কিনব কীভাবে?’

এ বিষয়ে তরমুজ বিক্রেতা বিপ্লব বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা কী করব। যে ১শ পিস তরমুজ গতবছর আমরা ১০-১২ হাজার টাকায় কিনেছি, এবার তা ৩০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। উপায় না পেয়ে তাই কেজি দরে বিক্রি করছি।’

রোজা শুরুর আগে পিস হিসাবে বিক্রি করতেন, এখন রোজা শুরু হওয়ার পর কেজি দরে বিক্রি করছেন কেন এমন প্রশ্নে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন তিনি। পরে বলেন, ‘সবাই বিক্রি করছে, তাই আমিও করছি।’

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে উঠেছিল। এই উপজেলাতে তরমুজের দাম যাতে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে বিষয়টি আমরা দেখব। কোনো সিন্ডিকেট করে লাভ হবে না। যারা বেশি মুনাফা লাভের আশায় সিন্ডিকেট করে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

জাগ দেওয়ার পানির অভাবে ঝিনাইদহে চিন্তিত পাটচাষিরা

জাগ দেওয়ার পানির অভাবে ঝিনাইদহে চিন্তিত পাটচাষিরা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

দেশের নদীবিধৌত জেলাগুলো বানের জলে ভাসলেও ঝিনাইদহের জলাশয়গুলোতে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই। ফলে জাগ দিতে পারবেন না, এই আশঙ্কায় এখনও জমি থেকে পাট কাটা শুরু করেননি কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় ২০ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৯০০, কালীগঞ্জে ১ হাজার ৩৪০, কোটচাঁদপুরে ৬৫০, মহেশপুরে ৩ হাজার ১৫০, শৈলকুপায় ৭ হাজার ১৩৫ ও হরিণাকুন্ডুতে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে।

কিন্তু পাট কাটার উপযুক্ত সময় হলেও মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পাট কাটতে ব্যস্ততা নেই কৃষকদের। দু’একজন কৃষক ধান লাগানোর জন্য পাট কাটছেন। তবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা।

শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের চাষি আব্দুল মালেক জানান, এ বছর তিনি আড়াই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। জমির আশপাশের পুকুর বা ডোবায় পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে হচ্ছে দূরে। দূরবর্তী নদী বা বিলে জাগ দিতে গাড়ি বা ভ্যান ভাড়া লাগছে প্রতি আঁটি ৩/৪ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

একই উপজেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামের চাষি মনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট কাটতে শ্রমিকরা বিঘা প্রতি দুই হাজার টাকা করে নিচ্ছে। জাগ দিতে প্রতি আঁটি দুই টাকা ও ধুতে প্রতি আঁটি তিন টাকা করে নিচ্ছেন। শুরু থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতি বিঘা পাট চাষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। পাট হয় ১০ থেকে ১১ মণ। এখন পাটের যে বাজার মূল্য আছে, তাতে কিছুটা লাভ থাকবে। বাজার পড়ে গেলে লাভ থাকবে না।

Jhenidah-Jute-Cultivation-Photo-22-07-19-(2)

সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রামের কৃষক রাসেল হোসেন বলেন, পাট কাটার সময় হয়ে গেছে। কিন্তু পানি না থাকায় পাট কাটতে পারছি না। আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করছি, যদি নদীতে পানি হয় তাহলে পাট কাটব।

একই এলাকার কৃষক জামিরুল ইসলাম বলেন, জমিতে ধান লাগানোর জন্য পাট কাটছি। নদীতে পানি না থাকার কারণে বাড়ির পাশের পুকুরে সেচ দিয়ে সেখানে পাট জাগ দেব। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এখন বাজারে ১৪০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর একটু দাম পেলে সেই খরচটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জি এম আব্দুর রউফ বলেন, এ বছর পাটের দামও ভালো আছে। তবে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। অনেক স্থানে চাষিরা পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছেন। ভারী বৃষ্টির অপেক্ষোয় আছেন তারা। খাল-বিলে পানি জমলে জাগ দিতে পারবেন তারা।

গৌরীপুর পৌরশহরে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগ চরমে

গৌরীপুর পৌরশহরে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগ চরমে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবিতে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলনে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরবাসী। পৌরসভায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদ বিভিন্ন কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এমনকি কর্মচারীরা না থাকায় শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারও হচ্ছে। পৌর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নাগরিকরা।

Gouripur-news-and-pic-powroshova-22-7-19-(3)

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবিতে গত ১৪ জুলাই থেকে ঢাকায় আন্দোলনে রয়েছেন। তাদের মহাসমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাজধানীতে আছেন গৌরীপুর পৌরসভার বেশিরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এতে পৌরসভায় দাফতরিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে।

সোমবার (২২ জুলাই) বিকালে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড, উত্তরবাজার, মাছ বাজার, মধ্যবাজার, হারুন পার্ক, ধান মহাল, মরিচ মহাল, স্টেশনরোড ও কালীপুর মধ্যমতরফ এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ডাস্টবিনগুলো উপচে ময়লা বের হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে নাকাল হতে হচ্ছে পথচারীদের। আবর্জনার অসহনীয় গন্ধে অনেকেই দোকান বন্ধ রেখেছেন।

Gouripur-news-and-pic-powroshova-22-7-19-(3)

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার কঞ্জারভেন্তি সুপারভাইজার মো. আবু সিদ্দিক বলেন, আমরা ঢাকায় আছি। আমাদের সন্তানরা না খেয়ে থাকবে, আমি উপোস থাকব, সেটা কীভাবে দেব?

গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় পৌরবাসী সেবা পেতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। শহরের পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও খারাপ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র