Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হায়রে প্রেম!

হায়রে প্রেম!
আহত রিতা খাতুন। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নড়াইল


  • Font increase
  • Font Decrease

‘বয়স ১৮ বছর। লেখাপড়া করছি অনার্স প্রথম বর্ষে। এরই মধ্যে আমার জীবনে প্রেম আসে। আর সুখে সংসার করার আশায় পরিবারের অজান্তে বিয়ে করে ফেলি। কিন্তু বিধিবাম, সুখ তো দূরের কথা এখন জীবন বাঁচানো দায়।’

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলছিলেন রিতা খাতুন। তার বিয়ে হয়েছে মাত্র আড়াই মাস হলো। তবে শরীরে স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির করা নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ভর্তি হয়েছেন নড়াইল সদর হাসপাতালে। সোমবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

রিতা খাতুনের স্বামীর নাম অলিদ মোল্যা। তিনি নড়াইল পৌরসভার ভওয়াখালী গ্রামের ফরিদ মোল্যার ছেলে।

জানা গেছে, গত ৩ মার্চ নড়াইল সদর উপজেলার বাকশাডাঙ্গা গ্রামের নজরুল চৌধুরীর মেয়ে রিতা খাতুন পরিবারের অজান্তে অলিদ মোল্যাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে রিতাকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হতো না। স্বামী অলিদ মোল্যা গত ১২ মে রাতে নামাজ পড়তে গেলে রিতা তার খালা ও বোনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন।

বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী অলিদ মোল্যা ও তার পরিবারের সদস্যরা রিতাকে মারধর করে গুরুতর জখম অবস্থায় ঘরের মধ্যে ফেলে রাখে। পরে রিতা কৌশলে তার বোনের বাড়িতে পালিয়ে যায়। গত সোমবার রাতে রিতাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রিতার চোখসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আহত রিতা খাতুন বলেন, ‘পরিবারকে না জানিয়ে প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। কপালে সুখ জুটল না। আমরা গরিব মানুষ। তাই স্বামীর পরিবারের লোকজন আমাকে মেনে নিতে পারেনি।’

রিতা অভিযোগ করে বলেন, ‘অলিদের আগে একটা বিয়ে থাকলেও আমি জানতাম না। হায়রে প্রেম আমার। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে কখনো ধারণা করতে পারিনি।’

রিতার মা জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অলিদ তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে এখন নির্যাতন করছে। আমরা গরিব মানুষ এর বিচার কী পাব না?’

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী অলিদ মোল্যাকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

পাটুরিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি

পাটুরিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত বইছে। নৌরুটে দেখা দিয়েছে ফেরির স্বল্পতা। এ অবস্থায় ধীর গতিতে চলছে পারাপার। ফলে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।

পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের। জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি পারাপারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাকের চালকেরা।

নৌরুট পারাপারের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের এসব ভোগান্তি নিত্যদিনের। তবে খুব সহসাই এর থেকে তাদের রেহাই মিলছে না বলে জানায় ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকালে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ৩ শতাধিক গাড়ি অপেক্ষামান ছিল। এসবের বেশির ভাগই পণ্যবাহী ট্রাক।

Paruria Ghat

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের এজিএম জিল্লুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় প্রচণ্ড স্রোত রয়েছে। একারণে ফেরি চলাচলে সময় লাগছে আগের চেয়ে বেশি। এছাড়াও নৌরুটে থাকা ছোট একটি ফেরি মেরামতে রয়েছে। বাকি ১৪টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে যানবাহন পারাপার কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি জানান, মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে চারটি এবং মাওয়া ঘাটে একটি ফেরি রয়েছে। ঈদের আগেই মেরামত সম্পন্ন হয়ে নৌরুটে যুক্ত হবে ওই ফেরিগুলো। এর আগ পর্যন্ত পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়লে পারাপারে কিছুটা সময় অপেক্ষামান থাকতে হতে পারে।

সিরাজগঞ্জে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১১ জনের দাফন সম্পন্ন

সিরাজগঞ্জে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১১ জনের দাফন সম্পন্ন
নিহতদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত বর-কনেসহ ১১ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার থেকে বাদ জোহর পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, রামগাঁতি, কালিয়া হরিপুর, সয়াধানগড়া, দিয়ার ধানগড়া ঈদগাহ ও এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের ঘাটিনা ঈদগাহ মাঠ ও রায়গঞ্জের উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামে পৃথক পৃথকভাবে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ অংশ নেয়। শেষবারের মতো মৃতদেহগুলো দেখতে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ ছুটে এসে ভিড় জমায়। পৃথক পৃথকভাবে সাতটি জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। চোখের পানি ঠেকাতে পারেননি অনেকেই। সান্ত্বনা দেয়ারও ভাষা ছিল না কারও কাছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272947300.jpg
দুর্ঘটনার পরবর্তী অবস্থা, ছবি: ফাইল ফটো

 

জানাজা নামাজ শেষে উত্তর কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে বর রাজন শেখ (২২), বরের মামাতো ভাই শিশু আলিফ বায়েজিদ (৮), চুনিয়াহাটি (কাজীপাড়া)র মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভাষা সেখ (৫৫)কে কালিয়া হরিপুর করবস্থান, বরযাত্রী শহরের রামগাতি মহল্লার আব্দুল মতির ছেলে আব্দুস সামাদ (৫০), তার ছেলে শাকিল (২০), সয়াধানগড়া মহল্লার সুরুত আলীর ছেলে হেলপার আব্দুল আহাদ সুজন (২১), দিয়ারধানগড়া মহল্লার আলতাফ হোসেনের ছেলে শরীফুল ইসলাম (২৬)কে পৌর এলাকার মালশাপাড়া কবরস্থান, চালক স্বাধীন (৪৫)কে পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ কবরস্থান, রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামের আলম শেখের ছেলে খোকন (৩৫)কে কৃষ্ণদিয়ার পারিবারিক কবরস্থান এবং উল্লাপাড়া পৌর এলাকার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর সেখের মেয়ে নব বিবাহিত সুমাইয়া খাতুন (১৮) ও তার ভাবি আশরাফ আলীর স্ত্রী মমতা বেগম (৩৫)কে এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের ঘাটিনা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে বিয়ের মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, বর-কনেসহ নিহত ১০

উল্লেখ্য, বিয়ের মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়া থেকে বেতকান্দি যাবার পথে সলপ এলাকায় রেলক্রসিং পার হবার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিহত হয়।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৬ জনের দাফন সম্পন্ন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র