Alexa

যৌতুক নয়, পরকীয়ার কারণেই বাল্যবধূ ফারজানা খুন

যৌতুক নয়, পরকীয়ার কারণেই বাল্যবধূ ফারজানা খুন

রকির হাতে খুন হন স্ত্রী ফারজানা ছবি: সংগৃহীত

যৌতুকের জন্য নয়, পরকীয়ার কারণেই বাল্য বিয়ের শিকার নববধূ ফারজানাকে (১৫) খুন করে তার স্বামী রকি হোসেন। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে আদালতের ১৬৪ ধারায় স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে রকি জবানবন্দী দেয়।

রকি বগুড়ার নন্দীগ্রাম থানার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের মঞ্জুরুল ইসলামের ছেলে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রকির বাড়ির পাশের বাঁশ ঝাড় থেকে তার স্ত্রী ফারজানার লাশ উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কালাম যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ কৌশলে রকি হোসেনকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নন্দীগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর মোহাম্মদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত রকি তার জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন যে, তার প্রথম স্ত্রী অন্য এক যুবকের সাথে পরকীয়া সর্ম্পক করে সাত মাস আগে স্বামী রকিকে তালাক দেয়। এরপর থেকে তার বিয়ে হচ্ছিল না। একমাস আগে পার্শ্ববর্তী আগাপুর গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে ফারজানাকে বিয়ে করেন রকি।

বিয়ের সময় ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দিতে চাইলেও তা বাকি রাখা হয়। যৌতুক না দেয়া নিয়ে রকি বা তার পরিবারের কোন আপত্তি ছিল না। বিয়ের পরপরই ফারজানা স্বামীর বাড়ি যেতে চাচ্ছিল না। খুনের দুই সপ্তাহ আগে রকি স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। স্বামীর বাড়িতে আসার পর থেকেই ফারজানা মোবাইল ফোনে অপর এক যুবকের সাথে প্রায় কথা বলতো। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। এক পর্যায়ে ফারজানা সংসার করবে না বলে রকিকে জানিয়ে দেয়। দ্বিতীয় স্ত্রী চলে গেলে আবারও বিয়ে করা কঠিন হবে মর্মে ফারজানাকে বোঝানোর চেষ্টা করে স্বামী রকি।

রকির বর্ণনা অনুযায়ী রোববার (১২ মে) দিবাগত রাত একটার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। তিনটার দিকে ঘুম থেকে জেগে দেখে বিছানায় স্ত্রী নেই, ঘরের দরজা খোলা। রকি বের হয়ে দেখে স্ত্রী ফারজানা কার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছে। এদৃশ্য দেখে রকি রাগের মাথায় ওড়না দিয়ে স্ত্রীর গলায় ফাঁস দেন। ফারজানা মাটিতে পড়ে গেলে তার বুকের উপর পা তুলে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

সকালে ফারজানার লাশ পাওয়া গেলে প্রতিবেশীরা রকিকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ আসলে রকি কৌশলে পালিয়ে যান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত রকি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যৌতুকের জন্য নয়, পরকীয়ার কারণেই স্ত্রীকে সে একাই খুন করেছে।’

আপনার মতামত লিখুন :