Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

টাঙ্গাইলের ঘটনা পরিকল্পিত: খাদ্যমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের ঘটনা পরিকল্পিত: খাদ্যমন্ত্রী
সিরাজগঞ্জে প্রান্তিক কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ও চাল ক্রয়ের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
সিরাজগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ন্যায্য মূল্য ও শ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে এক কৃষকের ধান ক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিত। সন্তান যতই বিকলাঙ্গ হোক না কেন, পিতা তার সন্তানকে গলাটিপে মেরে ফেলতে পারবে না। ধানের দাম ২০০ টাকা হলেও কৃষক পোড়াবে না। মনে ক্ষোভ থাকতে পরে। ওই ঘটনা সরকারকে পর্যুদস্ত করার একটা পরিকল্পনা।

বুধবার (১৫ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে প্রান্তিক কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ও চাল ক্রয়ের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ছাড়া একটি কেজি ধানও বাইরে থেকে কিনতে দেব না। কারণ সরকারকে পর্যুদস্ত করার জন্য নানাভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। আমিও একজন কৃষক, ধান বিক্রি করি। আমারও কষ্ট আছে। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলোচনা করেছি। প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান না কেনা পর্যন্ত কৃষকদেরকে ঠিক মতো মূল্যায়ন করা যাবে না।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রান্তিক কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে ধান ও চাল ক্রয়ের যে বরাদ্দ দিয়েছি, তা যেন দ্রুত করা হয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য যে সব এলাকায় বোরো ধান বেশি উৎপাদন হয়, সেসব এলাকায় প্যাডিক সাইস্লো ডাই মেশিং এবং ফ্যানি মেশিং দেওয়া হবে। এতে অন্তত ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান যেন কেনা যাবে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ছাড়া একটি কেজি ধানও বাইরে থেকে কিনতে দেব না। কারণ সরকারকে পর্যুদস্ত করার জন্য নানাভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। আমিও একজন কৃষক, ধান বিক্রি করি। আমারও কষ্ট আছে। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলোচনা করেছি। প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান না কেনা পর্যন্ত কৃষকদেরকে ঠিক মতো মূল্যায়ন করা যাবে না।

টাঙ্গাইলের ঘটনা পরিকল্পিত: খাদ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, এ সরকার কৃষক বাঁচানোর সরকার। কৃষক মারার সরকার নয়। প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষক ছাড়া কোনো মিলার বা ঠিকাদারের কাছ থেকে এক ছটাক ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে না। সরকারি দলের লোকজনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঝামেলা হবে না। বরং কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিশ্চিত করতে তারা প্রতিনিয়ত পাহারা দেবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন। এতে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ইফতেখার উদ্দিন শামীম, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মোতালেব, কাজীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সিরাজগঞ্জে পাঁচ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন ধান, ২২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন বোরো চাল, আতপ চাল পাঁচ হাজার ৮২২ মেট্রিক টন এবং দুই হাজার ২৫১ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হবে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ২৬ টাকা, চাল ৩৬ টাকা, আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজি।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ধানক্ষেতে আগুন ধরিয়ে কৃষকের প্রতিবাদ

আপনার মতামত লিখুন :

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে
জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই, চলছে আমনের চারা রোপণ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে। জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই। একদিকে চলছে জমি চাষ অন্যদিকে চলছে চারা রোপণের কাজ। চারা এবং শ্রমিকের মূল্য কম থাকায় কেউ জমি ফেলে রাখছেন না। বোরো চাষের লোকসান আমন চাষের পুষিয়ে নেয়ার জন্যই কৃষকের এই উদ্যোগ। তবে এবার বন্যার কারণে বগুড়া জেলার পূর্ব অঞ্চলের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় আমন চাষ দেরিতে শুরু হবে।

বগুড়া জেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। এ কারণে কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর এক থেকে দেড় মাস জমি ফেলে রাখে। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু করেন। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকেই আগাম চাষের জন্য সেচ মেশিনের পানি দিয়ে আমন চাষ শুরু করেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, আমন চাষের মৌসুম পহেলা শ্রাবণ থেকে শুরু হয়। কিন্তু  আলু চাষের কারণে বগুড়া অঞ্চলের কৃষক ১৫-২০দিন আগে থেকেই আমন চাষের প্রস্তুতি নেন। এবার আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আগাম আমন চাষ করতে পারেন নি। তবে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক ঘরে বসে নেই।

গাবতলী উপজেলার খলিশাকুড়ি গ্রামের শাহিন ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, তিনি পেশায় গৃহ নির্মাণ শ্রমিক। অন্যের জমি পত্তন নিয়ে তিনি চাষাবাদ করেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় শ্রমিক না নিয়ে নিজেই আমন চারা রোপণ করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563539343944.gif

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বার্তা টোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এবার আমন চাষে খরচ তেমন হবে না। জমিতে পর্যাপ্ত পানি এবং ঘরের বীজ রয়েছে। শুধু চারা রোপণের শ্রমিক এবং জমি চাষের খরচ। পাওয়ার টিলার দিয়ে এক বিঘা জমি চাষ করতে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হয়। এবার শ্রমিকের দাম কম রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোন জমি ফাঁকা নেই, কেউ চাষ করছেন আবার কেউ চারা রোপণ করছেন।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বোরো চাষ করে লোকসান হয়েছে। দাম কম থাকায় এখনও ধান বিক্রি করা হয়নি। লোকসান পুষিয়ে নেয়ার জন্য এবার ১৭ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছি। আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু চাষ করব।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা শ্রাবণ থেকে আমন চাষ শুরু করা হয় এবং তা চলে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। এছাড়াও বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে এবার চরাঞ্চলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

 

নুসরাতের সেই মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা

নুসরাতের সেই মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় ১০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতেই মাদরাসার বিভিন্ন স্থানে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকালে মাদরাসাটি সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে আনার কাজ শেষ হয়।

এই মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তারপর থেকেই আলোচিত হয়ে ওঠে মাদরাসাটি। তবে সিসি ক্যামেরার স্থাপনের কারণে মাদরাসায় যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গভর্নিং বডির সর্বসম্মতিক্রমে মাদরাসা পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। আশা করি, এবার কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভিতে রেকর্ড থাকবে, কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র