Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

মোবাইলে বিয়ে করে মালয়েশিয়া যেতে মরিয়া রোহিঙ্গা নারীরা

মোবাইলে বিয়ে করে মালয়েশিয়া যেতে মরিয়া রোহিঙ্গা নারীরা
সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আটককৃত খতিজা ও নুরুচ্ছাবা / ছবি: বার্তা২৪
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কক্সবাজার


  • Font increase
  • Font Decrease

খতিজা বেগম (১৯)। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের ডি-৬ ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে তার পরিবার। মোবাইলের মাধ্যমে সদ্য বিয়ে হয়েছে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরেক রোহিঙ্গা মো. ইউসূফের সঙ্গে। তার কাছে যেতে দালালের মাধ্যমে সাগর পাড়ি দিতে ক্যাম্প ছেড়েছে খতিজা।

খতিজার মতো নুরুচ্ছাবা বেগমও ক্যাম্প ছেড়েছে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত স্বামী নয়ন উল্লাহর জন্য। তারাও মোবাইলে বিয়ে করেছে। নুরুচ্ছাবার পরিবারের অস্থায়ী বসবাস টেকনাফের মুচনির শালবন ক্যাম্পের ডি ব্লকে।

শুধু নুরুচ্ছাবা ও খতিজা নয় মোট ৪৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক উপকূলে নামিয়ে দেয় দালাল চক্র। মহেশখালী থানা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বার্তা২৪.কমের কাছে এসব তথ্য জানান তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557914966979.jpg

খতিজা বেগম বলেন, ‘মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসার পর থেকে ইউসূফের সঙ্গে আমার যোগাযোগ। তারপর দুই পরিবারের মতের ভিত্তিতে সম্প্রতি মোবাইলে বিয়ে হয় আমাদের। এরপর এক বড় ভাই বলেছে আমাদেরকে সহজে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেবে। আমার স্বামীও একই কথা বলেছে। সাগর পাড়ি দিতে হবে সেটা জানতাম না। তবে বলছে যে অল্প সাগর পাড়ি দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু দূর নেওয়ার পর একটা এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয় আমাদের। পরে আমরা কিছুই চিনতে পারছিলাম না। এক পর্যায়ে পুলিশ আমাদের ধরে নিয়ে আসে।’

একই কথা জানান নুরুচ্ছাবা বেগমও। তবে তার কথাগুলো একটু ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘নয়নের সঙ্গে পরিচয় বর্মা (মিয়ানমার) থাকতে। এরপর বাংলাদেশে চলে আসি আমরা। তার সঙ্গে কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ হয়। পরে আমরা মোবাইলে বিয়ে করি। এখন তার কাছে যাচ্ছিলাম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557915485458.jpg

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিনে ৯৭ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক থেকে ২৯ জন, কালারমারছড়া থেকে ১৪ জন, পৃথক অভিযানে টেকনাফের বাহারছড়া থেকে ২০ জন ও মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের দরিয়া নগর এলাকা থেকে ৩৪ জনকে আটক করা হয়। তাদেরকে পরবর্তীতে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এটা খুবই শঙ্কার কথা। মালয়েশিয়া যাওয়ার বিষয়টি আরও ভয়ঙ্কর। এটি যদি চালু হয় তাহলে স্থানীয়দের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের মুখপাত্র এইচ এম নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ২০১৫ সালেও মালয়েশিয়া যাওয়া শুরু করেছিল। যেটা পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রভাব পড়ে। যার ফলে অনেক বাংলাদেশি নিখোঁজ ও প্রাণ হারায়।’

দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557915510231.jpg

কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলা থেকে কিছু রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে এসব রোহিঙ্গা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে। চেকপোস্টে তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।’

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা পাচার ঠেকাতে সাগরে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে কোস্টগার্ড। কক্সবাজার উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে।’

ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকে আছেন বলে জানান। তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র