Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গরিবের ঘর নির্মাণে হেরফের

গরিবের ঘর নির্মাণে হেরফের
ছবি: বার্তা২৪.কম
মাজেদুল হক মানিক
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
মেহেরপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারা দেশে এ প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়হীন মানুষকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এমন একটি ঘর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরিবের ঘর নির্মাণে এই হেরফের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। অবশ্য অনিয়ম হাতেনাতে ধরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন পৌর মেয়র।

জানা গেছে, ওই প্রকল্পের আওতায় গাংনী উপজেলা শহরের উত্তরপাড়ার প্রতিবন্ধী হাফিজা খাতুনের জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। নানা অনিয়মের খবর পেয়ে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম সেখানে পরিদর্শনে যান। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যায় রাজমিস্ত্রি।

মেয়র আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী হাফিজা খাতুনের ঘর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত নিম্নমানের। তাছাড়াও প্রতিবন্ধী হাফিজা খাতুনকে দিয়ে ইট ও নির্মাণ সামগ্রী বহন করাচ্ছে রাজমিস্ত্রিরা। তার কাছ থেকে টাকাও বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নির্মাণ ও ঘর বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিষ্ণুপদ পাল নিজেই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয় তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। কাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে কাজ বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়টি ইউএনও একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাজেই অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় তাকেই নিতে হবে।

ইউএনও বিষ্ণুপদ পাল জানান, রাজমিস্ত্রি পলাশ হোসেন প্রতিবন্ধীর সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। অনিয়ম করলে সে করেছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পাবে না। তাকে আটক করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে গাংনী উপজেলায় ৪১টি ঘর নির্মাণ করা হবে। ঘরগুলো সেমি পাকা ১৬ ফিট দৈর্ঘ্য এবং ১০ ফুট প্রস্থের। উপরে চার চালা টিনের ছাউনি। বারান্দার মাপ সাড়ে চার ফিট এবং একটি স্যানিটারি টয়লেটও রয়েছে। এই একটি ঘর নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা করে।

ইউএনও সভাপতি, পিআইও সদস্য সচিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী ও পৌর প্রতিনিধি এ কমিটির সদস্য বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি

ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি
পানিতে তলিয়ে গেছে পদ্মার পাড়ের বাড়ি-ঘর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে নদীর পানি। ফলে ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর নিম্নঞ্চালের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পদ্মা পাড়ের মানুষ একরকম জন্মলগ্ন থেকেই পানির সাথে যুদ্ধ করে বেচেঁ আছেন। তবে কৃষি নির্ভর হওয়ায় কোনোরকম নিজেদের রক্ষা করলেও গবাদি পশু ও বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী জেলার সদর উপজেলা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায়ই ১৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563578899227.jpg

বন্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিগ্রিরচর, চরমাধবদিয়া ও আলিয়াবাদ এবং চরভদ্রাসন উপজেলার চরঝাউকান্দা, হাজিগঞ্জ, চরহরিরামপুর ও গাজিরটেক, সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, ঢেউখালী ও চরমানাইর ইউনিয়নের বসতবাড়ী, কয়েক হাজার একর বিস্তৃর্ণ ফসলী জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে।

এছাড়া সদরপুর উপজেলার ৪৪টি ও ভাঙ্গা উপজেলায় ১৪টিসহ মোট ৫৮টি বসত ভিটা গত দুদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক জানান, পানিতে তার ইউনিয়নের ৩০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা মারত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই গরু পালন করেছে তারাও তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, পানি বেড়েই চলছে। ফলে ভাঙনও বেড়েছে। আমরা প্রবল ভাঙন কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে কাজ করছি।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘গত তিনদিনে তিন উপজেলায় ৪০ মেট্রিকটন চালের পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। আশা করি সকলের সহযোগিতায় আপদকালীন সময় মোকাবিলা করতে পারব।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোখসানা রহমান জানান, ফরিদপুর এখনো বন্যা দুর্গত জেলায় পরিণত হয়নি। যেসব এলাকায় পানির তীব্রতা বেশি সেসব এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিকসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে শহরের মিজান পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত বাকিদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবরের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র