Alexa

গরিবের ঘর নির্মাণে হেরফের

গরিবের ঘর নির্মাণে হেরফের

ছবি: বার্তা২৪.কম

‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারা দেশে এ প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়হীন মানুষকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এমন একটি ঘর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরিবের ঘর নির্মাণে এই হেরফের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। অবশ্য অনিয়ম হাতেনাতে ধরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন পৌর মেয়র।

জানা গেছে, ওই প্রকল্পের আওতায় গাংনী উপজেলা শহরের উত্তরপাড়ার প্রতিবন্ধী হাফিজা খাতুনের জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। নানা অনিয়মের খবর পেয়ে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম সেখানে পরিদর্শনে যান। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যায় রাজমিস্ত্রি।

মেয়র আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী হাফিজা খাতুনের ঘর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত নিম্নমানের। তাছাড়াও প্রতিবন্ধী হাফিজা খাতুনকে দিয়ে ইট ও নির্মাণ সামগ্রী বহন করাচ্ছে রাজমিস্ত্রিরা। তার কাছ থেকে টাকাও বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নির্মাণ ও ঘর বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিষ্ণুপদ পাল নিজেই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয় তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। কাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে কাজ বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়টি ইউএনও একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাজেই অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় তাকেই নিতে হবে।

ইউএনও বিষ্ণুপদ পাল জানান, রাজমিস্ত্রি পলাশ হোসেন প্রতিবন্ধীর সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। অনিয়ম করলে সে করেছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পাবে না। তাকে আটক করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে গাংনী উপজেলায় ৪১টি ঘর নির্মাণ করা হবে। ঘরগুলো সেমি পাকা ১৬ ফিট দৈর্ঘ্য এবং ১০ ফুট প্রস্থের। উপরে চার চালা টিনের ছাউনি। বারান্দার মাপ সাড়ে চার ফিট এবং একটি স্যানিটারি টয়লেটও রয়েছে। এই একটি ঘর নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা করে।

ইউএনও সভাপতি, পিআইও সদস্য সচিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী ও পৌর প্রতিনিধি এ কমিটির সদস্য বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :