Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

লালমনিরহাটে লোকসানে ধান চাষিরা, লাভে চালকল মালিকরা

লালমনিরহাটে লোকসানে ধান চাষিরা, লাভে চালকল মালিকরা
গাছ থেকে ধান ও খড় আলাদা করা হচ্ছে / ছবি: বার্তা২৪
নিয়াজ আহমেদ সিপন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
লালমনিরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

ঘাম ঝড়ানো শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়ে আপনজনদের নিয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দে থাকবেন। কিন্তু এ বছর লালমনিরহাটের কৃষকদের এই স্বচ্ছলতার স্বপ্নের বিপরীতে বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধানের বাজার মূল্য! কৃষকদের অভিযোগ, সরকারের আপদকালীন চাল কেনার সিদ্ধান্তে মূলত লাভবান হচ্ছেন চালকল মালিক ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা। আর বিঘা প্রতি কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

জেলায় এবার প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ১ হাজার মেট্রিক টন ধান কিনবে সরকার। বিপুল পরিমাণ এই ধান-চাল মূলত কেনা হবে মিল মালিকদের থেকে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় গত বছরের বোরো আবাদ হয়েছিল ৪৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। এবার তা কমে ৪৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩ হাজার হেক্টরের চেয়ে বেশি ধান আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জমির মধ্যে বিআর ২৮ ও বিআর ২৯ ধানের চাষাবাদ বেশি।

কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বোরো ধানের ফলনও হয়েছে বাম্পার। ইতোমধ্যে তিস্তায় এলাকার ৭০ ভাগ ও সমতল এলাকার ৩০ ভাগ ফসলি জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে ধান উৎপাদনে কলচার্জ, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1557971821873.jpg

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দর কম। ফলে লোকসান দিয়েই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। সবমিলিয়ে মুখে হাসি নেই খেটে খাওয়া এসব মেহনতী মানুষের। আর তাই কৃষিকাজে আস্থা হরিয়ে ভবিষ্যতে আর ধান রোপণ করবেন না বলেও জানালেন অনেকে।

কৃষক রমজান আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, `বর্তমানে সরকার ধানের যে বাজার মূল্য দিছে আগামী বছরে আর আবাদ করিম না (করব না)। এ মূল্যে হামার লাভ হবার নয়। দর না বাড়াইলে (দাম না বাড়ালে) আগামীতে আর ধান চাষ কেউ করিম না।’

মফিজুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এক বিঘা জমির ধান করতে খরচ অয় ১০ হাজার টেহা (টাকা)। কিন্তু বাজারো নিয়া গিয়া এই এক বিঘা জমির ধানের দাম ৭ হাজার টেহার বেশি পাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর ঋণ কইরা ধান করছি, এরপরও লোকসান। সামনেরবার এই ধান আর করতাম (করব) না।’

এভাবে শুধু কৃষক মফিজুল ইসলাম নয় এ বছর লোকসানের মুখে পড়ে কৃষি কাজে আস্থা হারাচ্ছেন এ অঞ্চলের বহু কৃষক। তাই লোকসানের মুখ থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে ধানের বাজার মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন লালমনিরহাটের কৃষকরা।

এদিকে সরকারিভাবে নির্ধারিত বাজারমূল্য অনুসারে খাদ্য বিভাগ ধান সংগ্রহ শুরু করলে ধানের বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিদু ভুষণ রায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এ বছর কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বাম্পার ফলন হয়েছে। যার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। সরকারের নির্ধারিত বাজার মূল্যে খাদ্য বিভাগ ধান সংগ্রহ শুরু করলে বাজারে ধানের মূল্য বাড়বে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফিতানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গত ৯ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ মোট দশদিন বন্দরে সকাল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

তবে বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা, ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের চুনিয়াখালিপাড়া মহল্লার কাপড় ব্যবসায়ী আল মুবিন জনের স্ত্রী রুমকি পারভীন (২৬) ও একমাত্র কন্যা জাহরা খাতুন (৩) বেড়াতে গিয়ে চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনার পর গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে ব্যবসায়ী আল মুবিন শাহজাদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।

এই বিষয়ে আল মুবিন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ভেরুয়াদহ গ্রামে খালার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ রুমকির মা জিনাত রেহানা রিনা বলেন, 'নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর বগুড়া থেকে বুলবুল তালুকদার নামের এক যুবক আমার বোন জাহানারা বেগম মিনির কাছে ফোন দিয়ে জানায়, রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুন তার হেফাজতে আছে। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।'

আল মুবিন জানান, মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে ওই যুবক তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে না পারলে তাদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আমরা নিখোঁজ রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের উদ্ধারে সক্ষম হব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র