Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

মিষ্টিতে তেলাপোকা, জরিমানা মাত্র ৫ হাজার টাকা

মিষ্টিতে তেলাপোকা, জরিমানা মাত্র ৫ হাজার টাকা
মিষ্টিতে মরে আছে তেলাপোকা / ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
বাগেরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

বাগেরহাটের মংলায় খাবারের মধ্যে তেলাপোকা থাকায় এক ঘোষ ডেয়ারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মংলা পোর্ট পৌরসভার শেখ আ. হাই সড়কের সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারিতে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম। এ সময় অভিযানকারীরা ঘোষ ডেয়ারির মিষ্টির পাত্রে একটি তেলাপোকা দেখতে পেয়ে মালিক উত্তম ঘোষকে নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া একই সময় নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বেচাকেনার অভিযোগে তালুকদার আব্দুল খালেক সড়কের আল মদিনা হোটেলকে ৩ হাজার ও বাংলাদেশ হোটেলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রমজান মাস জুড়ে শহরের দোকানপাটে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

অভিযানকালে জড়ো হওয়া স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মিষ্টির কড়াইয়ের মধ্যে তেলাপোকা পেয়ে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এটা খুবই কম জরিমানা, কমপক্ষে ৫০ হাজার কিংবা তার বেশি
জরিমানা করা উচিৎ, তাহলেই তারা সতর্ক হবে এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, রমজান শুরুর পর দেরিতে হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানোতে প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, শুধু হোটেল, ঘোষ ডেয়ারি নয় অভিযানের আওতায় আনা প্রয়োজন মুদি, সবজি, মাছ ও মাংসের দোকানগুলোকেও।

আপনার মতামত লিখুন :

আজ মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী
মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, ছবি: সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৬ সালের আজকের এই দিনে ৮৬ বছর বয়সে তৎকালীন ঢাকা পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) রাতের শেষ প্রহরে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার তারুটিয়া গ্রামে এক পীর বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শাহ সৈয়দ আবু ইসহাক ও মাতা আজিজুন্নেছা।

আজীবন সংগ্রামী মানুষ ছিলেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ। তার নেতৃত্বে ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনে সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লোক হতাহত হয়। ১৯৫২ সালে তারই নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন হয়। ১৯৫৫ সালে ১২ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলার দাবিতে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন।

১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি কৃষক আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলনসহ দেশ ও জাতীর ক্রান্তিকালে সকল মুক্তির আন্দোলনে সামনে থেকে জাতীর অধিকার আদায়ে আজীবন সচেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন।

এ মহান জাতীয় নেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে রায়গঞ্জের নুরুন্নাহার তর্কবাগিশ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, উল্লাপাড়া উপজেলার চড়িয়া মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ বিজ্ঞান মাদরাসা, পাটধারী মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ উচ্চ বিদ্যালয়, সলঙ্গা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ পাঠাগার, সলঙ্গা সমাজ কল্যাণ সমিতি, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

পাহাড়ি ঢলে বয়ে আসা বালি-পাথরে হুমকিতে পরিবেশ

পাহাড়ি ঢলে বয়ে আসা বালি-পাথরে হুমকিতে পরিবেশ
পাহাড়ি ঢলে বয়ে আনা বালি পাথরে হুমকির মুখে পরিবেশ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বয়ে এসেছে প্রায় ৪০টি ছড়া। এসব ছড়া পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশে বয়ে আনছে বিপুল পরিমাণ বালি ও পাথর। আর এসব বালি ও পাথরের আগ্রাসনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা এখন হুমকির মুখে। পাশাপাশি প্রায় ২৩টি নদীর নাব্যতা কমে গেছে। ফলে হুমকিতে আছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত এলাকা তাহিরপুর, বিশ্বাম্ভরপুর, দোয়ারা বাজার, ছাতক, ধর্মপাশা, জেলা সদরের ডলুরা, নারায়নতলা দিয়ে মেঘালয় পাহাড় থেকে বয়ে আসছে এসব ছড়া ও নদী। এসব ছড়া ও নদীর ঢলে বিপুল পরিমাণ বালু ও পাথর বাংলাদেশে প্রবেশ করায় পুকুর ভরাট হচ্ছে, ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। ফলে মরু ভূমিতে পরিণত হচ্ছে এলাকাটি।

অন্যদিকে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে নদী ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় ঘর-বাড়ি হারিয়ে পথে বসেছেন স্থানীয়রা। বালুতে ভরাট হওয়া নদীগুলোর ধারণ ক্ষমতা কমায় অল্প পানিতেই নদী ভরে যায়। ফলে নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।

আরও জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার পাঁচশোলা, বিকিবিল, লালকুড়ি, লোভার হাওর ও বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরসহ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার খাশিয়ামারা, সোনালী তলা, টিলাগাঁও, মহবতপুর, ছাতক উপজেলার ইছামতি সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন নদী ও হাওরগুলোতে চৈত্র মাসে ১০-১২ হাত পানি থাকতো। কিন্তু এসব নদী এখন বালুর চড়ে পরিণত হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে। কোনও কোনও নদীর গতিপথও পরিবর্তন হচ্ছে।

তাহিরপুর সীমান্তের চাঁনপুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম ও নুরসহ স্থানীয়রা জানান, ২০০৮ সালের ২০ জুলাই অতি বৃষ্টিতে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে কালো পাহাড় নামকস্থানে পাহাড় ধস হয় এবং পাহাড়ি ঢলে চাঁনপুর সীমান্তের ঘর-বাড়ি হারায় শত শত পরিবার। এছাড়া বালির নিচে চাপা পড়ছে সীমান্ত স্কুল, মসজিদসহ শত শত একর ফসলি জমি। ফলে পাহাড় ও আশপাশে বসবাসকারী পরিবারগুলো বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের আতঙ্কে থাকেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566266429802.jpg

অভিযোগ আছে, ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় হলেও বালু ও পাথর সরাতে আজ পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল, জামাল, সুমন জানান, সুনামগঞ্জ জেলা সীমান্তে পাহাড়ি ছড়া দিয়ে ভারত থেকে কয়লা, চুনা পাথর, গরু আনে চোরাকারবারিরা। এতে রাজস্ব হারায় সরকার। তবে মাঝে মাঝে বিএসএফএ’র হাতে আটক হয় অনেকে। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের আতঙ্কে বাস করতে হয়।

তাহিরপুর সীমান্ত এলাকার চাঁনপুর, লাকমার কৃষকরা জানান, আগে ছোট-বড় হাওরের ফসলি জমিতে প্রতি কিয়ারে ১৮-১৯ মণ ধান পাওয়া যেত। কিন্তু ছড়ায় বয়ে আসা বালি, মাটি, পাথরে এসব জমি এখন চাষের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশবিদদের দাবি, প্রাথমিকভাবে এসব পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা পানির সাথে পাথর ও বালি আগ্রাসন বন্ধ করা বেশ কঠিন। তবে এসব পাহাড়ি ছড়ার সাথে মাঝারি আকৃতির নালা তৈরি করে নদীর সাথে প্রবাহিত করা গেলে ক্ষতি কম হবে।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুস পুরকাস্থ টিটু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আগ্রাসী পাহাড়ি ঢলে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ফসলি জমিসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। এসব পাহাড়ি ঢল ফেরানো যাবে না। তবে এ বিষয়ে বিশেষ গবেষণা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566266445386.jpg

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘ভারতীয় মেঘালয় পাহাড় থেকে ছড়ার মাধ্যমে বালি ও পাথর তাহিরপুর সীমান্তে আসছে। এতে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে একটি সমাধান বের করা প্রয়োজন।’

বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২৮ এর অধিনায়ক মো. মাকসুদুল আলম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমরা শিগগিরই জেলা প্রশাসকসহ সীমান্তে বালু ও পাথর আগ্রাসন সরজমিনে পরিদর্শন করবো। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুনামগঞ্জের রুটিন দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র